ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: ইসরায়েলের হাতে বিকল্প কী লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প গরমে কমেছে কাজের গতি নিজেই নিজেকে গড়ছে এআই, শঙ্কা অ্যানথ্রোপিকের বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে সম্মত খরা, বন্যা ও খাদ্যসংকটের ঝুঁকিতে ভারত, চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন পুতিনকে আলোচনায় বসতে জেলেনস্কির খোলাচিঠি রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতাপার্টির’ বিক্ষোভ আজ ইসলামী ব্যাংকের কারণেই আরেকটি ৫ আগস্ট ঘটে যেতে পারে বায়ুদূষণে বদলে যাচ্ছে ভ্রূণের জিন জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধে নাকাল ঘিওর বাজার ছায়ানটে শুরু হলো দুই দিনের নজরুল উৎসব রাজধানীবাসীকে ফেরাতে সিটি বাসও গেছে ঢাকার বাইরে ৬ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ৬ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল মে মাসে মব হামলায় নিহত ৩২: এমএসএফ ‘নতুন পুরাতন মিলিয়ে ভালোই বোর্ড হবে’ শাহজালালের কার্গো শেডে আগুন শূন্যরেখায় মানবেতর জীবন শিকলবাহায় হত‍্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মরদেহ নিয়ে মহাসড়কে বিক্ষোভ অ্যালামনাই প্ল্যাটফর্ম ০২০৪ ব্যাচের বন্ধুদের ঈদ পরবর্তী পুনর্মিলনী মায়ানমারে পাচারকালে দেড় হাজার বস্তা সিমেন্ট আটক ৫২ মরুভূমিতে বিকল ট্রাক, পানির অভাবে ৪৯ জনের মৃত্যু মেধা ও ক্রীড়াবান্ধব জাতি গঠনে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী নোয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল ভক্তদের শোডাউন সরকারকে ৭ দিনের আলটিমেটাম ইনকিলাব মঞ্চের প্রথমবার এআই তৈরি করল ‘সুপার-ভ্যাকসিন’
Nagad desktop

উৎসবমুখর পরিবেশে পতেঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৪, ১০:০৭ এএম
উৎসবমুখর পরিবেশে পতেঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে গতকাল দুপুরের পর থেকে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। মোহাম্মদ হানিফ

শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীতে উৎসবমুখর পরিবেশে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। মহানগর ও দূর-দূরান্ত থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে পতেঙ্গা সৈকতে আসেন ভক্তরা। দেবী দুর্গার শেষ বিদায়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে অনেককেই শেষবারের মতো প্রতিমাকে ভক্তি শ্রদ্ধা ও প্রণাম নিবেদন করতে দেখা যায়।

রবিবার (১৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) উদ্যোগে পতেঙ্গার সমুদ্রসৈকতে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়। দুপুর আড়াইটা থেকে শুরু হয় বির্সজন, চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এ উপলক্ষে তিলধারণের ঠাঁই ছিল না পতেঙ্গাসৈকত এলাকায়। পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনীর উদ্যোগে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। 

সরেজমিনের দেখা যায়, পতেঙ্গা টানেল গোলচত্বর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রতিমার গাড়ি ছাড়া অন্যান্য যানবাহন দুপুরের পর থেকে যেতে দেওয়া হয়নি। হালিশহর আউটার রিং রোডে সর্বসাধারণের গাড়ি চলাচলে সীমাবদ্ধতা রাখা হয়। ওই সড়কের বিভিন্ন স্থানের পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়।

প্রতিমা বিসর্জন পর্ব নির্বিঘ্ন করতে সার্বিক নিরাপত্তা নেওয়া হয় উল্লেখ করে পতেঙ্গাসৈকত এলাকায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (বন্দর) ডেপুটি কমিশনার শাকিলা সুলতানা খবরের কাগজকে বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়ায় সুন্দরভাবে প্রতিমা বিসর্জন হয়েছে। 

মহানগরের পূজামণ্ডপ ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে পতেঙ্গায় বিসর্জনের জন্য আনা হয়। 
পতেঙ্গায় প্রতিমা বিসর্জন দিতে এসে নগরের পাথরঘাটা সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য জুয়েল চৌধুরী বলেন, সকাল থেকে চট্টগ্রামের মণ্ডপে মণ্ডপে চলছিল বিষাদের সুর। মা দুর্গাকে শেষবার দেখে অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় দেন ভক্তরা। আমরা এসেছি বিসর্জন দিতে।

দক্ষিণ নালাপাড়া পূজামণ্ডপের উদযাপন কমিটির সভাপতি অষিত সেন খবরে কাগজকে বলেন, চট্টগ্রামে পূজা উদযাপন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পতেঙ্গায় আমাদের প্রতিমা বিসর্জন করেছি। আমরা কল্পনাও করতে পারিনি এভাবে এত সুন্দরভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা করতে পারব। সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পারায় আমি বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। 

রবিবার বিকেলে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে শারদীয় দুর্গোৎসব-২০২৪ উপলক্ষে প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই। বিধায় সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্মচর্চা করতে পারছেন।

এ সময় চসিক প্রশাসক আরও বলেন, বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে শান্তিময় সম্প্রীতির জনপদ। এখানে প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী মানুষের ধর্মাচার পালনের অধিকার আছে। এ দেশে ধর্মীয় কোনো ভেদাভেদ নেই। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রকৃত ধার্মিক ও মানবিক মানুষের সুদৃঢ় ঐক্যে শান্তির বাংলাদেশ গড়তে  হবে। 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এই সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। বিগত বছরগুলোর ন্যায় এবারও শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন উপলক্ষে পূজামণ্ডপে পরিচ্ছন্নতা, আলোকায়ন, পানীয়জলের ব্যবস্থা এবং পূজার্থীদের নিরাপত্তাসহ পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিমা নিরঞ্জনের আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
 
চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জির সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল চন্দ্র নাথের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার লতিফুল হক কাজমি, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন,  সাবেক কাউন্সিলর ডা. মোহাম্মদ নুরুল আবসার, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম,  সহকারী প্রকৌশলী অনিক দাশগুপ্ত, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আশুতোষ দাশ।
 
এদিকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত ছাড়াও পাথরঘাটা গঙ্গাবাড়ি এলাকায় কর্ণফুলীতে, কালুরঘাট এলাকায়, কাট্টলী রানী রাসমনি ঘাটেও প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আনোয়ারার পারকি সমুদ্রসৈকতসহ চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নদী বা পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হয়েছে প্রতিমা।

লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
লতাপাতায় ঢাকা ২ কোটি টাকার সেতু, পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্প
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। লতাপাতায় ঢেকে গেছে গৌরনদীর নাঠৈ এলাকার নির্মাণাধীন সেতু। ছবি: খবরের কাগজ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাদশী ইউনিয়নের নাঠৈ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন খালের ওপর নির্মাণাধীন একটি আরসিসি সেতুর কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ের বহু আগেই প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো এটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। এদিকে কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত বিল তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে চারটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরিশালের আইবিআরপি প্রকল্পের আওতায় ২০২০-২১ অর্থবছরে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। নাঠৈ বাজার থেকে বার্থী ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সড়কের খালের ওপর ১৮ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণের জন্য ২০২১ সালের জুলাইয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বরে মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরু থেকেই প্রকল্পটিতে নানা অনিয়ম ছিল। নির্মাণকাজ চলার সময় বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থাও করা হয়নি। পুরোনো সেতু ভেঙে ফেলার পর থেকে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। তাদের দাবি, ২০২৪ সালে কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল তুলে নেয়। এর পর থেকে নির্মাণকাজ কার্যত বন্ধ রয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ২০ জন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তারা।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণ করা হলেও রেলিং, এপ্রোচ সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু কাজ এখনো বাকি রয়েছে। সেতুর পূর্বপাশ সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও পশ্চিমপাশ গিয়ে শেষ হয়েছে একটি পুকুরের ধারে। সেখানে কোনো সংযোগ সড়ক নেই। ফলে এপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করতে হলে পুকুর ভরাট ছাড়া বিকল্প নেই বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় সেতুর বিভিন্ন অংশ লতাপাতা ও ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে।

নাঠৈ গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ মতি বলেন, ‘ছোট একটি খালের জন্য এত বড় সেতুর প্রয়োজন ছিল না। সেখানে ৬ থেকে ৭ মিটারের একটি কালভার্টই যথেষ্ট ছিল। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করে বড় সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।  অথচ বিপুল অর্থ ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও মানুষ এর সুবিধা পাচ্ছে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুধু সেতুর প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করেই কাজ ফেলে রেখেছে।’ একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা সাগর শরীফ বলেন, প্রভাবশালী ঠিকাদার কাজ অসম্পূর্ণ রেখে চলে গেছেন। এতে সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. মেহেদী হাসান বাদল চূড়ান্ত বিল নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখনো বিল পাওনা রয়েছে এবং দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।’

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা প্রকৌশলী মো. অহিদুর রহমান বলেন, ‘কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কাজ না করায় কার্যাদেশ বাতিলের সুপারিশও করা হয়েছে।’ চূড়ান্ত বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদার চলতি বিল নিয়েছেন, চূড়ান্ত বিল এখনো পরিশোধ করা হয়নি।’

তবে উপজেলা প্রকৌশলীর বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশল কার্যালয়ের একটি সূত্র দাবি করেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের শুরুতেই প্রকল্পের চূড়ান্ত বিল তুলে নিয়েছে।

গরমে কমেছে কাজের গতি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১২ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৪ এএম
গরমে কমেছে কাজের গতি
ছবি: সংগৃহীত

তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ময়মনসিংহে শ্রমজীবী মানুষের কাজের গতি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রখর রোদ আর বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর ও কৃষকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মাঠে বা খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ বোধ করছেন। জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে বাইরে বের হলেও অনেকেই গরমে ক্লান্ত হয়ে ঘন ঘন বিশ্রাম নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, দুপুরের পর থেকে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে যায়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমিকদের কাজের গতি কমে গেছে। অনেকেই ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিচ্ছেন। যারা জীবিকার তাগিদে বাইরে কাজ করছেন, তাদের অবস্থা সবচেয়ে করুণ। রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তাদের অনেকেই ডাবের পানি, তালের শাঁস ও দোকান থেকে ঠাণ্ডা পানি কিনে খাচ্ছেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার সকাল ও দুপুরে বিভিন্ন এলাকায় কিছুক্ষণ ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়। এ সময় তাপমাত্রা কিছুক্ষণের জন্য কমলেও পরক্ষণেই রোদ ওঠে। এতে ধীরে ধীরে আবারও তাপমাত্রা বেড়ে জনজীবনে অস্বস্তি সৃষ্টি হয়।

শহরের গাঙ্গিনারপাড় এলাকার রিকশাচালক আব্দুল করিম বলেন, ‘রোদ এত বেশি যে, রিকশা চালাতে কষ্ট হচ্ছে। একটু পরপর পানি খেতে হয়। আগের মতো কাজও করতে পারছি না।’

নির্মাণশ্রমিক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রোদে কাজ করতে গিয়ে মাথা ঘুরে আসে। কিন্তু কাজ বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। সংসারের খরচ চালাতে বাধ্য হয়ে কাজ করতে হচ্ছে। তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকলে স্বস্তিতে কাজ করতে পারি।’

তীব্র গরমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী জানান, গরমের কারণে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট হওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। গরমে কৃষকরাও বিপাকে পড়েছেন। খেতে কাজ করতে গিয়ে প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ সময় থাকতে হচ্ছে। গরমে জমির মাটি দ্রুত শুকিয়ে যাওয়ায় সেচের খরচও বেড়েছে। স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, ‘দুপুরের দিকে মাঠে কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। তারপরও ফসল বাঁচাতে মাঠে যেতে হচ্ছে। আজ কিছুক্ষণ বৃষ্টি হওয়ার পর ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। তবে আবারও রোদ উঠায় গরম অনুভূত হচ্ছে।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন ধরনের শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া রোদে না বের হওয়া ও পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। গরমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:২৯ এএম
দিনাজপুরের: সুই-সুতো আর কি-বোর্ডে নির্যাতিত নারীদের নতুন স্বপ্ন
নারী ও শিশু সংশ্লিষ্ট পারিবারিক বিভিন্ন ঘটনার সালিশ-মিমাংসা করে দেয় পল্লীশ্রী। নারীদের আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলছে সংগঠনটি। ছবি: খবরের কাগজ

স্বপ্না ও রোকসানা, দুটিই ছদ্মনাম। তাদের জীবনের গল্প আলাদা হলেও যন্ত্রণার পথ প্রায় একই। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন, শারীরিক ও মানসিক সহিংসতা, সংসার ভেঙে যাওয়ার বেদনা ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা–সবকিছুর বিরুদ্ধে লড়াই করে তারা আজ স্বাবলম্বী হওয়ার পথে হাঁটছেন।

দিনাজপুরের সদর উপজেলার এক গ্রামের বাসিন্দা স্বপ্নার বিয়ে হয় ২০২২ সালে। বিয়ের সময় তার পরিবার ৬ লাখ টাকা যৌতুক দিলেও কিছুদিন পর আবারও টাকার দাবি করেন স্বামী। দাবি পূরণ করতে না পারায় শুরু হয় নির্যাতন। একপর্যায়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত হতে হয় তাকে। সালিশ-বৈঠক ও মামলা-মোকদ্দমা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। অবশেষে ২০২৪ সালে ছোট সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন তিনি। বর্তমানে মামলা চলমান থাকলেও স্বামী কোনো ভরণপোষণ দেন না। নিজের ও সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে এখন তিনি কম্পিউটার গ্রাফিক্সের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

একইভাবে রোকসানার সংসারও ভেঙে যায় নির্যাতনের কারণে। বিয়ের এক বছর পর কন্যাসন্তানের জন্ম হলে তাকে নানা অজুহাতে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে জানতে পারেন, তার স্বামী অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন। ২০২২ সালে তালাকের নোটিশ পাঠানো হয় তাকে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেনমোহরের টাকা পেলেও সন্তান ও নিজের ভরণপোষণ পাননি। বর্তমানে সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়ে অন্যের কাপড় সেলাই করে নিজের ও সন্তানের খরচ চালাচ্ছেন।

স্বপ্না ও রোকসানার মতো অসংখ্য নারী প্রতিদিন যৌতুক, পারিবারিক সহিংসতা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সালিশ বা মামলা হলেও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার মিলছে না। ফলে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি জীবিকা অর্জনের সক্ষমতা তৈরি করাও তাদের জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে।

মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, আইনের দুর্বল প্রয়োগ ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে নির্যাতনের প্রবণতা পুরোপুরি কমছে না।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে আসছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘পল্লীশ্রী’। সংস্থাটি ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত মোট ৮৪৭ জন নির্যাতনের শিকার নারীর পাশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৭৩৫টি অভিযোগ সালিশ ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শুধু সমস্যা সমাধানই নয়, নির্যাতিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেও কাজ করছে সংস্থাটি। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় তাদের কম্পিউটার, সেলাই, বুটিকস, ব্যাগ তৈরি, সুতা দিয়ে হস্তশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে অনেককে প্রাথমিক মূলধন সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

পল্লীশ্রীর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে ৯৭ জন নির্যাতিত নারীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা হয়েছে। এর মধ্যে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ৩৩ জন, যৌতুকজনিত নির্যাতনের শিকার ১৫ জন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার ২৯ জন নারী রয়েছেন। এ ছাড়া জমিজমা বিরোধ, মানসিক নির্যাতন, বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া, যৌন হয়রানি ও পরকীয়াজনিত নির্যাতনের শিকার আরও ২০ জন নারী সহায়তা পেয়েছেন।

একই সময়ে ১১৫ জন নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৭ জন সেলাই পেশায় যুক্ত হয়েছেন, ২০ জন মুদি দোকান পরিচালনা করছেন, ১৪ জন হোটেল ও চায়ের দোকান চালাচ্ছেন। এ ছাড়া কেউ প্রসাধনীর দোকান, কেউ ব্যাগ তৈরির কাজ, কেউ অনলাইন ব্যবসা কিংবা দুগ্ধ ব্যবসার মাধ্যমে আয় করছেন।

পল্লীশ্রীর নির্বাহী পরিচালক শামীম আরা বেগম বলেন, ‘নারী নির্যাতনের ঘটনা কমাতে হলে বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে নির্যাতনের শিকার নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। আমরা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, প্রাথমিক মূলধন সহায়তা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মাধ্যমে নারীদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে সহায়তা করছি।’

তিনি বলেন, ‘একজন নারী যখন নিজের আয়ের উৎস তৈরি করতে পারেন, তখন তিনি শুধু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তিই পান না, নিজের সন্তানদের ভবিষ্যৎও নিরাপদ করতে পারেন।’

রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
রাজশাহী অঞ্চলে তাপপ্রবাহে  হাঁসফাঁস
রাজশাহীতে তীব্র দাবদাহে স্বস্তির খোঁজে রাস্তার পাশের কলের পানি দিয়ে মুখ ধুচ্ছেন এক যুবক/ খবরের কাগজ রোদ-গরমে হাঁসফাঁস, স্বস্তির খোঁজে মানুষ

সকাল ৮টা পেরোতেই রাজশাহীর আকাশে সূর্যের তীব্রতা জানান দিতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই তাপ যেন রূপ নেয় আগুনঝরা দাবদাহে।

দুপুরে নগরীর রাস্তাঘাট, ফুটপাত ও খোলা জায়গাগুলো প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়। বাতাসে নেই কোনো স্বস্তি, বরং গরম হাওয়ার ঝাপটা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে অস্বস্তি। কয়েকদিন ধরে চলা তাপপ্রবাহে রাজশাহীর জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শ্রমজীবী, নিম্নআয়ের ও ছিন্নমূল মানুষ।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে জেলার তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। শুক্রবার (৫ জুন)  বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বুধবার তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে কম আর্দ্রতা ও গরম বাতাসের কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি মনে হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, উত্তরাঞ্চলের শুষ্ক আবহাওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টির অনুপস্থিতি এ পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।

সরেজমিনে নগরীর সাহেববাজার, লক্ষ্মীপুর, শিরোইল বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দুপুরের পর মানুষের চলাচল কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন, তারা ছাতা, টুপি, গামছা বা কাপড় দিয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে চলাফেরা করছেন।

তবে জীবিকার তাগিদে থেমে থাকার সুযোগ নেই দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের। নগরীর শিরোইল বাস টার্মিনালে রিকশাচালক মফিজুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এই রোদে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। হাত-পা ঝলসে যাওয়ার মতো অবস্থা। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে না। তাই কষ্ট হলেও রাস্তায় বের হতে হচ্ছে।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান দিনমজুর আশিক ও রায়হান। তারা বলেন, সকালে কাজের সন্ধানে বের হলেও দুপুরের দিকে কাজ করা কঠিন হয়ে যায়। রোদে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে মাথা ঘোরে। তারপরও পরিবারের কথা ভেবে কাজ করতে হচ্ছে।

প্রচণ্ড গরমে নগরীর বিভিন্ন মোড়ে ডাব, আখের রস, তালের শাঁস ও শরবতের দোকানে মানুষের ভিড় বেড়েছে। তৃষ্ণা মেটাতে অনেকে এসব পানীয় পান করছেন। বিক্রেতারা বলছেন, গত কয়েকদিনে তাদের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

নগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে একটি শরবতের দোকানে কথা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন মো. আমজাদ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রোগীর জন্য ওষুধ ও খাবার কিনতে বারবার বাইরে আসতে হচ্ছে। তীব্র গরমে হাঁটাহাঁটি করা খুবই কষ্টকর। একটু স্বস্তির আশায় শরবত খেতে এসেছি'।

তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থী, পথচারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবনেও। অনেক দোকানদার জানিয়েছেন, দুপুরের পর ক্রেতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ও প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে, খোলা আকাশের নিচে কাজ করা নির্মাণশ্রমিক ও পরিবহন শ্রমিকদের কষ্ট বেড়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা ও মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস বলেন, ‘এই সময়ে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে বের হলে ছাতা ব্যবহার করতে হবে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে। কেউ যদি অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা অনুভব করেন, তাহলে দ্রুত ছায়াযুক্ত স্থানে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে দাবদাহ অব্যাহত থাকতে পারে। মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় এবং গরম বাতাসের প্রভাবে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বৃষ্টি না হলে উত্তরাঞ্চলে তাপপ্রবাহের বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে। এতে জনদুর্ভোগও বাড়বে।’

জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধে নাকাল ঘিওর বাজার

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধে নাকাল ঘিওর বাজার
বৃষ্টির পানি জমে সড়কে তৈরি হয়েছে কাদা। এই সড়ক দিয়েই চলাচল করে মালামাল বহনকারী যানবাহন ও ক্রেতা-বিক্রেতারা। ছবিটি সম্প্রতি মানিকগঞ্জের ঘিওর বাজার থেকে তোলা। ছবি: খবরের কাগজ

ইছামতী নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী মানিকগঞ্জের ঘিওর বাজার ও হাট আজ নানা সমস্যায় জর্জরিত। পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব, ভাঙাচোরা সড়ক, জলাবদ্ধতা এবং ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে প্রতিদিন হাজারো ব্যবসায়ী ও ক্রেতাকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অথচ এই বাজারে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার লেনদেন হয়। বাজারে রয়েছে ছোট-বড় প্রায় ১২০০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং পুরো বাজার ও হাট প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।

সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে বাজারের ধানহাট, কাঠপট্টি, মাছবাজার, গুড়পট্টি ও সবজিবাজারের বিভিন্ন অংশ হাঁটুপানিতে তলিয়ে যায়। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। জলাবদ্ধতার পানি শুকিয়ে গেলে সৃষ্টি হয় তীব্র দুর্গন্ধ। নোংরা পরিবেশের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

প্রতি বুধবার বসা ঐতিহ্যবাহী ঘিওর হাটে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা আসেন। একসময় এই হাট ছিল আশপাশের অঞ্চলের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু অবকাঠামোগত সংকটের কারণে এখন অনেক ক্রেতাই বাজারমুখী হচ্ছেন না বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।

মাছবাজারের ব্যবসায়ী প্রকাশ রাজবংশী জানান, একটু বৃষ্টি হলেই মাছবাজারে পানি জমে যায়। ড্রেনে ময়লা জমে যায়। আর এসব কাদা-পানি মাড়িয়ে ক্রেতারা আসতে চান না। এতে আমাদের বিক্রি কমে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না।

কাঠপট্টির ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, এ বাজারের কোনো উন্নতি নেই। বৃষ্টির দিনে আমাদের এই পট্টি দিয়ে হাঁটাচলা করাই কষ্ট, সেখানে মালামাল নেওয়া তো আরও কষ্টের ব্যাপার।

মেসার্স অনন্যা ট্রেডার্সের মো. রফিকুল বলেন, ‘আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কাঠপট্টিতে। আমি স্যানিটারি সামগ্রী বিক্রি করি। এই পট্টিতে প্রায় ৩০-৩৫ জন কাঠ ব্যবসায়ী আছেন। বৃষ্টির দিনে তাদের সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয়। বেচাকেনা অর্ধেকে নেমে আসে। বৃষ্টির পর এমন পরিবেশ হয় যে, তখন আর ক্রেতারা আসতে চায় না।’

আরেক ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা হাটে ইজারা দিই। কিন্তু বাজারের অবস্থা দেখলে মনে হয় কোনো কর্তৃপক্ষের নজর নেই। বৃষ্টির সময় হাটে ব্যবসা করার কোনো পরিবেশ থাকে না।’

সবজিবাজারের ব্যবসায়ী আলমাস ইসলাম বলেন, ‘নোংরা পানি জমে থাকার কারণে বাজারে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এতে ক্রেতারা দ্রুত বাজার ছেড়ে চলে যান। ব্যবসার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির দিনে বাজারে প্রবেশ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। হাঁটুপানি মাড়িয়ে বাজার করতে হয়। পরিবার নিয়ে আসা সম্ভব হয় না। এই বাজারের পরিবেশ ভালো করা প্রয়োজন।’

রেহানা বেগম নামে এক নারী বলেন, ‘ময়লা পানির গন্ধে বাজারে বেশিক্ষণ থাকা যায় না। আমার স্বামী বিদেশ থাকেন। আমাকেই প্রয়োজনীয় বাজার-সদাই করতে হয়। বিশেষ করে আমাদের মতো নারী ও শিশুদের জন্য পরিস্থিতি খুবই অস্বস্তিকর। এত বড় একটি বাজারের এই অবস্থা হওয়া দুঃখজনক।’

ঘিওর বাজার ব্যবসায়ী ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ লতা বলেন, ‘ঘিওর বাজার জেলার অন্যতম বড় বাজার। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কেনাবেচা হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেই তুলনায় কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা সড়কের কারণে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতি বুধবার হাটে হাজার হাজার মানুষ আসে। অথচ মৌলিক অবকাঠামোর অভাবে সবাইকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত বাজারের সমস্যা সমাধান করা হোক।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে বেপারীপাড়া এলাকায় প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সরু ড্রেন নির্মাণ করা হয়। তবে ড্রেনটির কোনো ঢাকনা নেই। ফলে এটি যেমন পানি নিষ্কাশনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি, তেমনি পথচারীদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্ধকারে অনেকেই ড্রেনে পড়ে আহত হন। জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তারও বাড়ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, ‘ঘিওর বাজারের সমস্যা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। বাজারের ড্রেনেজ ও অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। গরু হাট থেকে মাছবাজার পর্যন্ত আরসিসি সড়ক করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও কাজ করা হবে।’