জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন বর্জনের পরও হল সংসদে ছাত্রদলের বিজয়ী প্রার্থীদের অনেকেই আনুষ্ঠানিক শপথ নিয়েছেন। যদিও শপথগ্রহণ না করার নির্দেশনা দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাকসু ও হল সংসদে নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের দিন বিকেলে ছাত্রদল জাকসু নির্বাচন বর্জন করে। জাকসুতে তারা কোনো পদে জয়ী না হলেও বিভিন্ন হল সংসদে ছাত্রদলের প্যানেল ও তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিদ্রোহী প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, হল সংসদে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ৩৫ জন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
নির্বাচিতদের মধ্যে অনেকে শপথ নিলেও, সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে অনেকেই শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। তবে ছাত্রদলের প্যানেল থেকেও কেউ কেউ শপথ নিয়েছেন।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর জানান, শপথ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত কেবল প্যানেল থেকে নির্বাচিতদের জন্য প্রযোজ্য।
ছাত্রদলের প্যানেল থেকে নির্বাচিত শপথ গ্রহণকারীদের একজন শহিদ সালাম বরকত হল সংসদের এজিএস পদে নির্বাচিত আবরার আজিম ভূঞাঁ তাইফ।
তিনি বলেন, ‘আমি যেহেতু শিক্ষার্থীদের ভোটে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি, তাই তাদের ম্যান্ডেটের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই শপথ নিয়েছি।’
অন্যদিকে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে বিজয়ী সামিন ইয়াসার লাবিব জানান, “কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগে আমরা নির্বাচন বর্জন করেছি। তাই শপথে যাইনি। তবে ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে সংগঠন থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।”
এ বিষয়ে আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর বলেন, ‘আমরা যেহেতু নির্বাচন বর্জন করেছি, তাই আপাতত আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। তবে কয়েকদিন পর নির্বাচিতরা তাদের স্ব স্ব পদে দায়িত্ব গ্রহণ করবে।’
তবে সংগঠনের সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে যারা শপথ নিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
আমানউল্লাহ/রিফাত/