ঢাকা ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘ফেবারিট’ তুরস্কের সামনে আত্মবিশ্বাসী অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ‘লিচুর ন্যায্য দাম পেতে সংরক্ষণ সুবিধা জরুরি’ বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ আরআইবিএর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেল ব্র্যাকইউনিভার্সিটির পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস লুপাস চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য, জিন থেরাপিতে সুস্থ ৫ রোগী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দাফন ৯ জুলাই ‘লাভ তো দূরের কথা বাড়ি থেকে টাকা দিতে হচ্ছে’ বাজেটের রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ: এফবিসিসিআই বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও ভারতের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ নতুন ভোরের অপেক্ষায় জার্মানি ১৪ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৪ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমিত করতে গণভোট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবশেষ পরিস্থিতি রাজশাহীতে বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর সর্বনাশ সেলিনা হোসেনের জন্মদিন আজ ময়মনসিংহে হামে উৎকণ্ঠা আর জীবন বাঁচানোর লড়াই ১৯৯৮ সালের পর বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের প্রথম গোল জন ম্যাকগিনের অজিদের আজ ধবলধোলাই করার লগন হাতি বনাম লা ত্রির লড়াই বিশ্বাসের সমুদ্রে ফন ডাইকের তরি ১৪ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি সমতায় বিশ্বকাপ মিশন শুরু ব্রাজিলের স্বপ্নের জাদুকর মুসিয়ালা পথপ্রদর্শক বাকুনা ভিনিসিয়ুসের গোলে সমতায় ফিরল ব্রাজিল পরাশক্তি জার্মানির সামনে পুঁচকে কুরাসাও ডার্কহর্স জাপান, সতর্ক নেদারল্যান্ডস
Nagad desktop

যশোরে রহস্যে ঘেরা প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৫, ০৮:৪৮ এএম
আপডেট: ৩০ জুন ২০২৫, ০৮:৫৯ এএম
যশোরে রহস্যে ঘেরা প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা
বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ভোর ৪টার পর যশোর সদর উপজেলার নতুনহাট বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কার। নিহত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাসুদুর রহমান মিলন ও তার সহযাত্রী প্রাইভেটকারচালক আরিফিন আক্তার জুঁই

যশোরে ভোরে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় হতাহতদের নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। তাদের কর্মকাণ্ডও ছিল বিতর্কিত। প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন এক নারী। ওই নারীর সঙ্গে প্রাইভেট কারের যাত্রীদের কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। এত রাতে তারা কোথায় কী কাজে যাচ্ছিলেন তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। হতাহতরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ঘটনায় যে মামলা করা হয়েছে সেটিও রহস্যঘেরা। নিহতদের পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়। যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ভোর ৪টার পর সদর উপজেলার নতুনহাট বাজারসংলগ্ন এলাকায় একটি প্রাইভেট কারের চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়কের পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মাসুদুর রহমান মিলন ও তার সহ-যাত্রী প্রাইভেট কারচালক যশোর শহরতলী সুজলপুর গ্রামের আলোচিত নারী আরিফিন আক্তার জুঁই নিহত হন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা যশোরের আলোচিত সদর উপজেলার এড়েন্দা এলাকার মাসুদ রানা ও তার বন্ধু ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালি বেতাগা গ্রামের মামুন গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে একদিকে যশোরে যেমন শোকের ছায়া নেমে আসে তেমনি সাধারণ মানুষের মাঝেও নানা প্রশ্ন ওঠে। এত রাতে কেন তারা ওই পথে যাচ্ছিলেন? যারা যাচ্ছিলেন, তাদের পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক কী? এসব বিষয় নিয়ে শুরু হয় নানা গুঞ্জন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবারই কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন নিহত জুঁইয়ের স্বামী লিটন গাজী। তিনি অজ্ঞাত পিকআপচালকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলাকে ঘিরেও তৈরি হয়েছে রহস্য। কেননা স্থানীয়দের বক্তব্য ও এজাহারে উল্লিখিত ঘটনার ভিন্নরূপ দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ভোর ৪টার পর হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান তারা। দ্রুত রাস্তায় এসে দেখেন, কালো রঙের প্রাইভেট কারটি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে আছে। গাড়িটির চালকের আসনে ছিলেন জুঁই। তার পাশের সিটে বসা ছিলেন মিলন। জুঁইয়ের শরীরের অর্ধেকের বেশি অংশ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়; দুই চোখ বেরিয়ে যায়। অন্যদিকে, মিলনের মাথার তালু ফেটে যায় এবং পা ও হাত ভেঙে যায়। পেছনে থাকা দুজনের অবস্থাও ছিল গুরুতর। গাড়ির ইঞ্জিন ছিটকে অন্তত ২০ হাত দূরে চলে যায়। দ্রুত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকেই দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং অপর দুজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হতাহতদের নিয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, বছর খানেক আগে যশোরের এড়েন্দা বাজারে মাসুদ রানার আরেকটি গাড়ি সড়ক দুর্ঘটনায় এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হন। বুধবারের দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটিও ছিল তার মালিকানাধীন। যশোরের চিত্রা সিনেমা হলের সাবেক কর্মচারী মৃত নূর ইসলামের ছেলে মাসুদ রানা নৌবাহিনীতে চাকরি পান। কয়েক বছরের মধ্যে চাকরিচ্যুত হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন এবং শুরু করেন ‘চাকরি দেওয়ার ব্যবসা’। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে অল্প সময়েই কোটিপতি বনে যান মাসুদ।
 
মাসুদের প্রতিবেশীরা জানান, তার চার-পাঁচটি দামি গাড়ি রয়েছে। এসব গাড়ি ব্যবহার করে তিনি স্বর্ণ পাচার করেন। কয়েক বছর আগে র‌্যাবের স্পেশাল টিম ঢাকায় অভিযান চালিয়ে মাসুদের বাড়ি থেকে তাকে আটক করে। কিছুদিন জেল খেটে আবার যশোরে ফিরে আগের মতোই চলাফেরা শুরু করেন।

বিশেষ করে, মধ্যরাতে তার গাড়িগুলো বেনাপোল রুটে চলাচল করে এবং এসব কর্মকাণ্ডে নারীদের ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মাসুদ রানা বর্তমানে অঢেল সম্পদের মালিক। এমনকি গত ইউপি নির্বাচনে তিনি যশোর সদরের দেয়াড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন।

এদিকে দুর্ঘটনায় আহত মামুন সম্পর্কেও নানা তথ্য উঠে এসেছে। জানা যায়, বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার কাটাখালি বেতাগা গ্রামের মামুন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। সাবেক এমপি শেখ তন্ময়ের এক পিএসের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাসুদের ব্যবসায়িক সহযোগী হিসেবে কাজ করেন এবং বর্তমানে যশোর থেকে মাসুদের সঙ্গেই ব্যবসা পরিচালনা করেন।

নিহত ছাত্রলীগ নেতা মাসুদুর রহমান মিলনকে নিয়েও নানা মত পাওয়া গেছে। কেউ বলেন, তিনি ভদ্র ও মার্জিত ছিলেন। অনেকে আবার অভিযোগ করেন, তিনি বিএনপি নেতাদের ধরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার বিরুদ্ধে জুয়া ও এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যবসার আড়ালে অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। মিলনের পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার রাত ২টায় তিনি বাড়ি ফেরেন এবং ৩টার দিকে একটি ফোন পেয়ে আবার বের হয়ে যান। 

নিহত জুঁইকে ঘিরেও নানা তথ্য আসে। তিনি যশোরে বেশ পরিচিত মুখ ছিলেন। ফেসবুক ও টিকটকে নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গাড়িতে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতেন। রাতবেরাত তার চলাফেরা ও অশালীন অঙ্গভঙ্গি ছিল স্থানীয়দের আলোচনার বিষয়। এদিকে জুঁইয়ের স্বামী লিটন গাজী মামলায় উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী ব্যবসায়িক পার্টনার মিলনের সঙ্গে ঝিকরগাছায় যাচ্ছিলেন। সে সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাত পিকআপ তাদের গাড়িকে ধাক্কা দেয়, ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে স্ত্রীর কোন ধরনের ব্যবসা ছিল সে বিষয়ে মামলায় কিছুই উল্লেখ করেননি তিনি। এ বিষয়ে জানতে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাকে বাড়িতেও পাওয়া যায়নি। 

কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত জানান, ঘটনার পর থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নানা বিষয় নিয়েই পুলিশ তদন্ত করছে।

বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম
বিনিয়োগ বাড়াতে নেওয়া হয়েছে সাহসী উদ্যোগ, বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ
ছবি: সংগৃহীত

দেশে বিনিয়োগ বাড়ানো এখন অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ডলারসংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক-প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাশিত গতিতে বাড়ছে না। বরং সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এমন বাস্তবতায় নতুন বাজেটে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগের কথা বলেছে। পাশাপাশি বন্ধ শিল্পকলকারখানা চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজও দিয়েছে সরকার। 

বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রায় এক দশক ধরে জিডিপির ২২-২৩ শতাংশের আশেপাশে আটকে আছে। অথচ দেশের উন্নতির জন্য এই বিনিয়োগ কমপক্ষে ৩০ শতাংশ হওয়া উচিত। 

সরকার এবারের বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা বলেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিল্প খাতে কর সুবিধা অব্যাহত রাখা, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পপার্কে অবকাঠামো উন্নয়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার উদ্যোগ, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসা সহজীকরণ উন্নত করার পরিকল্পনা। এ ছাড়া কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সরকার বলছে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বেসরকারি খাতকেই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হলেও সেগুলো সমাধানের স্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি। শুধু সমস্যাগুলো উল্লেখ করলেই হবে না, বরং সেগুলো দূর করার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হন। কেননা, শুধু বাজেটে প্রণোদনা বা ঘোষণা দিলেই বিনিয়োগ বাড়ে না; বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই সবচেয়ে বড় বিষয়। বর্তমানে সেই আস্থার জায়গাটিই দুর্বল। তাদের মতে, ব্যাংকিং খাতের তারল্য সংকট এবং উচ্চ সুদের হার নতুন বিনিয়োগে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে উঠেছে। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ পাচ্ছেন না, আবার যারা পাচ্ছেন তাদের জন্য ঋণের খরচও বেড়েছে। ফলে নতুন শিল্প স্থাপন বা সম্প্রসারণে অনীহা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা শিল্প খাতের বড় উদ্বেগ। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিতে সতর্ক থাকছেন।

এই প্রসঙ্গে সাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে সংস্কারের মাধ্যমে একটি প্রকৃত বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হলেও সেগুলো সমাধানের স্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেওয়া হয়নি। শুধু সমস্যাগুলো উল্লেখ করলেই হবে না, বরং সেগুলো দূর করার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হন। তিনি বলেন, বাজেটে সরকারের ঘোষিত বিনিয়োগ উদ্যোগ আংশিক বাস্তবায়ন সম্ভব হলেও স্বল্প সময়ে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রবাহ তৈরি করা কঠিন হবে। কারণ অর্থনীতির সামষ্টিক স্থিতিশীলতা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলা হলেও বাস্তবে বাংলাদেশ এখনো আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে রয়েছে। কেননা, একই ধরনের শ্রমবাজার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অনেক বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশকে পাশ কাটিয়ে অন্য দেশে যাচ্ছে, কারণ সেখানে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ। শুধু কর রেয়াত দিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আসে না; প্রয়োজন আইনের শাসন, চুক্তি বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা, মুনাফা স্থানান্তরের স্বচ্ছ ব্যবস্থা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো।

এ প্রসঙ্গে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে শুধু কর ছাড়, শুল্ক সুবিধা বা প্রণোদনা যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল ব্যবসা পরিবেশ, কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অপরিহার্য। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বেসরকারি খাত বিনিয়োগ করবে, কিন্তু বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ব্যবসা পরিচালনার উপযোগী পরিস্থিতি সৃষ্টি করা রাষ্ট্রেরই কাজ। এই পরিবেশ নিশ্চিত না হলে কেবল প্রণোদনা বা নীতিগত ঘোষণা দিয়ে কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগ অর্জন সম্ভব নয়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা নতুন নয়; বরং বাস্তবায়নই মূল সমস্যা। বিভিন্ন সময়ে কর অবকাশ, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ওয়ান স্টপ সার্ভিস, দ্রুত অনুমোদনের মতো নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। তাদের মতে, প্রশাসনিক জটিলতা, অনুমোদনে দীর্ঘসূত্রতা, ভূমিসংকট, দুর্নীতি এবং নীতির ধারাবাহিকতার অভাব বিনিয়োগ পরিবেশকে দুর্বল করে রেখেছে। অনেক ক্ষেত্রেই নীতিগত ঘোষণা থাকলেও মাঠপর্যায়ে উদ্যোক্তারা প্রত্যাশিত সুবিধা পান না।

তাদের মতে, এবারের বাজেটে উৎস করকে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করায় ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। শিল্পের কাঁচামালে উৎসে কর ৪ শতাংশে হ্রাস, ৬০টি নিত্যপণ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে উৎসে কর, পাঁচ বছরের কর কাঠামোর আগাম ঘোষণা এবং স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ইলেকট্রিক যানবাহন খাতে কর ছাড়ের বিষয়টি বেশ প্রশংসার যোগ্য। ভ্যাটের হার না বাড়িয়ে করের পরিধি সম্প্রসারণ এবং ত্রিমাসিক অনলাইন ভ্যাট রিটার্নের বিধানকে স্বাগত জানান তারা। তবে মূল্যস্ফীতি সত্ত্বেও করমুক্ত আয়সীমা অপরিবর্তিত রাখা ও সর্বোচ্চ আয়কর ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ হতাশাজনক। তবে বৈদ্যুতিক গাড়ি, মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, এসি ও প্রযুক্তিপণ্যে কর হ্রাস দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করবে। মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসারে সহায়ক হবে।

অর্থনীতিকে গতিশীল করতে ব্যাংকঋণের সুদহার কমানো, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি (গ্যাস-বিদ্যুৎ) সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ঘন ঘন রাজস্বনীতি পরিবর্তন না করার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মীর নাসির। খবরের কাগজকে তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য কর ছাড়ের চেয়েও বেশি প্রয়োজন নীতি-স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ। উদ্যোক্তা যদি মনে করেন আগামী বছর নীতিমালা বদলে যাবে, তাহলে তিনি বড় বিনিয়োগে যাবেন না। পাশাপাশি বাজেটে যেসব আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক সংস্কারের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো কাগজ-কলমে না রেখে মাঠপর্যায়ে কতটুকু বাস্তবায়িত হয় এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভাগ্যে এর সুফল কতটুকু পৌঁছায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। 

একই বিষয়ে ঢাকা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটকে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা যায়। তবে উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং ঘোষিত সংস্কারের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপরই নির্ভর করবে এই বাজেটের প্রকৃত সাফল্য। তবে বাজেটের ঘাটতি পূরণে সরকার যদি ব্যাংক থেকে অতিমাত্রায় ঋণ নির্ভর হয়, তাহলে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি সরকার সত্যিকার অর্থে প্রশাসনিক বাধা কমাতে পারে, দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে এবং নীতি-অনিশ্চয়তা দূর করে, তাহলে ধীরে ধীরে বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। 

বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
বরিশালে হাম-ডেঙ্গুর মাঝে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে ডায়রিয়াও
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

দেশজুড়ে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই বরিশালে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। তীব্র গরম, দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণে প্রতিদিনই নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ধারণক্ষমতার চেয়ে অধিক হারে রোগী ভর্তি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং  সদর হাসপাতালে অনেক রোগীকেই মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সংক্রামক রোগের এই বহুমুখী চাপ জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।

বরিশাল সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত আট দিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ১৪২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১৭ থেকে ২১ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। যদিও অনেক রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন, তবুও নতুন আক্রান্তের ধারাবাহিকতা উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।

বরিশাল সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ডায়রিয়া রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা মাত্র চারটি। রোগীর চাপ সামাল দিতে অতিরিক্ত ছয়টি শয্যা যুক্ত করে মোট ১০টি বেড চালু করা হয়েছে। তবে শয্যার তুলনায় প্রতিদিন রোগী বেশি আসায় অনেককেই হাসপাতালের মেঝে, বারান্দায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রোগীর স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

চিকিৎসা নিতে আসা আশিকুর রহমান বলেন, ‘হঠাৎ পাতলা পায়খানা ও বমি শুরু হয়। শরীর দুর্বল হয়ে পড়লে হাসপাতালে আসি। এখানে এসে দেখি অনেক রোগী ভর্তি। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়নি। হাসপাতাল থেকেই বেশির ভাগ ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে।’

তাসলিমা বেগম নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘আমার শ্বশুর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছি। রোগীর সংখ্যা এত বেশি যে ওয়ার্ডে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গরমের কারণে আশপাশের অনেক মানুষও অসুস্থ হচ্ছেন।’
সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুন ভর্তি হন ১৩ জন, ৫ জুন ২০, ৬ জুন ১৩, ৭ জুন ১৯, ৮ জুন ২১, ৯ জুন ১৮, ১০ জুন ১৭ এবং ১১ জুন ২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। 

বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং নিরাপদ খাদ্য গ্রহণে অসচেতনতার কারণে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত স্যালাইন, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী মজুত রয়েছে। পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্ম ও বর্ষার শুরুতে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। দূষিত পানির মাধ্যমে রোগজীবাণু সহজে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং খোলা খাবার এড়িয়ে চলার বিকল্প নেই।

এদিকে দেশে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. লোকমান হাকিম বলেন, ‘হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতেও প্রতিদিন ৫০ জনের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। এর মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে স্বাস্থ্য বিভাগের ওপর চাপ আরও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা এখন খুবই জরুরি, নইলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।’

ডা. লোকমান হাকিম আরও বলেন, ‘ডায়রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। পর্যাপ্ত স্যালাইন গ্রহণ ও পানিশূন্যতা প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

ময়মনসিংহে হামে উৎকণ্ঠা আর জীবন বাঁচানোর লড়াই

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
ময়মনসিংহে হামে উৎকণ্ঠা আর জীবন বাঁচানোর লড়াই
ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে এক শিশু। ছবিটি সম্প্রতি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে তোলা/ খবরের কাগজ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে এখন কেবলই উৎকণ্ঠা আর জীবন বাঁচানোর লড়াই। গত তিন মাসে দুই হাজারেরও বেশি শিশু আক্রান্ত ও ৪৯ জনের মৃত্যু পরিস্থিতির ভয়াবহতা ফুটিয়ে তুলেছে। শয্যাসংকটে মেঝেতে ঠাঁই হওয়া অসুস্থ শিশুদের কষ্ট আর স্বজনদের নিরন্তর অপেক্ষা যেন এক নীরব স্বাস্থ্যসংকটের প্রতিচ্ছবি। আইসিইউহীন এই লড়াইয়ে চিকিৎসকদের নিরলস চেষ্টা সত্ত্বেও বাড়ছে উদ্বেগ।
গত মার্চের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়া হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন শিশু ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে বাড়ছে চাপ।

সরেজমিন ঘুরে ওয়ার্ডের প্রতিটি কোণেই অসহায়ত্বের দৃশ্য চোখে পড়ে। অনেক শিশুর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কারও উচ্চ জ্বর, পাশাপাশি ভুগছে নিউমোনিয়ায়, কারও আবার তীব্র শ্বাসকষ্ট। নির্ধারিত শয্যাসংকটের কারণে অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সন্তানের মাথার পাশে বসে থাকা মায়েদের চোখে ঘুম নেই, বাবাদের মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে আসা সাবিনা ইয়াসমিন মুক্তা জানান, সম্প্রতি তার আট মাস বয়সের শিশু মেয়ে রাইসা তাবাসসুমের শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার পর স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া হয়েছিল। সাময়িকভাবে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। তবে পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে আনা হয়। এখন সাবিনা ইয়াসমিন শুধু অপেক্ষা করছেন সন্তানের সুস্থতার সংবাদ শোনার জন্য।

একই ধরনের উদ্বেগে দিন কাটছে ময়মনসিংহ সদর এলাকার বহু পরিবারের। কেউ হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত, কেউ আবার হৃদরোগজনিত জটিলতায় ভুগছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পরিবারের একাধিক শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এতে শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই নয়, পরিবারগুলোকে পড়তে হচ্ছে চরম মানসিক ও আর্থিক সংকটে।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম। তার তিন শিশু ও দুই আপন ভাতিজা হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি আছে।
আব্দুল করিম বলেন, ‘আমার ১৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার, দুই বছরের ছেলে রাফসান ও ৪ মাস বয়সের আরেক মেয়ে সাইফা আক্তার হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছে। এ ছাড়া আমার ৫ বছর বয়সের ভাতিজা জুবায়েদ ও ৩ মাস বয়সের আরেক ভাতিজা আয়ানকে ভর্তি করা হয়েছে। সবাই হামের উপসর্গের পাশাপাশি শাসকষ্ট, জ্বর, কাশি ও পাতলা পায়খানায় ভুগছে। শিশুদের নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র বলছে, গত ১৭ মার্চ থেকে ১২ জুন সকাল পর্যন্ত (প্রায় তিন মাস) হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৪৩ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৪৯ শিশুর মৃত্যু পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

চিকিৎসকরা জানান, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে টিকাপ্রাপ্ত ও টিকাবিহীন–দুই শ্রেণির শিশু রয়েছে। তবে অপুষ্টি, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা ও দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণে অনেক ক্ষেত্রে জটিলতা মারাত্মক আকার ধারণ করছে। সংক্রমণ মোকাবিলায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে একটি বিশেষ হাম কর্নার চালু করে। পরে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত তিনটি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।

তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে শিশুদের জন্য পূর্ণাঙ্গ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) না থাকা। গুরুতর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিকল্পব্যবস্থা হিসেবে বাবল সিপ্যাপ প্রযুক্তির মাধ্যমে অক্সিজেন সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। 

চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল নিশ্চিত করা গেলে শিশুদের জন্য আইসিইউ চালু করা সম্ভব হবে, যা সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা বলেন, সময়মতো এমআর টিকা গ্রহণ, অবিভাবকদের সচেতনতা, আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে হামের অধিকাংশ জটিলতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ ছাড়া জটিল অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার আগেই শিশুকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, ‘আক্রান্ত শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। রোগীর চাপ অনেক বেশি হলেও চিকিৎসকরা সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছেন।’

নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম
নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন
ছবি: সংগৃহীত

চোখের নানা সমস্যা স্বত্বেও টাকার অভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ৭০ জন দরীদ্র মানুষ পেতে যাচ্ছে বিনা খরচে চোখের ছানি অপারেশনের সুযোগ।

শনিবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী ফ্রি পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেেষে ওই ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়। 

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক চক্ষু শিবিরে ওই কর্মসূচী পালিত হয়।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক ড.মোঃ জিয়াউল হক জিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,নলডাঙ্গা ডায়াবেটিক সেন্টারে গাক চক্ষু হাসপাতালে ওই চক্ষু শিবিরের আয়োজন করা হয়।

দিনব্যাপী শত শত রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হয়। এর মধ্যে ৭০ জনকে ছানি অপারেশনের জন্য চিহ্নিত করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান,বাছাইকৃত ওই ৭০ জন ছানি  অপারেশনর যোগ্য রোগীকে বগুড়ায় গাক চক্ষু হাসপাতাল পাঠানো হবে।সেখানেই অপারেশন হবে। তবে রোগীদের  যাওয়া, আসা, অপারেশন, ঔষধ, চশমা, ও থাকা খাওয়ার কেন খরচ দিতে হবে না।

দিনব্যাপী ওই চক্ষু চিবিরে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি মামুনুর রশিদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন,ছাত্র শিবিরের সাবেক জেলা সভাপতি ও বর্তমান কেন্দ্রীয় সহকারী দপ্তর সম্পাদক আফতাব আলী, নলডাঙ্গা শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের পৌরসভা সভাপতি সাইফুল ইসলাম, হাজী কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক  আবুল হোসেন, নিজাম উদ্দিন ও জিয়ারুল।

কামাল মৃধা/এসএন

চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৪০ পিএম
চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে দিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমধর্মী চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় অংশ নেওয়া শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশীর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ প্রার্থী প্রাথমিক বাছাই ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে নগরীর কাদিরগঞ্জ এলাকার শাহ ডাইন কনভেনশন সেন্টারে এ চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এবং ‘রেইজ’ প্রকল্পের আওতায় ‘প্রয়াস’সহ তিনটি সামাজিক সংগঠন যৌথভাবে মেলার আয়োজন করে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, মেলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের ২৭টি প্রতিষ্ঠান এবং তিন শতাধিক চাকরিপ্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টলে দক্ষ জনবলের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ কর্মী, সেলসম্যান এবং কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য বিপুলসংখ্যক আবেদন গ্রহণ করা হয়।

মেলায় চাকরিপ্রত্যাশীরা নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সিভি জমা দেন এবং সরাসরি মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। প্রার্থীদের দক্ষতা ও যোগ্যতা যাচাই শেষে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আবেদনকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরির জন্য নির্বাচিত করা হয়।

নিয়োগ কার্যক্রমের পাশাপাশি চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য সিভি হালনাগাদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন এবং চাকরির প্রস্তুতি বিষয়ক পরামর্শ ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ফলে তরুণ চাকরিপ্রত্যাশীরা একই স্থানে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগও পান।

আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ-তরুণীদের বিভিন্ন কর্মমুখী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করা এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করাই এ মেলার মূল উদ্দেশ্য।

অনুষ্ঠানে শতফুল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক নাজিম উদ্দীন মোল্লার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) টুকটুক তালুকদার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর উপমহাব্যবস্থাপক মো. রফিকুল ইসলাম, রেইজ প্রকল্পের পিকেএসএফ উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী গোলাম জিলানী, প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক হাসিব হোসেন এবং শাপলা গ্রাম উন্নয়ন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মোহসিন আলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এনায়েত করিম/এসএন