চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শাখা ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীরা শাকসু নির্বাচন বন্ধের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
মানববন্ধন চলাকালে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এর মধ্যে ছিল ‘মব করে শাকসু বন্ধ করা যাবে না’, ‘অবিলম্বে শাকসু দিতে হবে’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘হারার ভয়ে খেলে না, সেই কথা তো বলে না’, ‘দালালী না শাকসু, শাকসু শাকসু’, ‘টালবাহানা করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান শাকসু ব্যান’, ‘তোমার আমার অধিকার, শাকসু শাকসু’ ও ‘লন্ডন না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক এবং শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়া বলেন, ‘৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসের দাবি ছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচন। ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসু ও জকসু নির্বাচন হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে। নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে শাকসু নির্বাচন পেছানো হচ্ছে। একটি দল তাদের সর্বোচ্চ নির্লজ্জতার পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।’
শিবিরের সোহরাওয়ার্দী হল শাখার সভাপতি আবরার ফারাবী বলেন, ‘১৯৯১ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে সব ছাত্র সংসদ স্থগিত করে দিয়েছিল। বিগত ৩৫ বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদ বন্ধ থাকার জন্য বিএনপি সরকার দায়ী। ৫ আগস্টের পর তারা ক্ষমতায় আসার আগেই আবার শাকসু নির্বাচন বন্ধের পাঁয়তারা করছে। বাংলাদেশের সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তারা কলকাঠি নেড়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তারা ব্যর্থ হয়েছে। তারা নতুন করে শাকসু নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমরা বলতে চাই, আমরা নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেব না।’
চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম ৫ আগস্টের পর সবাই সুন্দর রাজনীতিতে ফিরবে। কিন্তু ছাত্রদল সেই পুরোনো টেন্ডারবাজি ও হামলা-মামলার পথেই হাঁটছে। ডাকসুসহ চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তারা হেরেছে, এখন শাকসুতেও পরাজয় নিশ্চিত জেনে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত করছে।’
চাকসুর জিএস ও শাখা ছাত্রশিবিরের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক সাইদ বিন হাবিব বলেন, ‘পাঁচটি ছাত্র সংসদে যেমন শিক্ষার্থীরা আপনাদের চায়নি, শাকসু নির্বাচনেও শিক্ষার্থীরা আপনাদের লাল কার্ড দেখিয়ে বিদায় করবে। তারা স্লোগান দেয় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, তবে প্রকৃতপক্ষে তারা বাংলাদেশের পক্ষে নয়। বাংলাদেশে রাজনীতি করতে চাইলে সুপথে ফিরে এসে রাজনীতি করুন। রাজনীতি যদি করতেই হয়, তাহলে বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের জন্য রাজনীতি করুন। অবিলম্বে শাকসু নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে চাকসুর ভিপি ও চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইব্রাহিম রনি বলেন, ‘১৯৯০ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর তারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। পাঁচ তারিখের পর তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল টেন্ডারবাজি, যার কারণে তারা ধারাবাহিকভাবে সব ছাত্র সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। আপনারা মবতন্ত্র কায়েম করতে চাইলে আপনাদের অবস্থাও শেখের বেটীর মতোই হবে।’
কর্মসূচি শেষে নেতারা অবিলম্বে শাকসু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আরাফ/রিফাত/




