ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩১, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪

ঘূর্ণিঝড় রিমাল উপকূলে আতঙ্ক, সৈকতে পর্যটকদের ভিড়

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৪, ০৫:০৫ পিএম
আপডেট: ২৬ মে ২০২৪, ০৮:০২ পিএম
উপকূলে আতঙ্ক, সৈকতে পর্যটকদের ভিড়
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের ভিড়। ছবি : খবরের কাগজ

ঘুর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে কক্সবাজারে সাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। ফলে সাগরে জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে দুই-তিন ফুট বেড়ে যাওয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করেছে জেলার বেশকিছু গ্রামে। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে উপকূলীয় বাসিন্দাদের মাঝে। তবে তেমন আতঙ্ক দেখা যায়নি সৈকতে ভিড় জমানো পর্যটক ও স্থানীয়দের মাঝে। দেখে মনে হচ্ছে, অনেকে ঘূর্ণিঝড় দেখতেই হয়তো সমুদ্রসৈকতে এসেছেন। 

রবিবার (২৬ মে) সকাল থেকে কক্সবাজার উপকূলে ঝড়ো বাতাস বইতে থাকে। দুপুরে জোয়ারের পানি বেড়ে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চলগুলো ডুবে যায়। বিশেষ করে কক্সবাজার সদরের কুতুবদিয়া পাড়া, সমিতি পাড়া, গোমাতলী, পোকখালী, মহেশখালী, কুতুবদিয়াসহ জেলার অর্ধ-শতাধিক গ্রামে জোয়ারের পানি ঢুকে গেছে। সন্ধ্যায় উপকূল এলাকায় ৫ থেকে ৬ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। 

অন্যদিকে, সেন্টমার্টিন্স দ্বীপে বাতাসের গতিবেগ বেড়েছে। দ্বীপের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। রিমালের প্রভাবে শনিবার রাতে সেন্টমার্টিনের কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকেছে। দ্বীপের বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জোয়ারের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছিল। এখনো দমকা হাওয়া ও সাগরের পানির উচ্চতা বেশি মনে হচ্ছে। দ্বীপের লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে যেতে মাইকিং করা হয়।’

সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে। সৈকতে জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত বিচকর্মী, ফায়ার সার্ভিস ও লাইফগার্ড কর্মীরা পর্যটকদের সতর্কতার বিষয়ে মাইকিং করছে। তারমধ্যেও অনেকেই সাগরে নামার চেষ্টা করছেন। 

সাগরজলে মেয়ে লুবনাকে নিয়ে নেমে পড়েছেন শরীয়তপুরের বাসিন্দা ইয়াছমিন আকতার। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমাল দেখতে সদ্য এসএসসি পাস করা মেয়েকে নিয়ে কক্সবাজার এসেছি। সাগর উত্তাল, দেখতে অনেক ভালো লাগছে। ছবি তুলছি, শামুক-ঝিনুক কুড়িয়েছি। আগে কক্সবাজার অনেক আসা হয়েছে। তবে এবার ঘূর্ণিঝড়ের সময় আসা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সময় কক্সবাজার সাগর কেমন হয় তা দেখতে পেলাম।’

শুধু ইয়াছমিন নন, একই সময় সৈকতের লাবনী পয়েন্টে এসেছেন নোয়াখালীর আব্দুর রহিম। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১৪ জন। সবাই নেমে পড়েন সাগরের নোনাজলে।

আব্দুর রহিম বলেন, ‘ঢেউ দেখে ভয় লাগছে। কিন্তু খুবই মজা পাচ্ছি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এত বড় বড় ঢেউ হতে পারে আগে জানতাম না।’

শুধু তারাই নয়, সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ভিড় করেছে কয়েক হাজার পর্যটক। তবে সকাল সাড়ে ৮ টার পর কাউকে সাগরে নামতে দিচ্ছে না লাইফ গার্ড কর্মীরা।

সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার কর্মী জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে কক্সবাজারে ৯ নম্বর মহাবিপৎসংকেত (সবশেষ তথ্য) দেখানো হয়েছে। তাই সাগর উত্তাল রয়েছে। সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে টাঙানো হয়েছে লাল পতাকা। লাল পতাকা মানেই সতর্ক করা, যাতে কেউ সমুদ্রস্নানে না নামে। আমরা কাউকে সৈকতে সমুদ্রস্নানে নামতে দিচ্ছি না।’

অন্যদিকে কক্সবাজার বিমানবন্দরে সকাল থেকে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

এ ছাড়া কক্সবাজার টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে গাছ ভেঙে পড়ায় এই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহীন ইমরান জানান, জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ উপকূল ও নিম্নাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবকরা মাইকিং করছে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কক্সবাজারে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করবে বিকেলে। এরই মধ্যে এর প্রভাব শুরু হয়েছে। জোয়ারের পানি ৮ থেকে ১২ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি সন্ধ্যা ৬টার দিকে কক্সবাজার জেলা অতিক্রম করবে।’

মুহিববুল্লাহ মুহিব/সালমান/

তিস্তার পানি বেড়ে কাউনিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৪৮ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৪৮ পিএম
তিস্তার পানি বেড়ে কাউনিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি : খবরের কাগজ

তিস্তা নদীর পানি বেড়ে কাউনিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি বাড়ায় তিস্তার নদীর ভাঙন বেড়েছে। ভাঙন-আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ।

বুধবার (১৯ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উজানের ঢলে সকাল থেকে তিস্তায় পানি বাড়তে থাকে। এতে তিস্তা ব্যারেজের ভাটিতে অবস্থিত কাউনিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি চরাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি আসায় ডালিয়া ব্যারেজের সবকটি কপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তিস্তার পানি বেড়েছে।

চর এলাকার মানুষের তথ্য মতে, পানি বেড়ে গদাই, ঢুষমারা, তালুক শাহবাজ,পূর্ব নিজপাড়ার অংশ, গোপীডাঙ্গা, আরাজি হরিশ্বর, চর প্রাননাথ, শনশনিয়া, চর হয়বত খাঁ, চর গনাই, আজমখাঁর চরের নিম্ন এলাকায় পানি উঠতে শুরু করেছে।

এ ছাড়াও আমন ধানের বীজতলা, উঠতি বাদামখেত পানিতে ডুবে গেছে। প্রায় অর্ধশতাধিক পুকুর ও মৎস্য খামারের মাছ ভেসে গেছে।

পানি বাড়তে থাকলে আরও নতুন নতুন এলাকায় বন্যা দেখা দিতে পারে।

কাউনিয়ার বালাপাড়া ইউনিয়নের ঢুষমারার চর এলাকার চাষী নজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে জানান, বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে  তিস্তার পানি বেড়েছে। তাদের এলাকার ২০০ পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। আমন ধানের বীজতলা, বাদামখেত ও বিভিন্ন সবজিখেত  পানিতে তলিয়ে গেছে।

বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আনছার আলী বলেন, তার এলাকায় পাঁচটি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি ওঠতে শুরু করেছে। নদী ভাঙনও বেড়েছে। 

কাউনিয়া উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহসান হাবীব বলেন তিস্তার পানি বেড়ে চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে পানি ঢুকছে। বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা প্রশাসন ও আমরা ত্রাণ বিভাগ বন্যা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছি।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, কাউনিয়ার তিস্তা রেল সেতু পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢল না এলে তিস্তার পানি কমতে শুরু করবে। 

কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিদুল হক বলেন, বন্যায় যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে সরকারিভাবে সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া আছে।

সাইফুর রহমান রানা/অমিয়/

নেত্রকোণার ৩ উপজেলায় বন্যা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৪৫ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১২:৪৫ পিএম
নেত্রকোণার ৩ উপজেলায় বন্যা
ছবি: খবরের কাগজ

ভারতীয় পাহাড়ি ঢল আর একটানা ভারী বৃষ্টির কারণে নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী উব্দাখালি নদী পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে কলমাকান্দা উপজেলার আটটি ইউনিয়নে অন্তত ৬৫টি গ্ৰাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত হয়েছে নেত্রকোনা সদর ও পার্শ্ববর্তী বারহাট্টা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলও। 

এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতাধিক মানুষ। গবাদিপশু নিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েছেন। কাঁচা সড়কে কাঁদা সৃষ্টি হয়ে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। পানি উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মাঠে। 

বাউসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সামছুল হক জানান, বারহাট্টা উপজেলার কংস নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি গ্ৰামের নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। বাউসী ও রায়পুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্ৰামে পানি উঠতে শুরু করেছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে রূপগঞ্জ বাজারের তাতিয়ার আশ্রয়কেন্দ্রও তলিয়ে যাবে। তবে পার্শ্ববর্তী বাউসী অর্দ্ধচন্দ্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

কলমাকান্দার ইউএনও মো. আসাদুজ্জামান জানান, পাহাড়ি ঢল আর একটানা বৃষ্টির কারণে উপজেলার অন্তত ৭/৮টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বরখাস্ত, হোগলা ও সদর ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে বেশি। তবে প্রস্তুত আছে আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা। ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে ২০/২৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের খেয়াল রাখা হচ্ছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সারোয়ার জাহান জানান, উব্দাখালি নদীর পানি বিপৎসীমার ৫১ সেমি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে হাওর অঞ্চলে খলিয়াজুরীর ধনু নদীর পানিও বাড়ছে। বাড়ছে দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী নদীর পানি।

জেলা প্রশাসক মো. শাহেদ পারভেজ জানান, জেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা, হাওর অঞ্চলে আশ্রয়কেন্দ্রে বন্যার্তদের জন্য সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। নগদ অর্থ, শুকনো খাবার, ঔষধপত্র দেওয়া হবে। স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বন্যার্তদের সহযোগিতার জন্য সকলের সহানুভূতি ও তথ্য নিশ্চিতকরণে এগিয়ে আসা উচিত।

বিজয় চন্দ্র দাস/সাদিয়া নাহার/অমিয়/

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১১:০৫ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১১:২৭ এএম
সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত
ছবি: খবরের কাগজ

সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৮ জুন) বিকেল থেকে বৃষ্টি কম হওয়ায় সুরমা নদীর পানি কমে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীপাড়ের বাড়িগুলো থেকে পানি নামতে থাকলেও বাড়ছে হাওরের পানি। এ কারণে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে হাওর এলাকায়। দুর্ভোগ-দুর্দশায় ও হতাশায় দিন কাটছে সুনামগঞ্জবাসীর।

গত তিন দিনে জেলার অন্তত ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

সুনামগঞ্জ শহরের সুরমা নদীর পাড় থেকে পানি কিছু কমলেও এখন শহরের বড়পাড়া, তেঘরিয়া, হাজিপাড়া, নতুনপাড়া, বাঁধনপাড়া, হাছন নগর, মল্লিকপুর, নবীনগর ও কালীপুর এলাকায় কোথাও কোমর থেকে হাটুসমান পানি রয়েছে।

সুনামগঞ্জ পৌরশহরের নতুনপাড়া এলাকার দোলন দাস (৪০) খবরের কাগজকে বলেন, ‘গত তিন ধরে নতুনপাড়ায় শত শত মানুষ পানিবন্দি। কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। কাজ না করতে পরায় অনেকের ঘরে খাবারও নেই। কেউ এসে দেখেও না মানুষ কতটা অসহায় হয়ে পড়েছে।’

একই এলাকার মিঠুন (৩৭) জানান, কোথাও হাটু, কোথাও কোমরসমান পানি। আতঙ্ক কাটছেই না। বৃষ্টি হচ্ছে। এতে পানি আরও বাড়বে। পানিতে থেকে মানুষ বিরক্ত হয়ে গেছে। 

সুনামগঞ্জ শহরতলী ইসলামপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন (৩৫) জানান, ‘ঈদের আগে থেকে এলাকায় পানি ঢুকেছে। চারদিন ধরে বন্যার পানির নিচে তলিয়ে আছি, কেউ দেখে না। ঘর থেকে বাইরে যাওয়া যাচ্ছে না। ঘরে খাবার নাই, ঔষধ নাই। আমাদের অসহায়ত্ব দেখার কেউ নাই। আমাদের ত্রাণ লাগবে, খাবার লাগবে। যদি পারেন খাবার দেন। আমাদের সন্তানদের খাবার প্রয়োজন।’

এদিকে এখনও সুনামগঞ্জের সঙ্গে ছাতক, তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। 

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরী জানান, ইতোমধ্যে সরকারি-বেসরকারি ৫৪১ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন বানভাসি মানুষ। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে সরকারের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রান্না করা খাবারও দেওয়া হচ্ছে। ইউনিয়নগুলোতে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, ২৪ ঘণ্টায় পানি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

দেওয়ান গিয়াস/পপি/অমিয়/

গাইবান্ধায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ১০:৫৫ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১১:৫৬ এএম
গাইবান্ধায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে
ছবি : খবরের কাগজ

থেমে থেমে বৃষ্টি ও উজানের ঢলে গাইবান্ধার সব নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এ ছাড়া জেলার ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট ও করতোয়া নদীর পানি বাড়তে থাকলেও এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) গাইবান্ধা পাউবোর নিয়ন্ত্রণকক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার পানি সুন্দরগঞ্জ উপজেলাসংলগ্ন কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ৩৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার, করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে আজ বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা পর্যন্ত এ হিসাব করা হয়েছে। তা ছাড়া জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায়  ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক মোবাইল ফোনে বলেন, উজানের ঢলে ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বেড়েছে। তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। তবে করতোয়া, ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার অনেক নিচে। পানি বাড়তে থাকলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে তিস্তার পানি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, হরিপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে ঢুকতে শুরু করেছে। হাজারো মানুষ চরাঞ্চলে পানিবন্দি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

নদীর পানি বাড়ার কারণে গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি, ঘাগোয়া, ফুলছড়ি উপজেলার এরান্ডাবাড়ি, ফজলুপুরের নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। 

বেলকা ইউনিয়নের নবাবগঞ্জ গ্রামের আমজাদ আলী বলেন, নিচু চরগুলোতে পানি ঢুকেছে। এখনো অনেক চরে পাট, বাদাম, মরিচসহ কৃষিপণ্য রয়েছে। যদিও বাদাম ও মরিচ প্রায় মাড়াই শেষ। তবে পাট রয়েছে গেছে। 

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছি।

রফিক খন্দকার/অমিয়/

পটুয়াখালীতে হলো ‘নাইওর উৎসব’

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:২৬ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ০৯:২৬ এএম
পটুয়াখালীতে হলো ‘নাইওর উৎসব’
ছবি: খবরের কাগজ

বাঙালির প্রথাগত সংস্কৃতির আলোকে পটুয়াখালীতে ‘নাইওর উৎসব’ পালিত হয়েছে। বুধবার (১৯ জুন) সকালে জেলা শিশু একাডেমি মিলনায়তনে নাইওর উৎসবের আয়োজন করে শিল্প সাহিত্য চর্চাকেন্দ্র ‘দখিনের কবিয়াল’। জেলার তিন শতাধিক কন্যা সন্তানের বাবা, মা ও তাদের মেয়ের জামাইদের নিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘নাইওর উৎসব’র উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম। এ সময় পৌর মেয়র মহিউদ্দিন আহমেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে দম্পতিদের পিঠাপুলি, জৈষ্ঠ্য মাসের আম-কাঁঠালসহ দেশীয় ফল ও বাহারি খাবারের মাধ্যমে আপ্যায়ন করা হয়। এ আয়োজন দেশের জন্য ইতিহাস হয়ে থাকবে বলে জানান আয়োজকরা।

‘নাইওর উৎসব’র আহ্বায়ক মারজিয়া আক্তার বলেন, ‘আগে জৈষ্ঠ্য মাস এলেই ভাইরা তাদের বোনদের নাইওর আনতো। আজ সেই প্রথা নানান কারণে হারিয়ে গেছে। আমরা বাঙালির সম্প্রীতি, পারিবারিক বন্ধন ও ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে পটুয়াখালীতে তৃতীয় বারের মতো নাইওর উৎসবের আয়োজন করেছি।’

আয়োজক সংগঠন ‘দখিনের কবিয়াল’র সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন মানিক বলেন, ‘দেশীয় শিল্প সংস্কৃতির সঙ্গে বাঙালির ঐতিহ্যকে নতুন করে সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমরা বিভিন্ন উৎসবে নানা কর্মসূচির আয়োজন করি। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের নাইওর উৎসব।’

জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম বলেন, ‘দখিনের কবিয়ালের নাইওর উৎসব প্রশংসার দাবিদার। জেলা প্রশাসন সব সময় সব ধরনের ভালো কাজের সঙ্গে থাকবে।’