ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

শিমুল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এবার যশোরের ২ হত্যা মামলায় চার্জশিট

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০২:০৭ পিএম
আপডেট: ২৬ মে ২০২৪, ০২:০৮ পিএম
শিমুল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এবার যশোরের ২ হত্যা মামলায় চার্জশিট
শিমুল ভূঁইয়া

দক্ষিণ জনপদের মূর্তিমান আতঙ্ক পেশাদার কিলার হিসেবে কুখ্যাত, দেশজুড়ে আলোচিত এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি চরমপন্থি শিমুল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে এবার যশোরের পৃথক দুটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। সম্প্রতি যশোরের অভয়নগরে দুটি হত্যা মামলায় আলাদাভাবে চার্জশিট আদালতে দাখিল করে ডিবি পুলিশ। 

উপজেলার দামুখালী গ্রামের সুব্রত মণ্ডল ও দত্তগাতি গ্রামের খন্দকার রকিবুল ইসলাম হত্যা মামলায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ দুটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই শফি আহমেদ রিয়েল আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন।

শফি আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০২২ সালের ১২ মে রাত সোয়া ৮টার দিকে খন্দকার রকিবুল ইসলাম তার বান্ধবী পিয়ারী বেগম ওরফে বর্ষাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে অভয়নগর উপজেলার দত্তগাতিতে গিয়েছিলেন পায়রা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সাইফুল আলম মোল্লার কাছ থেকে কবিরাজি ওষুধ আনতে। মূলত সাইফুল আলম মোল্লা ওষুধ দেওয়ার কথা বলে ফাঁদ পেতে খন্দকার রকিবুল ইসলামকে ডেকে আনেন। পরে সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দত্তগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে তাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তার বান্ধবী পিয়ারী বেগম ওরফে বর্ষাও আহত হন। এ ঘটনায় নিহতের মা রহিমা বেগম ১৩ মে অভয়নগর থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই শফি আহমেদ রিয়েল আরও জানান, নিহত খন্দকার রকিবুল ইসলাম চরমপন্থি সংগঠনের সদস্য ছিলেন। তিনি ঘের মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতেন বলে অভিযোগ ছিল। তার জন্য প্রতিপক্ষ চরমপন্থিরা ওই এলাকায় সুবিধা করতে পারত না। এ কারণে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ফাঁদ পেতে ডেকে এনে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে প্রতিপক্ষ চরমপন্থিরা। মামলার তদন্তকালে এই হত্যার সঙ্গে শীর্ষ চরমপন্থি নেতা শিমুল ভূঁইয়াসহ ১১ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এ কারণে এক সপ্তাহ আগে শিমুলসহ তাদের অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

খন্দকার রকিবুল ইসলাম হত্যা মামলার চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর এলাকার মৃত নাসিরউদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে শীর্ষ চরমপন্থি শিমুল ভূঁইয়া, জামিরা এলাকার মৃত পীর মোহাম্মদ মোল্লার ছেলে জিয়া মোল্লা, শফিকুল শেখের ছেলে মেহেদী হাসান সবুজ, শাহজাহান মোল্লার ছেলে সোলায়মান মোল্লা, কামরুল বিশ্বাসের ছেলে রাজু, মাহতাব বিশ্বাসের ছেলে হৃদয়, দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামের জয়নাল হাওলাদারের ছেলে জায়েদ হাওলাদার ওরফে জিহাদ হাওলাদার, যশোরের অভয়নগর উপজেলার দত্তগাতি গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে জিয়াউর রহমান জিয়া, কাশেম মোল্লার ছেলে সাইফুল আলম মোল্লা, ওয়াছেক আলী মোল্লার ছেলে বুলবুল ও সরখোলা গ্রামের আনোয়ার মোল্লার ছেলে রাজিব মোল্লা।

অন্যদিকে ২০২৩ সালের ১১ জানুয়ারি সকাল ৮টার দিকে অভয়নগর উপজেলার দামুখালীতে মোটরসাইকেল আরোহী সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে হত্যা করে সুব্রত মণ্ডলকে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই অমৃত মণ্ডল ১৩ জানুয়ারি অভয়নগর থানায় মামলা করেন। এই মামলা তদন্তকালে ডিবি পুলিশের এসআই শফি আহমেদ রিয়েল চরমপন্থি নেতা শিমুল ভূঁইয়াসহ ১৫ জনের সম্পৃক্ততা পান। চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তারা সুব্রত মণ্ডলকে হত্যা করেছিলেন বলে জানা যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিমুলসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে ডিবি পুলিশ। 

সুব্রত মণ্ডল হত্যা মামলার চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলেন খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর এলাকার মৃত নাসিরউদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে শিমুল ভূঁইয়া, জামিরার শাহজাহান মোল্লার ছেলে সোলায়মান মোল্লা, দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামের জয়নাল হাওলাদারের ছেলে জায়েদ হাওলাদার ওরফে জিহাদ হাওলাদার, গোলাম মুন্সীর ছেলে ইসরাফিল মুন্সী ও আরমান মুন্সী, মৃত গাজী জাকির হোসেনের ছেলে গাজী আরাফাত হোসেন কাইফ, যশোরের অভয়নগর উপজেলার দামুখালী গ্রামের মৃত শৈলেন মণ্ডলের ছেলে শ্যামল মণ্ডল, স্বপন হালদারের ছেলে পিন্টু হালদার, চলিশিয়া গ্রামের আব্বাস মোল্লার ছেলে আমিনুর মোল্লা, সরখোলা গ্রামের ইয়াজিয়ার মোল্লা ওরফে ইয়াহিয়া মোল্লার ছেলে রাকিবুল ইসলাম রাকিব, ইয়াসিন সরদারের ছেলে শাকিল সরদার, আনোয়ার মোল্লার ছেলে রাজিব মোল্লা, উত্তর সরখোলা গ্রামের হান্নান মোল্লার ছেলে সুমন মোল্লা, বুইকারা হাসপাতাল এলাকার আনোয়ার হোসেন মোল্লার ছেলে রাব্বি হোসেন ও দত্তগাতি গ্রামের কাশেম মোল্লার ছেলে সাইফুল আলম মোল্লা।

দুর্ধর্ষ খুনি শিমুল ভূঁইয়া দক্ষিণ জনপদে একের পর এক অপরাধ করে যাচ্ছিলেন। ১৯৯১ সালে খুলনার ডুমুরিয়ায় একটি সশস্ত্র গ্রুপের নেতাকে হত্যার মাধ্যমে খুনোখুনির অপরাধ জগতে তার প্রবেশ ঘটে। পুলিশের খাতায় তার বিরুদ্ধে ৮টি খুন ও ২৫টি মামলায় সম্পৃক্ততা রয়েছে। এর মধ্যে যশোরের দুটি খুনের দায়ে দীর্ঘ সময় সাজা খেটেছেন শিমুল। কিন্তু জেলে থেকেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। এর বাইরেও যশোর-ঝিনাইদহ-খুলনায় একাধিক হত্যায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। ১৯৯৬ সালে যশোর কারা বিদ্রোহে শিমুল সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। 

খুনের বাইরেও একাধিক হত্যাচেষ্টা, চরমপন্থি পার্টি চালানোর নামে উড়ো চিঠি দিয়ে ও টিঅ্যান্ডটিতে ফোন করে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বাড়ি ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ডাকাতি, লুটসহ নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার হন দক্ষিণ জনপদের শীর্ষ চরমপন্থি নেতা শিমুল ভূঁইয়া। তাকে গ্রেপ্তারের পর নৃশংসভাবে আনারকে হত্যা এবং লাশ গুমের ভয়ংকর পরিকল্পনার কথা জেনে শিউরে উঠেছেন দেশের সাধারণ মানুষসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও।

পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, চরমপন্থি নেতা ফজল মোহাম্মদ ভূঁইয়া ওরফে মাহমুদ হাসান ওরফে শিমুল ভূঁইয়া ওরফে শিহাব ওরফে আমানুল্লাহ ১৯৭০ সালের ৪ মে খুলনার ফুলতলা উপজেলার দামোদর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এসএসসি পরীক্ষার সনদপত্রে নাম রয়েছে শিহাব মোহাম্মদ ভূঁইয়া। তার বাবা নাসিরউদ্দিন ভূঁইয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ক্লার্ক ছিলেন।

ঢলের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ২ জনের

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৩:৩৩ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৩:৩৩ পিএম
ঢলের পানিতে ডুবে প্রাণ গেল ২ জনের
ছবি : খবরের কাগজ

মৌলভীবাজারে ঢলের পানিতে ডুবে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) দুপুরে সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের শ্যামেরকোনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলো- শ্যামেরকোনা গ্রামের জমির আলীর ছেলে হৃদয় আহমদ (১৬) ও একই গ্রামের ফয়সল মিয়ার ছেলে সাদী আহমদ (৮)।

স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরে মৌলভীবাজারে ভারী বর্ষণ ও উজানের পাহাড়ি ঢল এবং নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা হয়েছে। ধলাই নদীর বাঁধ ভেঙে শ্যামেরকোনাসহ আশপাশের গ্রামের রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পানিতে নেমে সাঁতার না জানার কারণে দুজনই ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন।

চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্তার উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।’

মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দুইজনের পরিবার চাইলে প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ নিতে পারবে।

পুলক পুরকায়স্থ/সালমান/

সাতক্ষীরায় পুকুরে ডুবে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৩:২৬ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৩:২৬ পিএম
সাতক্ষীরায় পুকুরে ডুবে কলেজ ছাত্রের মৃত্যু
ছবি:খবরের কাগজ

সাতক্ষীরায় ফুফুর বাড়িতে ঈদ পালন করতে গিয়ে পুকুরে ডুবে মোস্তফা সাগর নামে এক কলেজ শিক্ষীর্থীর মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) দুপুরের দিকে সদর উপজেলার খানপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সাগর আশাশুনি উপজেলার কচুয়া গ্রামের মোর্তাজুল ইসলামের ছেলে।

নিহতের ফুফু বলেন, ‘আমার ভাইপো সখ করে এবার ঈদ করতে এসেছিল। সাগর আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টার দিকে খানপুর মাদ্রাসার পুকুরে গোসল করতে যায়। এর কিছুক্ষণ পর খবর পাই, সে পানিতে ডুবে গেছে। এরপর তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন’। 

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বিষয়টি খবরের কাগজকে নিশ্চিত করেছেন। 

জাকির/পপি/

সিলেটের নদ-নদীর পানি কিছুটা কমেছে

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৩:০০ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৩:০৪ পিএম
সিলেটের নদ-নদীর পানি কিছুটা কমেছে
ছবি: খবরের কাগজ

সিলেটে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় এবং গত ২৪ ঘন্টায় ভারতের চেরাপুঞ্জিতে কোনো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সিলেটেরে নদনদীর পানি কিছুটা কমেছে। তবে এখনো সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ছয় পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তনীয় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকাল থেকে সিলেটে বৃষ্টিপাত না হলেও আকাশ মেঘলা রয়েছে।

এদিকে সিলেটে দ্বিতীয় দফা বন্যায় মহানগর ও জেলাজুড়ে ৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৬ জন মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার মানুষ।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত) বৃষ্টিপাত হয়েছে ১১০ মিলিমিটার। 

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০ মিলিমিটার। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০ মিলিমিটার। 

সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজীব হোসাইন বলেন, ‘সিলেটে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘন্টা অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। তাই সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।’

ভারতের আবহাওয়া বিভাগের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৯টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত) ভারতের চেরাপুঞ্জিতে কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। এর আগে গত মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ভারতের  চেরাপুঞ্জিতে ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। যার ফলে সিলেটের সবকটি নদনদীর পানি দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে।

এদিকে বুধবার (১৯ জুন) দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসন জানায়, সিলেট মহানগরীর ২৩টি ওয়ার্ডসহ জেলার ১২৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১ হাজার ৫৪৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৬ জন বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে বন্যা আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার মানুষ। জেলা ও মহানগর মিলিয়ে ৬৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে ৮০টি। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ১৯ হাজার ৯৪৯ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

অপরদিকে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়াও অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশীদের উঁচু বাসা-বাড়ি। অনেকেই সড়কের পাশে ট্রাক, পিকআপে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউবা আবার আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে উঠেছেন। আশ্রয়কেন্দ্র ও অন্যান্য জায়গায় আশ্রয় নেওয়া মানুষজন খুবই দুর্বিসহ জীবনযাপন করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সিলেট কার্যালয়ের তথ্যমতে, বর্ষাকালে সুরমা নদীর কানাইঘাট এলাকার ডেঞ্জার লেভেল ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। বুধবার এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১৩ দশমিক ৭১ সেন্টিমিটার। 

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল ১৩ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবহিত হচ্ছে। 

সিলেট পয়েন্টে সুরমা নদীর ডেঞ্জার লেভেল ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১১ দশমিক ১৭ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি ছিল  ১১ দশমিক ০৫ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুশিয়ারা নদীর পানি আমলশিদ পয়েন্টে পানির ডেঞ্জার লেভেল হচ্ছে  ১৫ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১৬ দশমিক ০২ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি আছে ১৬ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবহিত হচ্ছে। 

কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানির ডেঞ্জার লেভেল ৯ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১০ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি আছে ১০ দশমিক ৪৭ সেন্টিমিটার। এই পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ১০২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবহিত হচ্ছে।

সারি নদীর সারিঘাট পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল হল ১২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি আছে ১১ দশমিক ৭১ সেন্টিমিটার। সারিগোয়াইন নদীর গোয়াইনঘাট পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল হল ১০ দশমিক ৮২ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১০ দশমিক ৮৪ সেন্টিমিটার।  বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি আছে ১০ দশমিক ৫৮ সেন্টিমিটার।

পিয়াইন (ডাউকি) নদীর জাফলং পয়েন্টে ডেঞ্জার লেভেল হল ১৩ দশমিক ০০ সেন্টিমিটার। গতকাল এই পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১১ দশমিক ১১ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি আছে  ১০ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার। ধলাই নদীর পানির কোনো বিপদসীমা নেই। গতকাল ধলাই নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে নদীর পানি ছিল ১১ দশমিক ২১ সেন্টিমিটার। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় এই পয়েন্টে পানি আছে ১১ দশমিক ০১ সেন্টিমিটার।

শাকিলা ববি/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে বিআরটির অভিযান

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০২:২০ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০২:২০ পিএম
বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে বিআরটির অভিযান
ছবি: খবরের কাগজ

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলরত যানবাহনের অতিরিক্ত গতি প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় বিআরটিএর সদর কার্যালয়ের আদালত-১০ এর ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোতাছেম বিল্লাহ এ অভিযান পরিচালনা করেন।

মহাসড়কে চলাচলরত বিভিন্ন যানবাহনে অভিযানে ৮০ থেকে ১১০ কিলোমিটার গতিতে যেসব যানবাহন চলাচল করছিল সেগুলোকে আটক করে জরিমানা করা হয়েছে। যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলচালকদের ১০ টি মামলা দিয়ে মোট ১৬ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা আদায় করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ বিআরটিএর মোটরযান শাখার পরিদর্শক লিটন কুমার দত্ত, বেঞ্চ সহকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, হাসাড়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমিনুল ইসলামসহ অন্যরা।

সাদিয়া নাহার/অমিয়/

পাথরে ঢাকা ছিল ২৭৫ বস্তা চোরাই চিনি, গ্রেপ্তার বাহক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০২:০৩ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০২:০৩ পিএম
পাথরে ঢাকা ছিল ২৭৫ বস্তা চোরাই চিনি, গ্রেপ্তার বাহক
পাথরচাপা দিয়ে এভাবেই ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল চোরাই চিনি। ইনসেটে গ্রেপ্তার চিনির বাহক রুবেল। ছবি: খবরের কাগজ

চোরাই চিনির ২৭৫টি বস্তা পাথর দিয়ে ঢাকা। দেখলে মনেই হবে না পাথরচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে বস্তাগুলো। সিলেটের শাহপারান থানা পুলিশের একটি দল চলতিপথে একটি ট্রাকটিকে ধাওয়া করে অভিনব এ পদ্ধতির চোরাই চিনির পাচার ঠেকিয়েছে।

বুধবার (১৯ জুন) রাতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার সন্ধ্যায় সিলেটের তামাবিল মহাসড়ক দিয়ে একটি ট্রাক দ্রুত যাচ্ছিল। শাহপরান থানা পুলিশের টহল দল ট্রাকটি থামানোর নির্দেশ দিলেও চালক ট্রাকটি থামায়নি। শেষে ধাওয়া করে ট্রাকটি আটক করা হয়। পরে ট্রাক তল্লাশি করে পাথরের নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় ২৭৫ বস্তা চিনি পাওয়া যায়। চিনিগুলো ভারতীয় এবং চোরাই পথে আনা।

এ সময় ট্রাকের সঙ্গে থাকা মো. রুবেল মিয়াকে (৩৫) আটক করা হয়। রুবেলের বাড়ি হবিগঞ্জের গভরাঙ্গাচর গ্রামে।

এ ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রুবেলকে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 
এর আগে গত ১৪ জুন শাহপরান থানা এলাকায় একই কায়দায় পাচারের সময় ২০০ বস্তা চোরাই চিনি জব্দ করা হয়েছিল। একইসঙ্গে ট্রাকের দুই শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে হয়। জব্দ চিনির আনুমানিক বাজার মূল্য ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

এই ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যে পাথরচাপা দিয়ে চিনি পাচারের দ্বিতীয় ঘটনা ঘটল।

বুধবারের ঘটনায় শাহপারান থানা সূত্র জানায়, ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৮৮৫০) ভেতরে কাটা পাথরের তিন ইঞ্চি স্তর দিয়ে নিচে ত্রিপল দিয়ে মোড়ানো ভারতীয় ২৭৫ বস্তা চিনি জব্দ করা হয়। চিনির বস্তায় ইংরেজিতে লেখা MANUFACTURED AT ATHANI SUGAR LIMITED, Maharashtra, India। প্রতি বস্তায় ৪৯ কেজি করে মোট ১৩ হাজার ৪৭৫ কেজি চিনি রয়েছে। বাজারদর অনুযায়ী প্রতি কেজি চিনির মূল্য ১২০ টাকা করে মোট দাম ১৬ লাখ ১৭ হাজার  টাকা।

এসএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশানার (এডিসি, মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, চোরাই চিনির বিরুদ্ধে পুলিশি অভিযান চলমান থাকায় এ রকম নানা কৌশল অবলম্বন করছে পাচারকারীরা। এ ঘটনায় আটক মো. রুবেল মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে শাহপরাণ (রহ.) থানায় মামলা করে বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সিলেট ব্যুরো/অমিয়/