ঢাকা ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, রোববার, ২৬ মে ২০২৪

মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁড়তে গিয়ে মিলল গ্রেনেড সদৃশ বস্তু

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ০৭:২৮ পিএম
মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁড়তে গিয়ে মিলল গ্রেনেড সদৃশ বস্তু
কবর খুঁড়তে গিয়ে গ্রেনেড সদৃশ বস্তুটি পাওয়া গেছে। ছবি : খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে এক মুক্তিযোদ্ধার কবর খুঁড়তে গিয়ে গ্রেনেড সদৃশ একটি বস্তু পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৪ মে) বিকেলে উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের মধ্যম আজমনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটলেও জানাজানি হয়েছে আজ বুধবার (১৫ মে) সকালে। 

জানা যায়, ওই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইলিয়াছের কবর খুঁড়তে গিয়ে বস্তুটি পান গ্রামের মুরুব্বিরা। এরপর খবর দেওয়া হলে এক যুবক গিয়ে সেটি ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরে সাংবাদিকরা ওসিকে জানালে পুলিশ গিয়ে সেটি সাময়িক সময়ের জন্য বালুতে চাপা দেন।

হিঙ্গুলি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শাহ আলম খবরের কাগজকে বলেন, ‘খবর পেয়ে সেখানে যাই। আমার এক আত্মীয় বলেন, এটি মাইন। এটি বিপদ ঘটাতে পারে। পুলিশ অবগত হয়েছে। শুনেছি তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এলাকাবাসীর কেউ কেউ উৎসাহ নিয়ে দেখতে ভিড় করছেন। আমরা ধারণা করছি এটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের গ্রেনেড।’

জানতে চাইলে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন খবরের কাগজকে বলেন, ‘গতকাল এটি পাওয়া গেলেও আমাদের জানানো হয়েছে আজ সকালে। তবে এটি বিপজ্জনক হবে কি না, এটি আসলে কী সেটি আমরা বলতে পারব না। এটার জন্য স্পেশালিস্ট বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’

মনির/সালমান/

ঘূর্ণিঝড় রেমাল: পানিতে তলিয়ে গেছে শ্যামনগরের জেলেপাড়া

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:৫০ পিএম
ঘূর্ণিঝড় রেমাল: পানিতে তলিয়ে গেছে শ্যামনগরের জেলেপাড়া
ছবি : খবরের কাগজ

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে জেলেপাড়ার ১৩টি বাড়ি। 

রবিবার (২৬ মে) দুপুরে স্বাভাবিকের তুলনায় পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে কলবাড়ির জেলেপাড়া ডুবে যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী নজরুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়-সম্বল হারিয়ে কলবাড়ি চুনা নদীর চরে ওই পরিবারগুলো বহু বছর ধরে বসবাস করে আসছে। রবিবার দুপুরে স্বাভাবিক চেয়ে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে তাদের বসতবাড়ি তলিয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় প্রাণহানি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও ঝুকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নিতে কাজ চলছে।

নাজমুল শাহাদাৎ/অমিয়/

সিলেট নার্সিং কলেজ শর্ত না মানায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধা!

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:৪৪ পিএম
শর্ত না মানায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে বাধা!
সিলেট নার্সিং কলেজ হোস্টেল। ছবি : খবরের কাগজ

দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সিলেট নার্সিং কলেজের আবাসন সমস্যার কোনো সমাধান না করে উল্টো শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা আটকে দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। রবিবার (২৬ মে) বিএসসি পুরাতন প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের রিটেক পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার্থীরা কলেজে গেলে তাদের পরীক্ষা না নিয়ে সেখানে তাদের ক্লাস টিচার সুমা রানী দত্ত বলেন, ‘সিনিয়রদের চাপে অন্য শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। তারা কলেজের সব সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি আছে লিখে আবেদনপত্র দিতে হবে। যদি তারা এ ধরনের আবেদন না দেয় তাহলে তাদের রিটেইক পরীক্ষা দিতে দেওয়া হবে না এবং ফেল করিয়ে দেওয়া হবে।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ শাহিনা বেগম।

এদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষের অযৌক্তিক ও অমানবিক শর্ত না মানায় গতকাল শনিবার (২৫ মে) বিএসসি ইন নার্সিং চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল, দ্বিতীয় এবং প্রথম বর্ষের রিটেক ভাইবা পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে।

শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বারবার পরীক্ষায় ফেল দেবেন বলে ভয় দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া কলেজ কর্তৃপক্ষ হোস্টেল ত্যাগের যে নোটিশ দিয়েছেন তা বাতিলের কথা বললেও ওই নোটিশ এখনো বাতিল করা হয়নি এবং শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায় হয়নি বলে এখনো হোস্টেলে অবস্থান করছেন বলে জানান।

পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন পাবলিক হেলথ, পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং, বিএসসি নার্সিং কোর্সের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, “আজ কলেজ কর্তৃপক্ষ মিটিং করেছে। সেখানে আমাদের পক্ষ থেকে কয়েকজন ছাত্রী অংশ নেয়। সেই মিটিংয়ে আমাদের বলতে গেলে হেনস্থা করা হয়েছে। জোরপূর্বক তাদের দেওয়া বিভিন্ন শর্ত মানতে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। মিটিংয়ে হোস্টেলে থাকার সমস্যা সমাধানের কথা বললেই আমাদের ম্যাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে গিয়ে বলো, ডিজি মাকসুরা নূরকে গিয়ে বলো নতুন হোস্টেল চালু করে দিতে’।”

তারা বলেন, ‘গত ২৪ মে কলেজে লোকাল অথোরিটি এবং স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে শিক্ষকরা মিটিংয়ে বসেন। তখন আমরা হোস্টেলের সব শিক্ষার্থী এক সঙ্গে কলেজে যাই। কিন্তু কনফারেন্স রুমে মাত্র ৪ জনকে ঢুকতে দেওয়া হয়। ওখানে আবাসন সমস্যা নিয়ে কথা উঠে। বলা হয় যে কিছুদিনের মধ্যে জাইকা প্রজেক্টের দেওয়া হোস্টেল হ্যান্ডওভার নেওয়া হবে। তার আগ পর্যন্ত কলেজ যেভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ওইভাবে শিক্ষার্থীদের থাকতে হবে। ভেতরে শিক্ষার্থী যারা ছিলেন তাদের দিয়ে ২৩ তারিখের আন্দোলনের জন্য ক্ষমা চাওয়ানো হয় এবং এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয় যে তারা সেখানে বাধ্য হয়েই শিক্ষকদের কথা মেনে নেয়। ওই মিটিংয়ে বলা হয়, হোস্টেলের শিক্ষার্থীরা কলেজ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে রাজি এই মর্মে এবং ২৩ তারিখ আমরা উনাদের কাজে বাধা দিয়েছি তার জন্য ক্ষমা চেয়ে আবেদন করতে হবে। আমাদের প্রতিনিধিরা এই সিদ্ধান্ত আমাদের জানানোর পর আমরা কেউ এই আবেদন দিতে রাজি হইনি। কিন্তু কলেজ থেকে বারবার ফোন কলের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।’

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘গতকাল আমরা তাদের কাছে সম্মানসূচক ক্ষমা চেয়ে আবেদন করেছি এবং এই মর্মে দরখাস্ত দিয়েছি যে, ন্যায়সঙ্গত ও শিক্ষার্থীসুলভ সিদ্ধান্তে আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করব। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের দরখাস্ত গ্রহণ করেনি এবং বারবার ফোন কলের মাধ্যমে চাপ দেওয়া হয় যেন আমরা তাদের অযৌক্তিক দাবি মেনে নেই। আমরা তাদের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নই, তাই আর কোনো আবেদন দেইনি। তারা তাদের সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে কিন্তু আমরা এতগুলো শিক্ষার্থী যে গাদাগাদি করে থাকছি এতে তাদের টনক নড়ছে না।’ 

তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিদিন হিট স্ট্রোকে মানুষ মারা যাচ্ছে। এই গরমে রুমে ৪ জনের জায়গায় ৮ জন থাকলে আমরাও মারা যাব। এতে কলেজ কর্তৃপক্ষের হয়তো কিছু যাবে আসবে না। আমাদের অভিভাবক এই জায়গায় পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছেন। যেখানে আমাদের থাকার জায়গারই সংকট এই পরিবেশে আমরা পড়াশোনা করব কীভাবে? কলেজে কর্তৃপক্ষ নানাভাবে আমাদের চাপ দিচ্ছে। রিটেক ভাইবা পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছেন। আমাদের পরীক্ষায় ফেল করানোর ও ছাত্রত্ব বাতিলের হুমকি দিচ্ছেন তারা।’

অন্যদিকে, ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি প্রথম বর্ষের আগামী ২৯ মে ফরম ফিলাপ করার কথা। কিন্তু হোস্টেলের সমস্যা সমাধান না হওয়ায় অনেকেই বাড়িতে চলে গেছেন। ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারির বেশ কয়েকজন ছাত্রী জানান, মিডওয়াইফারি প্রথম বর্ষের ৪৪ জন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় তলার হলরুমে ২৫ জনের জায়গায় থাকছেন। এই গরমে তাদের অবস্থা খুব শোচনীয়। হোস্টেলে ওরা রুম পায়নি, আর কোনো রুমে উঠার মতো জায়গা নেই।

তারা বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবি নিয়ে গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা করে দেননি। তাই সবাই বাসায় চলে গেছি এবং জানিয়ে দিয়েছি হলরুমে থাকবে না। কলেজ কর্তৃপক্ষ যতদিন না এই সমস্যার সমাধান করবেন আমরা হোস্টেলে আসবে না।’

এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ শাহিনা বেগম খবরের কাগজকে বলেন, ‘কারও কোনো পরীক্ষা বন্ধ করা হয়নি। যাদের যে তারিখে পরীক্ষা সে তারিখেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।’ 

আজ বিএসসি পুরাতন প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের রিটেক পরীক্ষা কেন নেওয়া হয়নি এই প্রশ্নে কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পরীক্ষা আগামীকাল নেওয়া হবে।’ 

শাহিনা বেগম বলেন, ‘সার্বিক বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি। নতুন একটি বিল্ডিংয়ে ছাত্রীদের শিফট করতে হলে হেড অফিস থেকে সিদ্ধান্ত আসতে হবে। প্রজেক্টের বিল্ডিং, তাই এটি হস্তান্তরে জন্য বেশ কিছু রিপ্রেজেন্টিভ লাগে। আগামীকাল একাডেমিক শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করব। তিনি সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে যা করার করবেন।’

প্রসঙ্গত, সিলেট নার্সিং কলেজ হোস্টেলে আছেন কলেজের পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন পাবলিক হেলথ, পোস্ট বেসিক বিএসসি ইন নার্সিং, বিএসসি নার্সিং কোর্স ও ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত প্রায় পাঁচ শতাধিক ছাত্রী। হোস্টেলের এই আবাসন সমস্যা চলছে প্রায় ৫-৬ বছর ধরে। দায়িত্বশীলরা দীর্ঘদিন ধরে নতুন বিল্ডিংয়ে ছাত্রীদের দেই দিচ্ছি বলে আশার বাণী শুনিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করছেন না।

হোস্টেলের চার তলা ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় তিনটি হলরুম আছে। সেগুলোতে নার্সিংয়ের ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা থাকেন। মিডওয়াইফারি প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা দ্বিতীয় তলার হলরুমে থাকেন, তৃতীয় ও চতুর্থ তলার হলরুমে থাকেন বিএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা। ভবনের প্রথম তলায় রান্নাঘর ও খাবার ঘরের পাশাপাশি কয়েকটি থাকার কক্ষও রয়েছে।

দ্বিতীয় তৃতীয় ও চতুর্থ তলায়ও থাকার কক্ষ আছে। এই কক্ষগুলোতে এই চার প্রোগ্রামের প্রথম বর্ষ (পুরাতন), দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় বর্ষ ও চতুর্থ বর্ষের ছাত্রীরা থাকেন। প্রতিটি কক্ষে চারজন করে থাকার ধারণক্ষমতা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এসব কক্ষে ছয়জন ছাত্রী গাদাগাদি করে থাকছেন। এই ছয়জনের মধ্যে চারজন সিনিয়র, একজন পুরাতন প্রথম বর্ষের ছাত্রী বেডে থাকছেন এবং হলরুমে জায়গা না হওয়ায় সব রুমে ফ্লোরে একজন জুনিয়রকে (নতুন প্রথম বর্ষ) থাকার জন্য দেওয়া হয়েছে। এখন কলেজ কর্তৃপক্ষ চাচ্ছে, চারজনের ধারণক্ষমতার রুমে আটজন করে থাকতে। যা মানছেন না হোস্টেলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা।

সালমান/

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস, তলিয়ে গেছে সুন্দরবন

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:১৩ পিএম
ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস, তলিয়ে গেছে সুন্দরবন
ছবি: খবরের কাগজ

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সুন্দরবন উপকূলসহ মোংলায় ১০ নম্বর বিপদ সংকেত বহাল রয়েছে। এরই মধ্যে বৃষ্টিসহ দমকা বাতাস বইতে শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে জলোচ্ছ্বাসে পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে পুরো সুন্দরবন।

রবিবার (২৬ মে) দুপুরে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ও পর্যটন কেন্দ্রের ওসি আজাদ কবির এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে চার ফুট পানি বেড়ে সুন্দরবন তলিয়ে গেছে। পানির চাপ আরও বাড়বে। তবে বণ্যপ্রাণীর কোনো ক্ষয়ক্ষতির আশংকা নেই।  

আজাদ কবির আরও বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রেমালের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পুরো সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে থাকা বনরক্ষীদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।’ 

এদিকে ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে এরই মধ্যে মোংলা নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান। 

তিনি বলেন, ‘ঝুঁকি এড়াতে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে জরুরি কাজ ও রোগীদের কথা চিন্তা করে মোংলা নদীতে ফেরি চালু রাখা হয়েছে। পৌর শহরের আশ্রয়কেন্দ্রে লোকজনকে আনার জন্য ব্যাপক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।’

মোংলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হারুন অর রশিদ খবরের কাগজকে জানান, ‘রেমাল মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছে। এটি আজ সন্ধ্যা নাগাদ সুন্দরবন ও মোংলা উপকূল অতিক্রম করে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় আছড়ে পড়বে।’ 

রিফাত মাহামুদ/ইসরত চৈতী/অমিয়/

ভোলায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, উপকূলে আতঙ্ক

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৪:১২ পিএম
ভোলায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, উপকূলে আতঙ্ক
ভোলায় বিপদ সংকেত ঘোষণা করা হচ্ছে

ভোলায় সকাল থেকেই ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ১০ নম্বর বিপদ সংকেত ঘোষণার পর সবধরনের নৌযান চলাচলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে জেলার চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে। 

রবিবার (২৬ মে) সকাল থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ভোলা। বেড়েছে বাতাসের গতিবেগ। উত্তাল হয়ে উঠছে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী।

ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির উপ-পরিচালক আবদুর রশিদ জানান, দুপুরের দিকে ঝড়ের অগ্রভাগ উপকূলে আঘাত হানতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাত উপজেলায় সাতটি ও জেলা সদরে একটি কন্ট্রোল রুম খুলে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হচ্ছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৮৬৯টি আশ্রয়কেন্দ্র।

উদ্ধার কাজের জন্য সিপিপি ও রেডক্রিসেন্টর প্রায় ১৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবী প্রচারণা ও উদ্ধার কাজের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্গম চর ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানিয়েছেন, মেঘনা নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। তবে এখনও বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

এদিকে সকাল থেকে ভোলার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাোযাগ বন্ধ রয়েছে। জেলা অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সব নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছে বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ।  ঢাকা-ভোলা, ভোলা-বরিশাল রুটে লঞ্চ ও ভোলা-বরিশাল, ভোলা-লক্ষীপুর রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

ইমতিয়াজ/পপি/অমিয়/

সাতক্ষীরা উপকূলে ১২০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানতে পারে রেমাল

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৩:০৫ পিএম
সাতক্ষীরা উপকূলে ১২০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানতে পারে রেমাল
ছবি : খবরের কাগজ

অতিপ্রবল রূপ ধারণ করে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে জেলার উপকূলীয় অঞ্চলবর্তী জায়গাগুলোতে উড়ানো হচ্ছে মহাবিপদ সংকেতের পতাকা। 

রবিবার (২৬ মে) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতে ৯০-১২০ কিলোমিটার বেগে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

এদিকে, মহাবিপদ সংকেত দেখানোর পরপরই ঘূর্ণিঝড় রেমালের অগ্রভাগ ঢুকে পড়েছে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে। এর প্রভাবে সকাল থেকে উপকূলে থেমে থেমে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বইছে ঝড়ো হাওয়া। উত্তাল হয়ে উঠেছে উপকূলের খোলপেটুয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদ।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, ঘূর্ণিঝড় রেমালের অগ্রভাগ সকাল থেকে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে ঢুকেছে। বর্তমানে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ‘এ সময় উপকূলীয় নদীতে ৮-১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হতে পারে ভারী বৃষ্টি। ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় ৯০-১২০ কিলোমিটার।’

নাজমুল শাহাদাৎ/সালমান/