ঢাকা ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ফেনীতে ডেঙ্গু রোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত মুন্সীগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মঞ্চের জন্য অনেক গবেষণামূলক কাজ করতে চাই: জুয়েনা শবনম টেকনাফে ৯৯৯-এ গোলাগুলির দাবি, অভিযোগের সত্যতা মেলেনি! গাংনী সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা ‘রকস্টার’ যেন মাদকের বিজ্ঞাপন নন্দনকাননে মন্দির জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ, দফায় দফায় সংঘর্ষ ৬৫ ভাগ মানুষকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী চৌদ্দগ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, নিহত ২ টেকনাফে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোডাউন একাগ্র একলিম, পরিচ্ছন্ন সিলেট সীতাকুণ্ডে পুলিশের টহল গাড়িতে ধাক্কা, সার্জেন্টসহ আহত ৫ অতিথির স্মৃতি গল্প থেকে ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ১২তম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বাংলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত থেকে ২৮ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ হরমুজে ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ, পাল্টা রাডার সাইট লক্ষ্যবস্তু করল যুক্তরাষ্ট্র চাক্তাই খালে নির্মাণাধীন সেতুর ধীরগতি সহ্য করা হবে না: চসিক মেয়র ডেঙ্গু প্রতিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনার জার্সি পরলেই দাঁতের চিকিৎসা ফ্রি! ঘাঘট নদীতে গোসলে নেমে বেরোবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সাতকানিয়ায় কৃষিজমি ও পাহাড় রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবি বরগুনায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাতিয়ায় ছাত্রদল নেতার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ জমি নিয়ে বিরোধে রণক্ষেত্র খুলশি, আহত ১০ ফটিকছড়িতে মনজুর-সনিসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা কুয়েত ও বাহরাইনে ৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান সোনারগাঁয় বাবার মৃত্যুর খবর দিতে গিয়ে ছেলের ঝুলন্ত মরদেহের সন্ধান এআই মামলা: ডিএমপি মাত্র দুটি নম্বর থেকে এসএমএস পাঠায়, অন্যগুলো ভুয়া ঈশ্বরগঞ্জে বসতঘর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার হরিপুর সীমান্তে বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক
Nagad desktop

চারঘাট ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া নড়ে না ফাইল

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৫, ০৯:৩০ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৫, ০৯:৪৮ এএম
চারঘাট ভূমি অফিসে টাকা ছাড়া নড়ে না ফাইল
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা ভূমি অফিস। খবরের কাগজ

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলা ভূমি অফিস যেন অনিয়ম ও দুর্নীতির এক অভয়ারণ্য। ঘুষ ছাড়া এখানে এক ইঞ্চিও নড়ে না কোনো ফাইল, দালাল ছাড়া হয় না একটি কাজও। অভিযোগ রয়েছে, অফিসে প্রভাবশালী একাধিক দালাল চক্র সক্রিয়ভাবে ভূমিসংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে, যাদের ছত্রচ্ছায়ায় চলছে একের পর এক অনিয়ম। এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ পড়ছেন ভয়াবহ হয়রানির মুখে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তোভোগী অভিযোগ করে বলেন, নামজারি, মিসকেস, খতিয়ান সংশোধন কিংবা খাজনা পরিশোধ করতে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। অথচ এসব সেবা পাওয়ার কথা সরকারের নির্ধারিত ফি অনুযায়ী।

চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভূমি অফিস ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি অফিসেই রয়েছে একাধিক দালাল, যারা সরকারি কর্মচারীর মতোই ঘোরাফেরা করছেন অফিস কক্ষে। একাধিক সেবাগ্রহীতা বলেন, ওদের দেখে বোঝাই যায় না- কারা আসল স্টাফ, কারা দালাল। সরকারিভাবে ফি নির্ধারিত থাকলেও এসব দালালের মাধ্যমে গোপনে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা।

পঞ্চাশোর্ধ্ব মতিন মিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ৩৬ শতাংশ জমির নামজারি (নাম খারিজ) করতে মাসের পর মাস ঘুরতে হচ্ছে। ঘুষ না দেওয়ায় কাজ হচ্ছে না। নামজারি, ডিসিআর ও দাখিলার নামে এখানে অবাধে চলে ঘুষ-বাণিজ্য। এ সময় তার কথায় আওয়াজ তুলে সায় দিচ্ছিলেন নামজারি ও খাজনা দিতে আসা অন্য সেবাপ্রত্যাশীরাও।’ 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১২ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেট অনুযায়ী, চারঘাট মৌজার ৩৬৬ নম্বর দাগে অবস্থিত শূন্য দশমিক শূন্য ৫ শতক জমি ‘ক’ তালিকাভুক্ত ভেস্টেড প্রপার্টি (ভিপি) হিসেবে চিহ্নিত। গেজেটের ৮৩৭৩ নম্বর পাতায় ৩৯ নম্বর ক্রমিক অনুযায়ী, এটি এসএ ৫৬৯ ও আরএস ৫৩৬ নম্বর দাগভুক্ত জমি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। অথচ পরবর্তী সময়ে ভূমি অফিসের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা ওই গেজেটের তথ্য গোপন করে অনলাইনে হোল্ডিং অনুমোদন দিয়ে জমিটি খাজনা গ্রহণের আওতায় আনেন। জমির দাখিলা নম্বর ৮১২৫২৪০৩৫৪১৯। এই কাগজ দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মুনজুর রহমানের বাবা আশরাফ সরকার ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অধিগ্রহণ শাখা থেকে ১১ লাখ ২১ হাজার ৯৬৫ টাকা উত্তোলন করেন (চেক নম্বর: ০৮৩২৯২৮, এল. কেস নম্বর: ০৯/২০২১-২০২২)। তবে মোবাইল ফোনে মুনজুর রহমান সাংবাদিককে জানান, ‘আমি টাকা পায়নি, আবেদন করেছি মাত্র।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) রাজশাহী জেলা কমিটির সভাপতি আহমেদ শফি উদ্দিন বলেন, ‘অনিয়ম-দুর্নীতির এই চিত্র শুধু একটি উপজেলায় নয়, বরং দেশের অনেকাংশেই ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালাল চক্রের প্রভাব যে কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে, তার একটি প্রতিচ্ছবি। প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করা গেলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ কঠিন।’ 

চারঘাট ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আনন্দ কুমার বলেন, ‘জমিটি ২০২২ সাল থেকে অনলাইনে হোল্ডিংভুক্ত রয়েছে। গেজেট পরিবর্তন বা ফ্লুইড দিয়ে মুছে দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়। তবে গত ১৫ মে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেনের নির্দেশনায় হোল্ডিংটি বাতিল করা হয়েছে।’ 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফেনীতে ডেঙ্গু রোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:১১ পিএম
ফেনীতে ডেঙ্গু রোধে সচেতনতামূলক র‍্যালি
ছবি: খবরের কাগজ

ফেনীতে এডিস মশার বিস্তার রোধে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে সচেতনতামূলক র‍্যালির আয়েজন করা হয়। 

শনিবার (৬ জুন) সকালে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক।

সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিকুর ইসলাম, পৌর প্রশাসক আল আমিন সরকার এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ফেনী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন দুলাল। এছাড়া হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শফিকুর ইসলাম বলেন, বর্তমানে এডিস মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করছে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার বিভিন্ন দপ্তরে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিটি পরিবার সচেতন হলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠান শেষে জনসচেতনতা সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ ছাড়াও তারা হাসপাতাল ও আশেপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।

তোফায়েল আহাম্মদ/খাদিজা রুমি/

কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:০৩ পিএম
কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলে নিহত
ছবি: খবরের কাগজ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে একটি পিকআপভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা-ছেলে নিহত হয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজারহাট-তিস্তা মহাসড়কের কসাইটারী শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মাছবাহী পিকআপটি ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।

নিহতরা হলেন দুলু মিয়া (২৮) ও তার বাবা সিদ্দিক শেখ। তারা কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট সীমান্তবর্তী বোগমারী পঞ্চগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।

পু‌লিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গে‌ছে, সকালে মোটরসাইকেলে করে বা‌ড়ি ফেরার প‌থে বাবা-ছেলে রেললাইন পার হচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপেভ্যান সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তারা গুরুতর আহত হন।

পরে তাদের উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত ছেলে সিদ্দিক শেখকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, নিহতরা বাবা-‌ছে‌লে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এ ঘটনায়  আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিরাজ/আমান

টেকনাফে ৯৯৯-এ গোলাগুলির দাবি, অভিযোগের সত্যতা মেলেনি!

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
টেকনাফে ৯৯৯-এ গোলাগুলির দাবি, অভিযোগের সত্যতা মেলেনি!
ছবি: খবরের কাগজ

টেকনাফের বাহারছড়ায় পাহাড়ঘেরা এলাকায় গোলাগুলির অভিযোগে ৯৯৯-এ ফোন করেন স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদুর ইসলাম, তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায়নি পুলিশ।

অভিযোগকারী ফরিদুর ইসলাম বাহারছড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নোয়াখালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও বদিউর রহমানের ছেলে। তার দাবি, ৫ জুন সন্ধ্যায় নোয়াখালী পাড়া-সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ অভিযোগকারী ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন স্থানীয় সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে একদল পাহাড়ি সন্ত্রাসী পাহাড় থেকে নেমে এসে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। পরে তারা আমার একটি গরু নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু ব্যক্তিরও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে আমার সন্দেহ। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।’

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে।

নোয়াখালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও চলচ্চিত্র অভিনেতা ইলিয়াস কোবরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়ায় ফরিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গুলি চালানোর অভিযোগে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে স্থানীয়দের মধ্যে এ বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ গুলির শব্দ শুনেছেন বলে দাবি করছেন, আবার কেউ এটিকে পটকার শব্দ বলে মনে করছেন।

ইলিয়াস কোবরা বলেন, ‘নোয়াখালীপাড়া থেকে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ দূরত্বের সুযোগ নিয়ে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা ডাকাতি, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ করে দ্রুত পাহাড়ে পালিয়ে যায়। এলাকাবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে নোয়াখালীপাড়ায় একটি পুলিশ চৌকি স্থাপন করা হলে তা অত্যন্ত উপকার হবে।’

তিনি আরও জানান, ৯নং ওয়ার্ডের নোয়াখালীপাড়া প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এলাকাটিকে চারটি অংশে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অংশে ২৫ জন করে যুবককে নিয়ে মোট ১০০ সদস্যের একটি গ্রাম প্রতিরক্ষা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মানবপাচার, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে এই কমিটি কাজ করবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

টেকনাফ বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আবু সাঈদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্র ও টেকনাফ থানা পুলিশের দুটি টিম স্থানীয় লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া তেল পাম্পের পেছনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

তিনি জানান, প্রায় ১০-১২ দিন আগে তার ভাই গফুর, চাচাতো ভাই সোনা মিয়াসহ কয়েকজনের সঙ্গে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগকারীর দাবি, শুক্রবার কয়েকজন ব্যক্তি কালো পোশাক পরে অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন।

পরিদর্শক আবু সাঈদ আরও বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটার বিষয়ে অবগত নন বলে জানান। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত ও যাচাই করা হচ্ছে।

শাহীন/তামান্না রুপা/

গাংনী সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ০১:০৭ পিএম
গাংনী সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে পুশইনের চেষ্টা
সীমান্তে কঠোর অবস্থানে বিজিবি ও গ্রামবাসী। ছবি: খবরের কাগজ

মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তে নারী শিশুসহ ছয়জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

শনিবার (৬ জুন) ভোরে উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের ১৪০/৫ এস আন্তর্জাতিক পিলারের কাছে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে পুশইনের চেষ্টায় ব্যর্থ হন তারা।

ভারত থেকে ঠেলে দেওয়া ছয়জন ভুক্তভোগী বর্তমানে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

তেঁতুলবাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার হাবিবুর রহমান খবরের কাগজকে জানান, ভারতের নদীয়া জেলার করিমপুর থানার বেড় রামচন্দ্রপুর এলাকা দিয়ে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের হাটপাড়া সীমান্তে একটি শিশু, তিনজন পুরুষ, দুজন নারীকে পুশইনের করার চেষ্টা করে বিএসএফ। 

স্থানীয়রা খবরের কাগজকে জানান, বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়া খুলে তাদেরকে বাংলাদেশের সীমান্তের দিকে ঠেলে দেয়। তারা হেঁটে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেন। প্রতিরোধের মুখে তারা কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ফিরে যান। বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি ও গ্রামবাসীরা শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। এদিকে বিজিবির পক্ষ থেকে হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দিয়ে পুশইন প্রতিরোধ ও তাদেরকে কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বিজিবি বারবার আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তেঁতুলবাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার হাবিবুর রহমান আরও জানান, কোনো ধরণের অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা পুশইন মেনে নেওয়া হবে না। আজকের ঘটনায় বিএসএফের সঙ্গে পতাকা বৈঠকের চেষ্টা চলছে। পাকশি গেটে উভয়পক্ষের মধ্যে পতাকা বৈঠক শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

তারেক হোসেন/থিও/

নন্দনকাননে মন্দির জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ, দফায় দফায় সংঘর্ষ

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
নন্দনকাননে মন্দির জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগ, দফায় দফায় সংঘর্ষ
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকানন এলাকায় ঐতিহ্যবাহী লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন খাসজমির নিয়ন্ত্রণ ও মন্দির জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) এবং স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৬ জুন) ভোর ৪টায় শুরু হওয়া সংঘর্ষে কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একজনকে আটক করেছে।​

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৬ জুন) রাত আনুমানিক ৩টায় ইসকনের একদল লোক নন্দনকানন এলাকার লোকনাথ মন্দির-সংলগ্ন জায়গায় প্রবেশের চেষ্টা চালান। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে তাদের বাদানুবাদ শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালীন মন্দির এলাকার একটি কক্ষ ভাঙচুর করা হয় এবং বেশ কিছু বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।​

বিরোধের নেপথ্যে খাসজমি ও পূর্ববর্তী অভিযোগ​:

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, লোকনাথ মন্দির-সংলগ্ন এলাকার খাসজমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ইসকনের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছিল। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবি, এই জমি ও মন্দির তাদের নিজস্ব ধর্মীয় সম্পদ। এখানে বাইরের কোনো সংগঠনের হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবেন না। তাদের অভিযোগ, ইসকন পর্যায়ক্রমে পেশিশক্তি ব্যবহার করে এলাকার জমি ও মন্দির নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।​

উল্লেখ্য, এর আগেও চট্টগ্রামে ইসকনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে জমি দখল এবং মন্দিরের নাম ব্যবহার করে অনুদান সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল। প্রবর্তক সংঘ চট্টগ্রামের নেতারাও ইসকন নামধারীদের বিরুদ্ধে যৌথ চুক্তি অমান্য করা, পেশিশক্তি দিয়ে জমি দখল এবং পাহাড় কেটে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছিলেন।​

পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি​ :

ঘটনার খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।​

নগর পুলিশের (দক্ষিণ বিভাগ) উপ-কমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া বলেন, ‘মূলত লোকনাথ মন্দির ও সংলগ্ন জায়গা নিয়ে ইসকন ও স্থানীয় সাধারণ হিন্দুদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। গভীর রাতে ইসকনের লোকজন এলাকায় প্রবেশ করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আমরা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

তিনি আরও জানান, সংঘর্ষে আহত চারজনকে উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। আটক ব্যক্তির বিষয়ে তদন্ত চলছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে । এই বিরোধের স্থায়ী সমাধানে প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।​

ঘটনার পর থেকে নন্দনকানন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানিয়েছেন, তাদের মন্দির ও ভূসম্পত্তি রক্ষায় তারা সর্বদা সজাগ থাকবেন। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার রাখা হয়েছে।

খাদিজা রুমি/অমিয়/