জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়ে ৪১২ কেজি বড় আকারের মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস পলিসি নেক্সাস (সিপিএন)।
বৃহস্পতিবার (১৪মে) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সামনে আনন্দ দিঘিতে আয়োজিত মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারের মূল দর্শন হলো দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে চাষযোগ্য এক ইঞ্চি জমিও খালি রাখা যাবে না এবং কৃষি ও মৎস্য সম্পদের সর্বোচ্চ উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৮০ একরের বিশাল জলাশয় মৎস্য সম্পদের বড় সম্ভাবনা নিয়ে রয়েছে, যা ইতিপূর্বে যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়নি।
এই প্রথম সরকারের পক্ষ থেকে ৪১২ কেজি মাছের পোনা উপহার হিসেবে অবমুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টার অংশ।
সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জলাশয়ে মাছ অবমুক্তকরণ এবং পরিযায়ী পাখির মধ্যে কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থা নেই। এটি একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম, যেখানে পশু-পাখি ও মাছ স্বাভাবিকভাবে সহাবস্থান করতে পারে।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে মৎস্য সম্পদের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং শিক্ষার্থীদের আমিষের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে উপাচার্য আশা প্রকাশ করেন যে, এই উদ্যোগ সফল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিপিএনের সংগঠক মেহেদী মামুনসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আমানউল্লাহ/আমান




