পথের পাশে শামিয়ানা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী দোকান। দোকানে টাঙানো ব্যানারে লেখা ‘১ টাকায় ঈদের নতুন জামা’। ব্যানারের ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন বেশ কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী। আগত শিশুদের সঙ্গে পোশাকের সাইজ মিলিয়ে এক টাকার বিনিময়ে শিশুদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এদিকে শখের ঈদপোশাক কিনতে দাঁড়িয়ে আছে শতাধিক শিশু-কিশোর। এভাবে ঈদের নতুন পোশাক পেয়ে খুশিতে মেতেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশু। সুবিধাবঞ্চিত পথ শিশুদের ঈদের আনন্দ দিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’ নামে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সৈয়দপুর শহরের গোলাহাট এলাকায় এক টাকায় ঈদের নতুন জামার দোকানটি বসানো হয়। এখানে নতুন ডিজাইনের ফ্রক, পাঞ্জাবি, শার্ট, প্যান্ট ছিল। আগত সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা তাদের পছন্দমতো পোশাক কেনে। মাত্র এক টাকায় ঈদের নতুন জামা পেয়ে খুশি এই শিশুরা।
শহরের গোলাহাটের শিশু শবনম (৮) ও সুমাইয়া (৭) বলে, ‘উৎসব-পার্বণে মা-বাবার পক্ষে নতুন কাপড় কেনা সম্ভব হয় না। এখানে এক টাকায় নতুন জামা দিচ্ছে শুনেই ছুটে আসি। পছন্দ মত ফ্রক পেয়ে খুব খুশি লাগছে।’ মাত্র এক টাকায় হাতে নতুন পোশাক পেয়ে মহাখুশি শিশু সাব্বির (১২) ও মল্লিক (৮)। দুজনেরই বাবা নেই। মা অন্যের বাসায় কাজ করেন। এখনো তাদের জন্য নতুন কোনো জামা কিনতে পারেননি মা। ‘আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর’ সংগঠনের অস্থায়ী দোকান থেকে এক টাকায় নতুন পোশাক পেয়ে তারা খুবই খুশি।
সংগঠনের সদস্য সামিউল, রাজ ও রাব্বি জানান, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা ঈদে নতুন কাপড় কিনতে পারে না। তাই তাদের ঈদ আনন্দ বর্ণিল করতে সংগঠনটি এই উদ্যোগ নিয়েছে।
ঈদের আগ পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে জানিয়ে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা নওশাদ আনসারী বলেন, ‘মূলত সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের জন্য আমাদের এই আয়োজন। যে শিশুরা ঈদের নতুন জামা কিনতে পারেনি তারা স্বাচ্ছন্দ্যে আমাদের দোকান থেকে মাত্র এক টাকার বিনিময়ে নিজের পছন্দমত পোশাক নিতে পারবে। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নতুন জামা দিয়ে এই আয়োজন করেছি। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে আমরা শাড়ি, লুঙ্গি, থ্রিপিস , সেমাই, চিনি ও দুধ আনবো অসহায়দের জন্য।
প্রতিবছর সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও অসহায়দের পোশাক ও খাদ্যদ্রব্য দিয়ে সাহায্য করে সংগঠনটি।
নাইমুর/