পাবনার ঈশ্বরদীতে বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ। প্রচণ্ড গরমের কারণে বেড়েছে জনদুর্ভোগ। গরমজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
রবিবার (১৪ জুন) ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, গরম ও মৃদু তাপপ্রবাহের কারণে ডায়রিয়া, পেট ব্যথা ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা জ্বর, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন।
আবহাওয়াসংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রীষ্মকাল শেষ হয়ে শুরু হয়েছে বর্ষাকাল। এরপরও ঈশ্বরদী উপজেলায় বৃষ্টির দেখা নেই। এপ্রিলের শুরু থেকে এখনো অসহনীয় গরম অব্যাহত রয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় ঈশ্বরদীতে ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। তখন বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে এলেও আবার তা পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকে, যা এখনো অব্যাহত।
ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে গত মে মাসজুড়েই ছিল তাপমাত্রার তীব্রতা। ৩৫ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা ওঠানামা করেছে। ১১ মে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ নাজমুল হক রঞ্জন জানান, বর্ষাকাল শুরুর প্রথম দিন রবিবার ঈশ্বরদীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঈশ্বরদী শহরে ঘুরে দেখা গেছে, প্রচণ্ড গরম ও তাপপ্রবাহের কারণে রাস্তায় মানুষের সংখ্যা ছিল কম। দিনমজুর, রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিকরা গরম সহ্য করে কাজ করছেন। গরমে পিপাসা মেটানোর জন্য কেউ কেউ লেবুর শরবত কিনে পান করছেন। এ সময় কথা হয় নির্মাণশ্রমিক মো. মিজানুরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এত গরম, শরীরে সহে না। তারপরও কাজ করতে হচ্ছে। কেননা, কাজ না করলে চাল-ডাল কেনা হবে না।’
ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক মাজদার হোসেন বলেন, ‘ভাড়া নিয়ে যাওয়ার সময় বাতাস লাগে। তখন একটু ভালো লাগে, কিন্তু যখন যাত্রীর অপেক্ষায় বসে থাকি তখন খুব কষ্ট হয়। গরমে বসে থাকতে পারি না।’
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান জানান, গরমে ডায়রিয়া, জ্বর ও পেটের ব্যথায় আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সুস্থ হয়ে তারা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।