বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানের সাবেক (এক্স/টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঝাড়ু হাতে মিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট (স্মরণ চত্বর) থেকে শুরু করে কাটা পাহাড় সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহিদ মিনারে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শেষ হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। এসব স্লোগানে নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয় এবং জামায়াত নেতার বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলা হয়। একই সঙ্গে ধর্মের নামে নারীবিদ্বেষী রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথাও জানানো হয় বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এ ধরনের বক্তব্যকে ‘হ্যাক’ বলে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তারা বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে আবার ফিরিয়ে আনার দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয়। বক্তারা প্রশ্ন তোলেন, ধর্মকে ব্যবহার করে নারীদের অবমাননা করার রাজনীতি রাষ্ট্র কীভাবে সহ্য করে এবং এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই কি না।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কর্মজীবী নারী ও মায়েরা দেশের অর্থনীতি ও সমাজ সচল রাখছেন। সেখানে তাদের নিয়ে কটূক্তি করা শুধু নিন্দনীয় নয়, অমানবিকও। তিনি বলেন, ইসলামে নারীর সর্বোচ্চ সম্মানের কথা বলা হয়েছে, অথচ সেই ধর্মের নাম ব্যবহার করেই নারীদের অপমান করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী।
স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রুতি রাজ চৌধুরী বলেন, ৫ আগস্টের পর যে দেশের স্বপ্ন মানুষ দেখেছিল, এই ধরনের বক্তব্যে সেই স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী নিজেদের পরিচয়ের সঙ্গে ইসলাম যুক্ত করলেও বাস্তবে তারা নারীবিদ্বেষ ছড়াচ্ছে এবং কোনো দায় নিচ্ছে না। তাদের এই রাজনীতির প্রকৃত চেহারা জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
বিক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীরা নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং বলেন, বাংলাদেশে এমন রাজনীতি টিকতে দেওয়া হবে না।
আল আরাফ/রিফাত/




