সিলেটে ছিনতাইয়ে বাঁধা দেওয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের হাতে প্রাণ হারানো মো. আতাউর রহমান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
শনিবার (১৯ অক্টোবর) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।
গ্রেপ্তার আসামি আজিম উদ্দিন (২১) জিজ্ঞাসাবাদে তিনজন মিলে আতাউর রহমানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আজিম উদ্দিন জানায়, তিনি ও তার সঙ্গীরা ঘটনার রাতে গাঁজা সেবন করে। পরে তারা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজালাল মাজার এলাকায় ঘুরাফেরা করতে থাকেন। ভোর অনুমান পাঁচটার দিকে মাজারের পেছনের গেটে ব্যাটারিচালিত রিকশায় আতাউর রহমান তাদের সামনে এসে থামেন। আসামিরা তার সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে মুখ ও শরীর থেকে মদের গন্ধ পেয়ে তারা আরও মদপান করার প্রলোভন দিয়ে তাকে লাক্কাতুড়া এলাকায় নিয়ে যায়। সবুজ সংঘ ছড়ার পাড়ে যাওয়ার পর তারা আতাউরকে সঙ্গে থাকা সবকিছু দিয়ে দিতে বললে তিনি বাঁধা দেন। পরে আসামির সঙ্গী চাকমা ইমন চাকু দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করে এবং বাকি দুইজন বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করে একটি মোবাইল ফোন সেট, একটি রুপার চেইন, ব্রেসলেট ও সঙ্গে থাকা টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
সিলেটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান জানান, ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই রাতে মো. জিতু মিয়ার ছেলে মো. আতাউর রহমান রহমানকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহতের বাবা বাদী হয়ে একজনের নাম উল্লেখ করে এয়ারপোর্ট থানায় মামলা করলে পুলিশ ৯ মাস তদন্তের পর মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করে। পরে ডিআইজি (পূর্বাঞ্চল) মো. মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে এবং ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামানের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. তারিকুল ইসলাম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মামলার ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হন।
শাকিলা ববি/মেহেদী/অমিয়/