দেশের চার জেলায় বজ্রপাতের ঘটনায় গত বুধবার (৩ জুন) ও গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ১০ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ জন, গাইবান্ধা ও ময়মনসিংহে ২ জন করে এবং চুয়াডাঙ্গায় ১জন নিহত হয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: জেলার তিন উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার আতাহার এলাকার আব্দুল্লাহ (১৪), শিবগঞ্জ উপজেলার চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের মাহমুদা বেগম (১৯), একই ইউনিয়নের রানীবাগি বাজারপাড়ার সাহিদা খাতুন (১৬), মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণ পাড়ার মো. মেসবাউল এবং নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের লাহাপড়া গ্রামের সুমি আরা (৪০)।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন জানান, বিকেলে বাড়ির পাশে গরু আনার জন্য মাঠে গিয়েছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা জেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শিবগঞ্জ থানার ওসি মতিউর রহমান জানান, ঝড়-বৃষ্টির সময় বাগানে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে মাহমুদা বেগম, সাহিদা খাতুন ও মেসবাউলের মৃত্যু হয়। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, নিহত তিন পরিবারের প্রত্যেককে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, গতকাল বিকেলে মাঠ থেকে ঘাস কেটে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে সুমি আরার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার স্বামী আব্দুর রাকিব আহত হয়েছেন।
গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় খড় তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে মা-ছেলে নিহত হয়েছেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা গ্রামের দাসপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন শৈলেন চন্দ্র দাসের স্ত্রী কল্পনা রানী (৫৫) ও ছেলে সোহাগ চন্দ্র দাস (৩২)।
এলাকাবাসী জানান, ঈদুল আজহার ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিলেন সোহাগ চন্দ্র দাস। সন্ধ্যায় ঝোড়ো বাতাস, হালকা বৃষ্টি ও ঘন ঘন বজ্রপাতের মধ্যে খড় তুলতে গেলে মা-ছেলে দুজনই বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন। পরে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।
সাঘাটা থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে শিক্ষকসহ দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সকালে মুক্তাগাছা উপজেলার বড়গ্রাম ইউনিয়নের রৌহারচর গ্রাম ও গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন মধ্য লামকাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন মুক্তাগাছা উপজেলার রৌহারচর গ্রামের খালেকুল আজাদ (৬০) এবং গফরগাঁও উপজেলার মধ্য লামকাইন গ্রামের সিয়াম খান (২৮)। খালেকুল আজাদ স্থানীয় গাবতলী ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের বাড়িতে অবস্থানকালে হাঁটাহাঁটির সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান খালেকুল আজাদ। অন্যদিকে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হন সিয়াম খান। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুক্তাগাছা থানার ওসি মো. কামরুল হাসান এবং পাগলা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বজ্রপাতে শান্ত (২৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নাহিদ নামের আরও এক যুবক আহত হয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় উপজেলার নান্দবার গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার আগে ঝোড়ো হাওয়ার সময় শান্ত ও নাহিদ বাড়ির ছাদে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে কাছের একটি গাছে আগুন ধরে যায়, এতে একই সঙ্গে দুজনই আহত হন। পরে স্বজন ও স্থানীয়রা ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই তাদের চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক শান্তকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নাহিদকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।