চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে রাতের আঁধারে বন্য শূকর শিকারের চেষ্টা করেছে শিকারীরা।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাওল হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বাঁশের সঙ্গে তীক্ষ্ণ লোহার রড বেঁধে শিকারিরা বন্য শূকরকে আঘাত করে হত্যাচেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিরাপত্তা প্রহরী শ্যামল বড়ুয়া জানান, তিনি রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে আলাওল হলের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে এসে হলের বিপরীত পাশে পাহাড়ের কলাবাগান এলাকায় হইচই শব্দ লক্ষ্য করেন। সেখানে গিয়ে শিকারিদের খোঁজার চেষ্টা করলেও কাউকে দেখতে পাননি। পরে তিনি দেখতে পান, বন্য শূকরের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপারভাইজারকে অবহিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের সুপারভাইজার রেজাউল করিম বলেন, ‘খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁশের মাথায় ধনুকের মতো করে বাঁধা ধারালো লোহার রড দেখতে পান। এমন অস্ত্র দিয়েই শূকরটিকে আঘাত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে জানানো হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী শূকরটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।’
শূকরটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া সমাজতত্ত্ব বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী জনি রায় বলেন, ‘ঘটনাস্থলে এসে তিনি দেখেন শূকরটির শরীর থেকে অনেকক্ষণ ধরে রক্তক্ষরণ হয়েছে। তারা প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে শূকরটি বাঁচবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে পশু-প্রাণীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা বা সুরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় তারা কার্যকর সহায়তা দিতে পারছেন না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পশু-প্রাণীর বৈচিত্র্য অনেক বেশি হওয়ায় এসব প্রাণীর জন্য আলাদা শেল্টার হাউস ও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী জানান, তিনি ইতোমধ্যে ঘটনাটি জেনেছেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে টহল দল পাঠিয়েছেন। কারা এই শিকারের চেষ্টা করেছে, তা শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় খোঁজ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় একটি পাহাড়ি পরিবেশে অবস্থিত। এ কারণে ক্যাম্পাসে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বন্য প্রাণীর আনাগোনা দেখা যায়। সন্ধ্যার পর প্রায়ই বন্য শূকরের দল দেখা যায়, যারা মানুষ বা আলো দেখলেই দ্রুত পাহাড়ি জঙ্গল কিংবা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যায়। মূলত খাবারের সন্ধানে পাহাড় থেকে নেমে এসে তারা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ময়লার ভাগাড়গুলোতে ঘোরাফেরা করে। এমন পরিবেশে বন্য প্রাণীদের সুরক্ষা ও মানবিক সহাবস্থানের বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আল আরাফ/নাঈম




