প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের প্রতিবাদে গানে গানে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ভাস্কর্যের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০২৫’-এর গেজেট গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত হয়। এতে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা পদে শিক্ষক নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব স্বাক্ষরিত সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে পদ দুটি বাদ দেওয়া হয়। এরই প্রতিবাদে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শুরু হয় আন্দোলন।
এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত ৬ নভেম্বর সকাল ১১টায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীরা একযোগে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে সংগীত বিভাগের নবীন-প্রবীণ ও সাবেক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন ও সরকার পরিচালনাবিদ্যা বিভাগের ১৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী হৃদয় সূত্রধর বলেন, ‘সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে আমি আমার বিভাগের পক্ষ থেকে একাত্মতা ঘোষণা করছি। সংগীত মেধা ও মনন বিকাশে অপরিহার্য। সংগীত আমাদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ করে। যার অন্তরে সংগীত আছে, সে কখনো অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে পারে না। সরকারকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
সংগীত বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী শান্ত বর্মণ বলেন,‘সংগীত শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে তা বাতিল করা মানে সংগীত বিভাগের সঙ্গে তামাশা করা। আমাদের বিষয়ভিত্তিক চাকরির সুযোগ খুবই সীমিত। আমরা এই অবিচার মেনে নেব না। গান শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ঘটায়। কয়েকজন মানুষের আপত্তিতে একটি বৃহৎ অংশকে বঞ্চিত করা কাম্য নয়। সংগীত কখনো ধর্মবিরোধী নয়- আমরা গজল, মুর্শিদি, মারফতি ও মাইজভাণ্ডারী গানও শিখি, যা ধর্মীয় ভাবধারারই অংশ। আমরা চাই, পুনরায় প্রজ্ঞাপন জারি করে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক নিয়োগের বিধান ফিরিয়ে আনা হোক।’
রাফি/রিফাত/




