ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু, আহত ৩ নিয়মের তোয়াক্কা নেই, সড়কে বেপরোয়া ডিএসসিসির ডাম্পট্রাক চার দিনের সফরে বেইজিং গেছেন তথ্যমন্ত্রী কক্সবাজারে মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ছৈয়দুল হক আটক ডিক্যাব ও বাংলাদেশ চীন আপন মিডিয়া ক্লাবের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই শরীয়তপুরে মব করে প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা এনসিটিবিসহ চার শিক্ষা বোর্ডে নতুন নেতৃত্ব স্বপ্নে গান শোনা আসলে কীসের ইঙ্গিত? ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে ছিনতাই, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জেট ফুয়েলের দাম লিটারে কমল ১৫ টাকা চমেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালক-এনসিপি কর্মীদের মারামারি গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লাখ গাছ চসিকের সড়ক ও ফুটপাত থেকে দেড় শতাধিক ভাসমান দোকান উচ্ছেদ মনপুরায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান লেখা নিয়ে উত্তেজনা জ্বালানির মজুদ সম্প্রসারণ, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণসহ ১২ দফা সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ঢামেক ও চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ৬ দফা দাবি ভোলায় মিতু হত্যাকাণ্ডে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক, ওসিকে তলব বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল কুমিল্লায়  ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ৪৫ জন আটক; ৫ বাস-মাইক্রো জব্দ গোয়েন্দারা কেন প্রকাশ্যে আসছেন? শিশুদের নাটক ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ মেট্রো স্টেশনগুলোর নিচে দুরবস্থা জন্মদিনে এল লাকী আখান্দের অপ্রকাশিত গান নূরজাহান ট্র্যাজেডির সমাজতাত্ত্বিক পাঠ কিয়ামতের ময়দানে রাসুল (সা.)-এর পাশে থাকার উপায় সরকারের প্রথম ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবি যশোর জেলার দর্শনীয় ও ভ্রমণযোগ্য স্থান সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিসিবির পরিচালক তামিম ইকবাল রামুতে ছেলের গুলিতে বাবার মৃত্যু পঞ্চগড়ে পুকুরে ডুবে দুই মাদরাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু
Nagad desktop

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ২য় এডুকেশন এক্সপো অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম
বাংলাদেশ-পাকিস্তান ২য় এডুকেশন এক্সপো অনুষ্ঠিত
ছবি: খবরের কাগজ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও শিক্ষাখাতের সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান ২য় এডুকেশন এক্সপো-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পাকিস্তানের ২২টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে।

রবিবার (১৭ মে) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন-১ এর ৪র্থ তলার সভাকক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের ২২টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন, পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষার প্রকল্প পরিচালক জাহানজেব খান।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আমরা একটি সমৃদ্ধ একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। সাম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী। আমরা বিশ্বাস করি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও একাডেমিক কার্যক্রমে বৈশ্বিক সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, গত বছরে বাংলাদেশের ৭৪ জন শিক্ষার্থীকে আমাদের দেশে স্কলারশিপ কর্মসূচির আওতায় স্বাগত জানাতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গেও আমার আলোচনা হয়েছে এবং তিনি উদ্যোগটির প্রশংসা করেছেন । আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, এই শিক্ষা বিনিময় (এডুকেশন এক্সচেঞ্জ) কর্মসূচির আয়োজক হতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। আপনারা যারা এখানে এসেছেন, তাদের আমরা আমাদের পরিবারের সদস্য হিসেবেই মনে করি। আমাদের দেশ থেকে ইতিমধ্যেই ৭৪ জন শিক্ষার্থী আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তি হয়েছে জেনে অত্যন্ত আনন্দিত হলাম। আপনাদের এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আশা করি, চলতি বছরে এই বৃত্তির পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন, এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের চমৎকার প্রাতিষ্ঠানিক কোলাবরেশন বা যৌথ সহযোগিতা রয়েছে। আমাদের অনুষদের শিক্ষক ও গবেষকরা আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময় কার্যক্রমে অংশ নিতে অত্যন্ত আগ্রহী। আমাদের এখানে অত্যন্ত উচ্চমানের গবেষক রয়েছেন, যার ফলশ্রুতিতে গত বছরই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে আমাদের গবেষকদের ৫৫০টি গবেষণা প্রবন্ধ (আর্টিকেল) প্রকাশিত হয়েছে।

মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন শাবিপ্রবি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধান এবং দপ্তরপ্রধানগণ।

মতবিনিময় সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ সোশ্যাল সায়েন্সেস বিল্ডিং-এর ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর’ আয়োজিত ‘এডুকেশন এক্সপো’ শীর্ষক শিক্ষা মেলার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।

দিনব্যাপী এই এক্সপোতে অংশগ্রহণকারী ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম, প্রোগ্রাম, বৃত্তির সুযোগ এবং গবেষণা সম্পর্কে স্টলের মাধ্যমে উপস্থাপনা করে।

শাবিপ্রবি প্রতিনিধি/এসএন

নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৪:৫১ পিএম
নবাব সলিমুল্লাহর জন্মবার্ষিকী উদযাপন
ছবি: খবরের কাগজ

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রতিষ্ঠার স্বপ্নদ্রষ্টা নবাব স্যার সলিমুল্লাহর ১৫৫ তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

রবিবার (৭ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালামের নেতৃত্বে হলের আবাসিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ বেগম বাজারস্থ নবাব স্যার সলিমুল্লাহ’র সমাধিতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। পরে তার কবর জিয়ারত করা হয়। এ উপলক্ষ্যে আজ আসরের পর সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে কবর জিয়ারত ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। জোহরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়ায় নবাব সলিমুল্লাহ’র অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় ও তার কবর সংরক্ষণ এবং সংস্কারের দাবি তোলা হয়।

ডাকসু নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষা বিস্তার, মুসলিম সমাজের উন্নয়ন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নবাব সলিমুল্লাহ’র ঐতিহাসিক ভূমিকা জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও শিক্ষা-অনুরাগ এ দেশের ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে।

কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা ও কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনির।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, ঢাকার নবাব ও মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা নবাব স্যার সলিমুল্লাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় অনন্য অবদান রাখেন। স্যার সলিমুল্লাহর উল্লেখযোগ্য অবদানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে জনমত গঠন করেন। ১৯২০ সালে দ্য ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট পাশ হওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।

আরিফ জাওয়াদ/এসএন

দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব
রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাবের সদস্যরা।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সফল ক্যারিয়ার গঠনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস জরুরি। এই লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট রসায়ন বিভাগের চার শিক্ষার্থী ও প্রজ্ঞাবান শিক্ষকদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব’ (আরসিসিসি)। 
একটি দক্ষ নির্বাহী কমিটি ও একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে বছরের শুরুতেই ক্লাবটি বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে। সে অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এতে রয়েছে ‘ক্যারিয়ার জার্নি’, ‘ক্যারিয়ার রোডম্যাপ’ ও ‘ক্যারিয়ার টক’-এর মতো আয়োজন; যেখানে সিভি রাইটিং, ইন্টারভিউয়ের কৌশল, যোগাযোগ ও উপস্থাপনা দক্ষতা এবং বিসিএস ও করপোরেট চাকরির প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবকরা সরাসরি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, করপোরেট যোগাযোগ ও দল পরিচালনার মতো সফট স্কিল শেখার সুযোগ পান।
একাডেমিক ব্যস্ততার মাঝে বড় অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারণ এবং বৃহৎ পরিসরে কাজের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব ক্লাবটির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা ও দলগত প্রচেষ্টায় এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠছে তারা। ক্লাবটির দিকনির্দেশনা নিয়ে অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও সরকারি উচ্চপদে কর্মরত। মূলত শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে আরসিসিসি একটি আস্থার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

লেখিকা: শিক্ষার্থী, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী

স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০২ পিএম
স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল।

ক্লাস আর টিউশন শেষ করে সবে রুমে এসে বিছানায় শুয়েছি, অমনি বন্ধু ফাহিম এসে মাথায় এক বাড়ি দিয়ে জিজ্ঞেস করল–আজ কী বার? 
হঠাৎ মনে পড়ল, আজ শনিবার। মানে ডাইনিংয়ে স্পেশাল মিল! পোলাও, রোস্ট, বুটের ডাল, সবজি আর ফিরনির আয়োজনে রোস্টের বড় পিসটি পাওয়ার জন্য চোখে-মুখে পানি দিয়ে ডাইনিংয়ের দিকে দৌড় দেওয়া–এটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের নিত্য শনিবারের চেনা দৃশ্য।

 


বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে একজন শিক্ষার্থীর কাছে তার আবাসিক হল যেন সবচেয়ে আবেগের জায়গা এবং একটি ‘সেকেন্ড হোম’। পরিবার থেকে দূরে অচেনা শহরে একা পথচলা শুরু হলেও, ধীরে ধীরে সেই শূন্যতা ভরে ওঠে নতুন বন্ধুদের হাসিতে, করিডোরে রাত জাগা গল্পে আর এক নতুন পরিবারের উষ্ণতায়। এক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল অন্য যেকোনো হলের জন্য একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে ১৯৬৯ সালে এই হলটি স্থাপিত হয়। চার তলাবিশিষ্ট হলের আবাসিক রুমগুলো ৪টি ব্লকে বিভক্ত, যেখানে মোট ১৬৮টি রুমে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা রয়েছে। ব্লকের মাঝে তিনতলা ভবনের নিচতলায় কমন রুম, দ্বিতীয় তলায় লাইব্রেরি ও তৃতীয় তলায় নামাজঘর অবস্থিত। হলের আবাসন ব্যবস্থা এতটাই গোছানো যে, প্রথম দিন থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটি করে সিঙ্গেল বেড পেয়ে যায়।

 


হলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর সুইমিংপুল। গ্রীষ্মের ক্লান্তিকর দিন শেষে ক্লাস-পরীক্ষার সব ক্লান্তি নিমিষেই ধুয়ে যায় পুলে বন্ধুদের আড্ডায়। সাঁতার জানা বন্ধুটি যখন সাঁতার না জানা বন্ধুকে কাঁধে তুলে সাঁতার শেখায়, তখন সেই মুহূর্তগুলো বন্ধুত্বকে রূপ দেয় এক অনন্য ভ্রাতৃত্বে।
হলের আরেকটি সুপরিচিত দিক হলো এর চমৎকার ডাইনিং ব্যবস্থা। সাধারণত ডাইনিংয়ের খাবার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভ থাকলেও, এখানে পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতিতে ছাত্ররা নিজেরাই ডাইনিং পরিচালনা করে। হলের প্রতিটি আবাসিক ছাত্র মাসের কোনো না কোনো দিন খাবার পরিবেশনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকে। ফলে সবাই সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খাবারের মান ধরে রাখতে সচেষ্ট থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন মৌসুমে হল প্রশাসন ও বড় ভাইদের সহযোগিতায় আয়োজিত নানা খেলাধুলা নবীনদের সঙ্গে প্রবীণদের চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করে। সব মিলিয়ে ৪ বছরের অনার্স জীবন শেষে হল ছাড়ার সময় শিক্ষার্থীর মন কতটা কাঁদে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দুরুদুরু বুকে হলে আসা তরুণটি যখন ক্যাম্পাস ছাড়ে, তখন একবুক মধুর স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই আগামীর পথে পা বাড়ায়।

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা
সাখাওয়াত হোসেন

জীবনের শেষ লড়াইয়ে একা ছিলেন না নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন। দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্রোনস ডিজিজ ও হিস্টোপ্লাজমোসিসের সঙ্গে লড়াই করে গত ১৮ মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার এক কৃষক পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান সাখাওয়াতের স্বপ্ন ছিল জজ হওয়া। সাফল্যের সঙ্গে এলএলবি (বিভাগে পঞ্চম) ও এলএলএম শেষ করার পরপরই রোগের আলামত টের পান। তার পেটে ব্যথা শুরু হয়। স্থানীয় হাসপাতাল ঘুরে পরবর্তী সময়ে ঢাকার পিজি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শেষ দিনগুলোয় কেবল স্যালাইনের ওপর বেঁচে থাকা সাখাওয়াতের চিকিৎসার আকাশচুম্বী খরচ বহন করা কৃষিজীবী পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল।
এই সংকটে পাশে দাঁড়ান তার সহপাঠীরা। ‘হেল্প ফর সাখাওয়াত’ উদ্যোগের মাধ্যমে অফলাইন ও অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় মাত্র ১৬ দিনে ৪,৯৫,৯৬৮ টাকা সংগৃহীত হয়। সেখান থেকে চিকিৎসায় ২,৭৯,০১৫ টাকা খরচ হলেও শেষ পর্যন্ত সাখাওয়াতকে বাঁচানো যায়নি। অবশিষ্ট ২,১৬,৯৫৩ টাকা তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সহপাঠী আবু সুফিয়ান ও ইলমা সালসাবিল নাফিসার স্মৃতিচারণায় উঠে আসে সাখাওয়াতের সহজ-সরল, শান্ত ও বিনয়ী স্বভাবের কথা। বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া স্বপ্নবাজ এই ছেলেটি অসুস্থ হয়ে শেষ সময়ে ইশারায় আইসিইউ থেকে বাড়ি ফেরার আকুতি জানিয়েছিল। সাখাওয়াত আজ আর এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তার জন্য সহপাঠীদের এই অনন্য মানবিক প্রয়াস ও ভালোবাসা নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


লেখক: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী

বেরোবির বিশেষ বাসসেবায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
বেরোবির বিশেষ বাসসেবায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈদ বাস সার্ভিস

ঈদে বাড়ি ফেরার পথে টিকিটের সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া ও ভোগান্তি এড়াতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রশাসন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বাসসেবার উদ্যোগ নিয়েছিল। 
ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে পরিবহন পুলের পাঁচটি বাস ঢাকা, বগুড়া, নাটোর, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড় রুটে ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যায়। অনলাইনে আগে নিবন্ধনকারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এই সেবার আওতায় আনা হয়।
গণপরিবহনের ভোগান্তি ছাড়া নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের রিফা লুবানা রানিয়া ও ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের কাজী সিয়াম হোসাইন। রসায়ন বিভাগের বাপ্পি আহমেদসহ দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে বরিশালসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরে এই সেবা সম্প্রসারিত হোক।
পরিবহন পুলের পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সাতটির মধ্যে পাঁচটি বাস যুক্ত করা হয়েছে। 
উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী জানান, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কষ্ট কমাতে প্রশাসন সব সময় আন্তরিক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।