জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে জবি শাখা, বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির, ইউনাইটেড বাংলাদেশ পিপলস (আপ বাংলাদেশ) ও ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান প্যানেল।
বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনটি দাবি জানান সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় ছাত্রশিবির সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি নির্বাচন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেছে, যারা নির্বাচনকেন্দ্রিক সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তখন ২৭ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা দেয়। তবে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় একটি পক্ষ নির্বাচন পেছানোর জন্য জোরাজোরি করে। তাদের মন রক্ষার্থে নির্বাচন কমিশন ২৬ দিন পিছিয়ে ২২ ডিসেম্বর নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া হয়। আগেও ডাকসু, রাকসু ও চাকসু বানচালের জন্য এই গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করেছিল।
তিনি আরও বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা মাথায় রেখে আমরা ২২ ডিসেম্বর নির্বাচন মেনে নিচ্ছি। তবে আমরা আশা করব, নির্বাচন কমিশন তাদের এই পক্ষপাতমূলক আচরণ পরিহার করবে এবং সব সংগঠনকে সমান সুযোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে।
লিখিত সংবাদ সম্মেলনে আপ বাংলাদেশের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগঠক মাসুদ রানা বলেন, নির্বাচন কমিশন যে তফসিল ঘোষণা করেছে, তা আমাদের প্রত্যাশার সম্পূর্ণ বিপরীত। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, খুব কম সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা। কিন্তু কমিশনের ঘোষিত তফসিলে দেখা যাচ্ছে, নির্বাচন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পেছানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি, এটি শিক্ষার্থীদের গণ আকাঙ্ক্ষার প্রতি উপেক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আগের প্রতিশ্রুতির পরিপন্থি। ক্যাম্পাসে এখন এমনিতেই এক ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
তিনি বলেন, ঘোষিত তফসিল পুনর্বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
বিকেল চারটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে ছাত্র অধিকার ও ছাত্র শক্তি আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জবিয়ান প্যানেল বলে, তফসিল ঘোষণাকে আমরা নিন্দা জানাচ্ছি। স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে এ তফসিল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দাবি, ২২ তারিখের পরিবর্তে নির্বাচন ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দিতে হবে।
এ সময় তারা তিনটি দাবি জানান, ২২ ডিসেম্বরের ঘোষিত তারিখ বাতিল করে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে (সোম/মঙ্গল) নতুন তারিখ ঘোষণা করতে হবে। সব ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে এবং কমিশনের সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ না থাকার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
মুজাহিদ বিল্লাহ/নাঈম