মো. তানভীর হোসাইন। নেত্রকোনার মদন উপজেলার এক তরুণ, যার চোখে পৃথিবী ধরা দেয় আলো-ছায়ার গল্পে। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহে বসবাস করছেন এবং আনন্দ মোহন কলেজে সমাজকর্ম বিষয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। দাদু, বাবা ও মাকে নিয়ে তার ছোট পরিবার। পরিবারের কেউ পেশাদারভাবে ছবি না তুললেও শৈশবে বাবার ক্যামেরাপ্রীতির স্মৃতি তানভীরের ভেতরে অজান্তেই বীজ বুনে দিয়েছিল আলোকচিত্রের।
তানভীরের ফটোগ্রাফির শুরুটা খুব সাধারণ। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় একটি মোবাইল ফোন হাতে পাওয়ার পর থেকেই ছবি তোলার প্রতি আগ্রহ জন্মায়। সেই আগ্রহ টিকে থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তার বন্ধু হামিমের। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আজও যে বন্ধুত্ব অটুট, সেই হামিমই ছিলেন তানভীরের প্রথম ‘ফটোসঙ্গী’। দুজনে একসঙ্গে ছবি তুলতেন, শিখতেন, ভুল করতেন। তবে এই পথে চলা সহজ ছিল না। অনেকেই সময় নষ্ট করার অভিযোগ তুলেছে, কেউ কেউ ‘আবোল-তাবোল ছবি’ বলেও ছোট করেছে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো নেতিবাচক মন্তব্যই তাকে থামাতে পারেনি।
ছবি তোলার আগে তানভীর ছবি আঁকা ও কবিতা লেখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ক্যামেরা হাতে নেওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন— ছবিই তার মনের ভাষা। তার কাছে ফটোগ্রাফি মানে শুধু দৃশ্যধারণ নয়; এটি নীরব অথচ শক্তিশালী বার্তা বহনের মাধ্যম। তাই আজও ছবি তোলা তার কাছে শখের জায়গায় থাকলেও ভবিষ্যতে তিনি নিজেকে ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফিতে দেখতে চান। বর্তমানে তানভীরের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু স্ট্রিট ও ডেইলি লাইফ ফটোগ্রাফি। মানুষের যাপিত জীবনের ছোট ছোট মুহূর্ত, অব্যক্ত অনুভূতি, ক্লান্তি কিংবা সংগ্রাম— এসবই তার ফ্রেমে ধরা পড়ে। পাশাপাশি ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফিতেও তার আলাদা ভালোবাসা রয়েছে।


