চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের প্রবণ দাশের বাড়িতে দিনদুপুরে দুইটি গরু লুটের ঘটনা ঘটেছে।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হিমছড়ি খোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ভুক্তভোগী পরিবারটি নিরাপত্তাজনিত কারণে ঘটনাটি গোপন রেখেছিল।
শনিবার (১২ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে সাতকানিয়া থানায় অভিযোগ করতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের গতিরোধ করে এবং মারধরের চেষ্টা করে। এর পরই বিষয়টি জনসম্মুখে আসে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারপাড়া এলাকার বাসিন্দা খুশি আলমের পুত্র মো. রফিক (২৫) ও একই এলাকার বদি আলমের পুত্র মো. রিফাত (২৮)।
জানা যায়, অন্য দিনের মতোই প্রবণ দাশ তার খামারবাড়িতে গরুগুলো দেখভাল করছিলেন। এমন সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত রফিক ও রিফাত খামারে প্রবেশ করে এবং প্রবণ দাশের পেটে ছুরি ঠেকিয়ে জোরপূর্বক দুটি গরু লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় তিনি বাধা দিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারধরের হুমকি দেন অভিযুক্তরা। ঘটনার পরের দিন ভুক্তভোগী প্রবণ দাশের স্ত্রী রত্না দাশ ও ছেলে অন্তর দাশ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে সাতকানিয়া থানায় অভিযোগ করতে যাওয়ার সময় অভিযুক্তরা দলবল নিয়ে তাদের গতিরোধ করে মারধর করার চেষ্টা করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা খবরের কাগজকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীর স্ত্রী ও সন্তান থানায় অভিযোগ করার জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশায় কুমারপাড়ায় পৌঁছালে রফিক, রিফাত, শহিদ ও হেলাল দলবল নিয়ে তাদের গতিরোধ করে এবং গাড়ি থেকে নামিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে মারধর করার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।’
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবণ দাশ বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো আমি গরুগুলোকে ঘাস দিয়ে খামারে বসে ছিলাম। হঠাৎ করে রফিক ও রিফাত এসে আমার পেটে ছুরি ঠেকিয়ে জোরপূর্বক দুটি গরু নিয়ে গেছে। আমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায় তারা আমাকে গালিগালাজ এবং মারধরের হুমকি দেয়।’
অভিযুক্তরা গরুগুলো লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় নিজের জমিতে কাজ করছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী তপন দাশ। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘গরুগুলো নিয়ে যাওয়ার সময় আমি জমিতে কাজ করছিলাম। তখন দেখলাম রফিক গরুগুলো নিয়ে যাচ্ছে। তখন আমি ভেবেছিলাম সে গরুগুলো ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। তার পর আমি তার কাছ থেকে জিজ্ঞেস করলাম গরুর ব্যবসা কখন থেকে করতেছো। সে উত্তরে কিছুই না বলে চলে গেল।’
ভুক্তভোগী প্রবণ দাশের স্ত্রী রত্না দাশ বলেন, ‘ওই দিন দুপুরে খামারবাড়িতে এসে দেখি তিনি (প্রবণ দাশ) গাছের নিচে বসে কান্না করছেন। তখন তার কাছ থেকে কী হয়েছে জিজ্ঞেস করলে তিনি গরু লুটের ঘটনাটি খুলে বলেন। পরে আমি অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করি কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত গরুগুলো ফেরত দেয়নি।’
এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত মো. রফিকের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এখন আমি ব্যস্ত রয়েছি পাঁচ মিনিট পর কল দিয়ে আপনাকে বিস্তারিত বলব। পরে তার মুঠোফোনে পুনরায় যোগাযোগ করা হলে, তিনি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি এবং ওই এলাকায় গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতে বলেন।’
এ ঘটনা সম্পর্কে সাতকানিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুদীপ্ত রেজা জয়ন্ত বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরিফুল/তাওফিক/