ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক বাউফলে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাপাহারে মতবিনিময় সভা বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রুমিন ফারহানার উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স অ্যানালিটিক্স সফটওয়্যার উদ্বোধন শাওমি নিয়ে এল ৯.৭ ইঞ্চির নতুন রেডমি প্যাড ২ ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ঈদের আগে বেতন না পাওয়ায় সংসদে ক্ষোভ চীন-মঙ্গোলিয়া যৌথ মহড়ায় নজর কাড়লো রোবটিক উলফ চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী গৃহকর্মী রোবট! দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন বাজি রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রামিসার মৃত্যু, অপরাধীর শাস্তি এবং সমাজের দায়
Nagad desktop

খুলনা নগর সেতু নির্মাণের ধীরগতিতে ভোগান্তি

প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৪, ১০:০১ এএম
সেতু নির্মাণের ধীরগতিতে ভোগান্তি
খুলনার গল্লামারী নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর পর নির্মাণসামগ্রী রাস্তার ওপর রাখা হয়। এতে সড়কের প্রশস্ততা কমে যায়। ফলে ওই পথে যাতায়াতকারীদের দীর্ঘ যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হয়। খবরের কাগজ

খুলনার ময়ূর নদের ওপর নির্মাণাধীন গল্লামারী সেতুর কাজ ২০২৫ সালের ১ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। এখানে পুরোনো দুটি সেতু ভেঙে রাজধানীর হাতিরঝিলের আদলে দৃষ্টিনন্দন চার লেনের সেতু নির্মাণ করা হবে। কিন্তু ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত পুরোনো একটি সেতু ভেঙে শুধুমাত্র নদের দুই পাড়ে কংক্রিটের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখনো এই অংশে স্টিলের সেতুর স্ট্রাকচার স্থাপন, পুরোনো আরেকটি সেতু ভেঙে সেখানেও স্টিলের স্ট্রাকচার বসানোর কাজ বাকি রয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকায় ওই পথে চলাচলকারীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে রাস্তাজুড়ে নির্মাণসামগ্রী রাখা, অস্থায়ী কাঁচাবাজার-স্থাপনা ও সেতুর দুই পাশের ফেন্সিং ডিভাইডারের কারণে সড়কের প্রশস্ততা কমে গেছে। ফলে ব্যস্ততম শহরের এই প্রবেশদ্বারে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে অসহনীয় যানজট।
 
যানজটের কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসার জন্য শহরে আসা রোগীরা সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। মাঝে মধ্যে যানজটের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র হয় যে, কয়েক মিনিটের রাস্তা অতিক্রম করতে ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে।

এ অবস্থায় সেতু নির্মাণ সংশ্লিষ্টদের প্রতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, সেতুর নির্মাণ কাজ স্বাভাবিক গতিতেই চলছে। আগামী জানুয়ারির পর যানচলাচল শুরু হবে। 

জানা গেছে, যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রিটিশ আমলে ময়ূর নদের ওপর নির্মিত পুরোনো সেতুর পাশে ২০১৬ সালে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পানির স্তরলাগোয়া সেতুটিতে মারাত্মক নকশা ত্রুটি ধরা পড়ে। অন্যদিকে শহরের অংশে যানজট আরও তীব্র হলে সড়ক বিভাগ পুরোনো এই দুই সেতু ভেঙে সেখানে ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চার লেনের দৃষ্টিনন্দন একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ২০২৩ সালের নভেম্বরে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে।
 
কিন্তু মাঝপথে নির্মাণ কাজ থমকে যাওয়ায় ভোগান্তি বাড়ছে বলে দাবি করেন নাগরিক নেতারা।
‘খুলনা নাগরিক সমাজ’র সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘এখানে আগের একটি সেতু নির্মাণে নকশা ত্রুটিতে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হয়েছে। ফলে মাত্র ৩/৪ বছরের ব্যবধানে সেতুটি ভেঙে ফেলতে হচ্ছে। ওই সেতুটি নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে জবাবদিহি ও আইনের আওতায় আনতে হবে।’ 

অন্যদিকে নির্মাণাধীন সেতুর কাজের অগ্রগতি ও যানজট নিরসন সংক্রান্ত এক সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. রেজাউল করিম বলেছেন, ‘সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ সাধারণ লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ কারণে সেতু নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রতি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।’ 

ভুক্তভোগীরা গল্লামারী সেতুর দুই পাশের ফেন্সিং ও ডিভাইডার অপসারণ করে সড়কের প্রশস্ততা বৃদ্ধি, সেতুতে ওঠা-নামার সংযোগ সড়কে রক্ষণাবেক্ষণ, ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন, অস্থায়ী কাঁচাবাজার-স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। 

অন্যদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুলনা শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, এগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা প্রয়োজন। এ ছাড়া গল্লামারী সেতুর উপর দিয়ে পরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে ভিন্ন রুট ব্যবহারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি সেতুর দুই পাশের কমপক্ষে ৫০ মিটারের মধ্যে যানবাহন পার্কিং করা থেকে বিরত রাখতে ট্রাফিক বিভাগের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ‘নির্মাণকাজ আসলে থেমে যায়নি। পুরোনো একটি সেতু ভেঙে ওই অংশে নদের দুই পাশে কংক্রিটের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে। এখন সেখানে স্টিলের তৈরি সেতুর স্ট্রাকচার এনে বসানো হবে। সেতুর স্ট্রাকচার নির্মাণের কাজও চলছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে ওই অংশে সেতুর স্ট্রাকচার বসানো হলে সেখানে যান চলাচল শুরু হবে। এরপর পাশে থাকা অন্য সেতুটি ভেঙে সেখানে স্টিলের সেতুর আরেকটি স্ট্রাকচার বসানো হবে।’ 

তিনি বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা কাজ শেষ করতে পারবে বলে আশা করছি।  

শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ পিএম
শেরপুরে ১২ দিনে পাঁচ শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ
ইসরাফিল-মাশরাফি-রাব্বানী-রাসেল-তোফায়েল। ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় গত ১২ দিনের ব্যবধানে পাঁচজন মাদরাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের বয়স ১১ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে।

জানা গেছে, গত ২৭ মে সকালে উপজেলার বুরুঙ্গা কালাপানি গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে, স্থানীয় একটি হাফেজিয়া মাদরাসার ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ইসরাফিল দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেনি। এরপর ৬ জুন নালিতাবাড়ী শহরের আড়াইআনী বাজারস্থ তাহফিজুল কোরআন মডেল মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং পাঁচগাঁও গ্রামের খন্দকার মোবারক হোসেনের ১৩ বছর বয়সী ছেলে খন্দকার মাশরাফি মাদরাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন ৭ জুন দুপুরে পাঁচগাঁও গ্রামের ইকরা মডেল হাফেজিয়া মাদরাসা থেকে একই গ্রামের তিন শিক্ষার্থী-১১ বছর বয়সী রাব্বানী, ১২ বছর বয়সী তোফায়েল এবং ১৩ বছর বয়সী রাসেল নিখোঁজ হয়।

স্থানীয়রা জানান, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে রাব্বানী ও তোফায়েল এর আগেও বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল এবং পরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। তারা পড়াশোনায় অমনোযোগী ছিল বলেও জানা গেছে।

এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম জানান, ইসরাফিল ও মাশরাফির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাঁচগাঁও থেকে নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর অভিভাবকরাও জিডি করতে থানায় এসেছেন। নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

শাকিল মুরাদ/রিফাত/

জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:২৬ পিএম
জঙ্গল সলিমপুরে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে সেনাবাহিনী
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সড়ক নির্মাণকাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রাথমিকভাবে এলাকাটিতে চারটি সড়ক নির্মাণ করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

সোমবার (৮ জুন) ব্রিগেডের অধীনস্থ একটি ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে।

কাজের শুরুতে জঙ্গলসলিমপুর আলিনগরের তিন কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ি এলাকায় নির্মাণাধীন সড়কের স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন লে. কর্নেল মো. কামরুল আল মাসুদ, পিএসসি, (ইঞ্জি. অধিনায়ক, ২৬ ইসিবি)।

তিনি বলেন, ছিন্নমূল এলাকা থেকে আলীনগর হাইস্কুল পর্যন্ত একটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া আলীনগর থেকে টেক্সটাইল এলাকা হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত আরেকটি সড়ক নির্মিত হবে। আলীনগর থেকে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির পাশ দিয়ে একটি সড়ক চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর বাইরে জঙ্গল সলিমপুরে আরও একটি অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এখনও প্রকল্পের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বাজেট অনুমোদন হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্গম, পাহাড়ি ও চ্যালেঞ্জিং এলাকায় সড়ক নির্মাণে সেনাবাহিনীর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা কাজ শুরু করেছি।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর একটি দুর্গম, পাহাড়ি ও বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকা। কয়েক দশক ধরে এটি দেশের অন্যতম অপরাধপ্রবণ ও দুর্ভেদ্য জনপদ হিসেবে পরিচিত। নব্বইয়ের দশকে আলী আক্কাস নামে এক সন্ত্রাসী প্রথম এ অঞ্চলে প্রবেশ করে পাহাড়ি খাসজমি দখল করে অবৈধ বসতি স্থাপন শুরু করেন। নিজের দখল বজায় রাখতে তিনি একটি সশস্ত্র বাহিনীও গড়ে তোলেন।

পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিম্নআয়ের বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে ‘ছিন্নমূল পুনর্বাসন’ প্রকল্পের নামে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে প্লট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ভূমি বাণিজ্য গড়ে ওঠে।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) নায়েব সুবেদার মোতালেব হোসেন ভুঁইয়া নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ মার্চ এলাকায় অপরাধীদের আস্তানা উচ্ছেদ এবং প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও এপিবিএনের প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নেন। পরে এলাকায় যৌথবাহিনীর স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।

এদিকে, গত ২৪ মে গভীর রাতে জঙ্গল সলিমপুরে স্থাপিত একটি যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। জবাবে পুলিশ ও র‍্যাব পাল্টা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পিছু হটে। তবে এর আগে তারা এলাকায় নির্মাণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে পুলিশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে একটি সড়কও কেটে ফেলে।

মুসলেহ উদ্দীন/নাঈম

ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে খাওয়ার সময় টেবিলের নিচে মাংস জমা করা নিয়ে কনে পক্ষ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। 

সোমবার(৮ জুন) বিকেলে উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া নয়াকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন- মো. আরিফ মিয়া, সহিদ মাতুব্বর, ছোরাপ মাতুব্বর ও মমতাজ বেগমসহ বেশ কয়েকজন। তাদের কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার দেওড়া নয়াকান্দা গ্রামের লাভলু শেখের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বর পক্ষ,আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীদের দাওয়াত দেওয়া হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে গ্রামের কয়েকজন খাওয়ার সময় টেবিলের নিচে মাংস জমা করে এবং নষ্ট করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল মাতুব্বর বলেন, বিয়ে বাড়িতে মাংস খাওয়া নিয়ে পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে মাংস খাওয়া নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েক জন আহত হন। পরে স্থানীয় মুরব্বিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে। 

কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মিরহামজানি এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে মুক্তা (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মুক্তা ওই এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামী ও ৭ বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে রেললাইন ধরে বাবার বাড়ি যাওয়ার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে একই এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহে পচন ধরায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, কয়েকদিন আগে তাকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

উভয় মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টাঙ্গাইল কালিহাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জুয়েল/নাঈম

পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টায় আটকে থাকা শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষকে চার দিনের মাথায় অবশেষে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

রবিবার (৭ জুন) রাতে কয়েক দফায় ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে শিশুসহ ওই ১০ জনকে সরিয়ে ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ। পরে তাদের সরিয়ে নেওয়ার পর আবারও সীমান্তের লাইট চালু করে তারা।

এর আগে শুক্রবার ভোরে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এদিকে গত রবিবার দুপুর ১২টার দিকে আবারও ভারতের অংশের শূন্যরেখা থেকে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ভারতীয় সীমান্তরেখা থেকে পুশইনের চেষ্টায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের বিএসএফ ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেও বিজিবির টহল ও অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন সীমান্তে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় বড় লবাড়ি প্রধানপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোহাগ বলেন, ‘রবিবার রাত দেড়টার দিকে প্রথমে বিএসএফ ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে। পরে আবার চালু করে। এভাবে দুই-তিনবার লাইট বন্ধ করার পর তারা চলে যায়। আমরা এমন ঘটনা আর দেখতে চাই না।’

একই কথা বলেন আতাউর রহমান নামে আরেক স্থানীয় যুবক বলেন, ‘পুশইনের ঘটনা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। বিজিবির সঙ্গে আমরা সব সময় রয়েছি। বিএসএফ ওই ১০ জনকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে, এটি ভালো করেছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও মজবুত হোক এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সম্পর্কও ভালো থাকুক।’

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় আমরা কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার করেছি।  রবিবার রাতে বিএসএফ যে ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল, তাদের সবাইকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। বড়বাড়ি সীমান্তে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আমাদের টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’ 

রনি মিয়াজী/রিফাত/