চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের (চবি) গঠনতন্ত্র সংস্কারের পাশাপাশি নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের অব্যাহতি চেয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে চবি শাখা ছাত্রদল। তবে, নির্বাচনের কোনো কার্যক্রমে না থেকেও অব্যাহতির বিষয়টি মানহানির পর্যায়ে দাবি করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক অধ্যাপক ড.মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
সোমবার (২৫ আগস্ট) উপাচার্য বরাবর চাকসুর গঠনতন্ত্র পুনরায় সংস্কার করার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেন ছাত্রদলের নেতারা।
স্মারকলিপিতে তারা বলেন, দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত প্রশাসন কালক্ষেপণ করে চাকসুর তফসিল ঘোষণা করতে পারেনি, যা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি প্রকাশিত চাকসুর গঠনতন্ত্রে কিছু অসঙ্গতি, অস্পষ্টতা, এমফিল-পিএইচডির সংযুক্তি এবং নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক ধারা অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করে একতরফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের অধিকার ও গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, একটি কার্যকর চাকসু গঠনের স্বার্থে সব অংশীজন ও শিক্ষার্থীদের মতামত অনুযায়ি নির্বাচনের প্রার্থিতার ক্ষেত্রে কেবল স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদেরই রাখতে হবে। বয়সসীমা ৩০ বছর প্রত্যাহার করে এমফিল-পিএইচডি শিক্ষার্থীদের প্রার্থিতার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। অবিলম্বে দপ্তর সম্পাদক ও সহ-দপ্তর সম্পাদক পদ নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।
স্মারকলিপিতে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ নিয়ে ছাত্রদল জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের কর্মকাণ্ডে দলীয় পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। বর্তমান চবি প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রক্টর মহোদয় একটি ছাত্র সংগঠনকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে অন্যদের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন। ছাত্র প্রতিনিধির নামে নিজের আশীর্বাদপুষ্ট ছাত্র সংগঠনের নেতাদের বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব দিয়েছেন। তাছাড়া নানা সময়ে তিনি ওই ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্রের মতো আচরণ করেছেন। গত কয়েক মাসে তিনি তার পছন্দের ছাত্র সংগঠনের হয়ে নানা স্থানে ক্যাম্পেইন চালিয়েছেন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারও তার কর্মকাণ্ডে দলীয় পক্ষপাতমূলক আচরণ ফুটিয়ে তুলেছেন। প্রক্টর মহোদয়ের নারী বিদ্বেষী মনোভাব, বিতর্কিত ভূমিকা এবং প্রকাশ্য দলবাজি একটি সুষ্ঠু চাকসু নির্বাচনের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই চবি ছাত্রদল মনে করে, শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনার স্বার্থে এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ চাকসু নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে নির্বাচনী কার্যক্রমের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন।
এসব বিষয়গুলো বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।
তাদের প্রত্যাশা - একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য চাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং গঠনতন্ত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ যথাযথভাবে প্রতিফলিত হবে।
এদিকে এ ঘটনায় রেজিস্ট্রারকে জড়িয়ে অপপ্রচার করে মানহানি করা হয়েছে বলে দাবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলামের।
তিনি বলেন, ‘সংগঠনটির চাকসু সম্পর্কে সামান্য ধারণা থাকলে এমন বক্তব্য দিতো না। চাকসু ছাত্রদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিন্তু এটা সম্পর্কে তারা ধারণা রাখে না। ছাত্রদল কাল্পনিকভাবে একটা স্ট্যাটমেন্ট দিয়েছে যেটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একজন মানুষ যদি কমিটিতে থাকে তাহলে তার অব্যাহতির প্রশ্ন ওঠতে পারে। আমি যেখানে কমিটিতেই নেই সেখানে অব্যাহতির বিষয় কিভাবে আসবে?’
তিনি আরও বলেন, ‘উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্য আমাকে বারবার বলেছেন চাকসু নির্বাচন কমিটিতে কাজ করতে কিন্তু আমি রাজি হইনি। কেননা রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চাকসু নিয়ে কাজ করা আমার পক্ষে সম্ভব না। তারা যেটা করেছে এতে আমার মানহানি হয়েছে। তারা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে। আমি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেব।’
১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথম চাকসু নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালে। প্রতি শিক্ষাবর্ষে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ছয় বার নির্বাচনের আয়োজন করতে পেরেছে প্রশাসন। সবশেষ নির্বাচন হয় ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি।
নাঈম আল আরাফ/অমিয়/




