নড়াইল ও যশোর জেলার মানুষের চলাচলের পথের ছন্দপতন ঘটিয়েছে বুড়ি ভৈরব নদী। নদীর পশ্চিম পাশে যশোরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন এবং পূর্ব পাড়ে নড়াইলের শেখহাটি ইউনিয়ন। দুই ইউনিয়নের ১৬টি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের নদী পারাপারে একমাত্র ভরসা ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু।
জানা গেছে, নড়াইল শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়নের আফরা গ্রাম। গ্রামটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বুড়ি ভৈরব নদী। নদীর পূর্ব পাড়ে নড়াইলের শেখহাটি ইউনিয়নের আটটি ও পশ্চিম পাড়ে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের আটটি গ্রাম। নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা একটি জরাজীর্ণ বাঁশ ও কাঠের তৈরি সেতু। প্রায় ১৩ বছর আগে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত এ সেতু দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে।
সূত্র জানায়, কাঠের সেতুটি প্রথম নির্মাণ করা হয় ২০১২ সালে। সদর উপজেলার শেখহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম রেজার নেতৃত্বে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এটি নির্মাণ করা হয়। তখন থেকে এখন পর্যন্ত সেতুটি কোনো ধরনের সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ নদীর দুই পাড়ের হাজারো শিক্ষার্থী, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ এই পথ দিয়েই প্রতিদিন যাতায়াত করে থাকেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুটির অনেক জায়গায় পাটাতন ভেঙে গেছে। কাঠের তক্তাগুলো ঢিলে হয়ে পড়েছে। কোথাও আবার খুলে গেছে। রিকশাভ্যান, মোটরসাইকেলসহ হালকা যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সেতুটির দুই পাশে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। তবে বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছেন।
আফরা গ্রামের বাসিন্দা আবুল কাসেম বলেন, ‘নদী পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় আমাদের বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পার হতে হয়। দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় পড়ে থাকলেও কারও যেন ভ্রুক্ষেপ নেই।’
শেখহাটি গ্রামের অজিত কুমার বলেন, ‘বর্ষাকালে সেতুটি দুই পাশে কাঁদা হয়ে যায়। পানি জমে থাকে। গাড়ি নিয়ে ওঠানামা করা যায় না। সাত কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথ ধরতে হয়। নারীরা চলাচল করতে পারেন না, অনেকেই পড়ে যান।’ তিনি আরও বলেন, ‘আবারও নতুন করে বর্ষাকাল আসছে। এতে আমাদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করবে। অবিলম্বে স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।’
তুলারামপুর গ্রামের বাপ্পী সরদার বলেন, ‘রাতে টর্চ লাইট নিয়ে পা টিপে টিপে চলতে হয়। এত বছর ধরে এই অবস্থায় আছি। কৃষিপণ্যের বাজারজাত, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, সবকিছুতেই সমস্যা হচ্ছে।’
যশোরের বসুন্দিয়া গ্রামের সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের এ পাশের অনেক শিক্ষার্থী শেখহাটি এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে। এ ছাড়া ব্যবসায়ীরাও শেখহাটি বাজারে ব্যবসা করে থাকেন। তাই প্রতিনিয়ত আমাদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়।’
শেখহাটি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘বুড়ি ভৈরব নদীর ওপরে একটি সেতু হলে দুই জেলার মানুষের চলাচলে অনেক উপকার হতো। কৃষক, শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ সবাই এর সুফল পেতেন।’
নদীর দুই পাশের মানুষের সমস্যার কথা স্বীকার করে নড়াইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ কুমার কুণ্ডু বলেন, ‘বুড়ি ভৈরব নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জরিপ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেতুর ডিজাইনের কাজ চলমান রয়েছে। অন্যান্য কাজ শেষ করে আশা করছি খুব শিগগিরই সেতু নির্মাণের কাজ করা সম্ভব হবে।’