ঢাকা ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭ হালুয়াঘাটে ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ ঝিনাইদহে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল জাতীয় মুট কোর্ট প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ঢাবি পবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ গাজীপুরে চাঁদাবাজির অভিযোগে জনতার হাতে যুবদল নেতা আটক বাউফলে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের স্বাক্ষর নকলের অভিযোগ চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাপাহারে মতবিনিময় সভা বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ রুমিন ফারহানার উচ্চশিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষায় বড় হও জবানের যে ছোট্ট কথায় অফুরন্ত সওয়াব মেলে সমুদ্র বাঁচলে পৃথিবী বাঁচবে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু বরগুনায় নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ট্রেড ফাইন্যান্স অ্যানালিটিক্স সফটওয়্যার উদ্বোধন শাওমি নিয়ে এল ৯.৭ ইঞ্চির নতুন রেডমি প্যাড ২ ছয় লাখ শিক্ষক-কর্মচারী ঈদের আগে বেতন না পাওয়ায় সংসদে ক্ষোভ চীন-মঙ্গোলিয়া যৌথ মহড়ায় নজর কাড়লো রোবটিক উলফ চকরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ নিহত ২ জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় নীতিমালা আধুনিকায়ন করছে সরকার: ত্রাণমন্ত্রী দেশে প্রতিবছর অপচয় হয় ৩৫ লাখ টন খাদ্য: প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী গৃহকর্মী রোবট! দেশের সম্মান রক্ষায় জীবন বাজি রাখছেন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রামিসার মৃত্যু, অপরাধীর শাস্তি এবং সমাজের দায় বিশ্বকাপের উন্মাদনা এবার রঙ বাংলাদেশে নাচোলে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে মৎস্য সমবায় সমিতির নিবন্ধন জাতিসংঘ: উন্নয়ন অংশীদার নাকি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ
Nagad desktop

রংপুরে রোগীর শরীরে যাচ্ছে মাদকসেবীদের রক্ত

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৫, ১০:১৬ এএম
আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৫, ১২:১২ পিএম
রংপুরে রোগীর শরীরে যাচ্ছে মাদকসেবীদের রক্ত
(১) রক্ত দেওয়ার জন্য এক যুবক ডোনার আদর্শ গ্রুপিং সেন্টারে বসে আছেন (২) শহীদ গ্রুপিং সেন্টারে সিলসহ আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা রক্তের ক্রসমেচিং রিপোর্টের ফরম (৩) কোনো সাইনবোর্ড ব্যবহার না করে রংপুর গ্রুপিং সেন্টার তাদের কার্যক্রম চালায় (বাঁয়ে) (৪) রক্তের ব্যাগের সঙ্গে নামকাওয়াস্তে একটি মেমো দেওয়া হয়েছে। সবগুলো ব্লাড ব্যাংক রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় তাদের কার্যক্রম চালায়। ছবি: খবরের কাগজ

৭ জুলাই সকাল ৯টা। রংপুর নগরের ধাপ এলাকা। স্থানীয় আটতলা মসজিদসংলগ্ন ‘রংপুর গ্রুপিং সেন্টার’র সামনে মাঝবয়সী এক ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরনে লুঙ্গি আর হাফহাতা শার্ট। পায়ে জুতা নেই। উষ্কখুষ্ক চেহারা। হাঁটাচলাও রহস্যজনক। কথা হয় তার সঙ্গে। নাম জানালেন নিলু (ছদ্মনাম)। রক্ত বিক্রি করতে এসেছেন! ১৩ দিন আগেও এই প্রতিষ্ঠানে তিনি এক ব্যাগ (৪৫০ এমএল) রক্ত বিক্রি করেছিলেন। 

বিনিময়ে পেয়েছিলেন ৩০০ টাকা। কেন রক্ত বিক্রি করবেন- এমন প্রশ্নে তার সাবলীল উত্তর, ‘এই টাকা দিয়ে মাদক কিনে সেবন করব। শুধু আমি না, আমার মতো আরও অনেকে এভাবে রক্ত বিক্রির টাকায় মাদক সেবন করেন।’ 

‘রংপুর গ্রুপিং সেন্টার’ একমাত্র প্রতিষ্ঠান নয়। নগরীর ধাপ এলাকায় এমন আরও একাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যেখানে মাদকসেবীরা রক্ত বিক্রি করেন। তাদের রক্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো পরীক্ষা করা হয় না। এসব রক্ত আবার বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রতিব্যাগ ১ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। কোনো প্রতিষ্ঠানেরই ব্লাডব্যাংকের লাইসেন্স নেই। নামকাওয়াস্তে দু-একটি ফ্রিজ, সাদা অ্যাপ্রোন আর কিছু ছাপা ফরমই এসব প্রতিষ্ঠানের একমাত্র সম্বল। অথচ তারা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতালে দিনের পর দিন রক্ত সরবরাহ করে আসছে। এসব রক্ত সঠিক পদ্ধতিতে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ না হওয়ায় রোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অথচ এত ঝুঁকি সত্ত্বেও রংপুরের ‘চিকিৎসানগরী’ হিসেবে পরিচিত ধাপ এলাকায় এমন একাধিক প্রতিষ্ঠান নির্বিঘ্নে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।  

রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর থেকে নগরের ধাপ এলাকায় এসেছেন আকিবুল ইসলাম। তার এক রোগীকে সমতা ক্লিনিক নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার এক ওয়ার্ডবয়কে সঙ্গে দিয়ে তাকে রংপুর গ্রুপিং সেন্টারে পাঠিয়েছেন। সেখান থেকে এক হাজার টাকা দিয়ে তিনি একব্যাগ রক্ত কেনেন। কোনো পরীক্ষা করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে আকিবুল বলেন, ‘আমি লেখাপড়া জানি না। তাই তেমন কিছু বুঝিও না। ক্লিনিকের ম্যানেজার রক্ত নেওয়ার জন্য সঙ্গে লোক পাঠিয়েছেন। পরীক্ষা করিয়েছেন কি না তা আমি জানি না।’

কথা হয় সমতা ক্লিনিকের ম্যানেজার মো. রিঙ্কুর সঙ্গে। তিনি দাবি করেন, ‘আমরা মাদকসেবীদের রক্ত কিনি না। বিভিন্ন ক্লিনিকে অতিরিক্ত রক্ত থাকে। সেগুলো কিনে আনি। সবচেয়ে বেশি আনি ডক্টরস ক্লিনিক থেকে।’

নগরের যত অবৈধ ব্লাডব্যাংক 
ধাপ কাকলী লেন রোডের মোজাহিদ গ্রুপিং সেন্টার (পরিচালনা করেন মেহেদী), রংপুর গ্রুপিং সেন্টার (রিঙ্কু), আরকে রোডের হাবিব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশে ফার্স্ট লাইফ এইড গ্রুপিং সেন্টার, পর্ব গ্রুপিং সেন্টার (প্রদীপ রায়), আপডেটের গলিতে সেতু গ্রুপিং সেন্টার (শরীফ), ধাপ পুলিশ ফাঁড়ির পেছনে আদর্শ ল্যাবরেটরি (ফরিদ), মেট্রো ডিজিটাল ল্যাবের গলিতে নিউ ঢাকা ট্রান্সফিউশন সেন্টার (নুর ইসলাম), মৌচাক বেকারির পেছনে বন্ধন গ্রুপিং সেন্টার (মিলন), এলএস গ্রুপিং সেন্টার (লিটন), মক্কা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতরেই শহীদ গ্রুপিং সেন্টার (শহিদুল ইসলাম), রিঙ্কু ব্লাড গ্রুপিং সেন্টার, পপি গ্রুপিং সেন্টারসহ একাধিক ব্লাডব্যাংক রয়েছে। সাইনবোর্ড, ব্যানার বা কোনো ধরনের প্রচার ছাড়াই বিভিন্ন অলিগলিতে চলে এসব প্রতিষ্ঠান। হঠাৎ দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে কোনো প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

গত ২৫ জুন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একজনকে ভর্তি করা হয় ধাপ এলাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে। তখন তার দুই ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। নিউ ঢাকা ট্রান্সফিউশন সেন্টার নামে একটি ব্লাডব্যাংক থেকে রক্ত নেওয়া হয়। ওই রোগীর সঙ্গে ছিলেন রংপুর সিসিআই কলেজের শিক্ষার্থী তানভীন আক্তার। পরীক্ষা করে রক্ত নেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তো এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই। আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরও যদি পরীক্ষা না করায়, সেক্ষেত্রে আমাদের কী করার থাকে? তারা পরীক্ষা বাবদ আমাদের থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছিল। আমার মনে হয়, পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট জড়িত।’ জানা গেছে, তিনি যে প্রতিষ্ঠান থেকে রক্ত নিয়েছিলেন সেই ঢাকা ট্রান্সফিশন সেন্টার ও পর্ব ট্রান্সফিশন সেন্টারকে এর আগে একাধিকবার সিলগালা করা হয়েছিল।

সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, ব্লাডব্যাংক-সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য এখন পর্যন্ত তারা জেলায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে। সেগুলো হলো- কছির উদ্দিন মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আইডিয়াল হেলথ সিটি। নতুন করে লাইসেন্সের আবেদন করেছে ওয়ান প্লাস ব্লাডব্যাংক, প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো অনুমোদন পায়নি।

জানা গেছে, বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালের ম্যানেজাররা রোগীর স্বজনদের এসব অবৈধ সেন্টারে পাঠিয়ে কমিশন নিচ্ছেন। কমিশন বাবদ রোগীপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হয়। ক্লিনিকের ওয়ার্ডবয়রাও পাচ্ছেন পকেট খরচ। ‘রোজ’ নামে একটি হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় আয়ুব আলী স্বীকার করেছেন, রোগী পাঠিয়ে তারা ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন।

পর্ব গ্রুপিং সেন্টারের পরিচালক প্রদীপ কুমার মিলন বলেন, ‘কমিশন ব্যবসায়ীরা আমাদের নষ্ট করেছেন। কমিশন কম হলে তারা অন্য জায়গায় রোগী পাঠান। তাই রোগী ধরতে গিয়ে অতিরিক্ত কমিশন দিয়ে হলেও তাদের শরণাপন্ন হতে হয়।’

বিধি অনুযায়ী, ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেন্টারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, ব্লাড কালেকশন রুম, সার্বক্ষণিক একজন এমবিবিএস চিকিৎসক, একজন টেকনোলজিস্ট, ব্লাডব্যাংক রেফ্রিজারেটর, এইচআইভি, এইচবিভি, এইচসিভি, ভিডিআরএল, ম্যালেরিয়া রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা, ওয়েট মেশিনসহ ওই কক্ষের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে এসি থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ ধাপ এলাকায় গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন কোনো ব্লাডব্যাংকে এসব নিয়মের বালাই নেই।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মুফেক মাহমুদ বলেন, ‘ব্লাডব্যাংকের জন্য নির্দিষ্ট লজিস্টিক, রেজিস্ট্রার, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। এসব না থাকলে তা হবে সম্পূর্ণ প্রতারণা।’

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী উম্মে ফাতেমা বলেন, ‘এটি সিভিল ক্রাইম। স্বাস্থ্য বিভাগের দেখার কথা। এটি এখনো আমাদের অবজারভেশনে আসেনি। এলে আমরা স্বাস্থ্য বিভাগকে জানাব।’

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. শহীন সুলতানা বলেন, ‘লাইসেন্সবিহীন সেন্টার চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিসি অফিসের সহায়তায় অভিযান চালানো হবে।’

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল বলেন, ‘খোঁজখবর নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এসব ব্লাডব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
ভাঙ্গায় বিয়েবাড়িতে খাবার নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৭
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে খাওয়ার সময় টেবিলের নিচে মাংস জমা করা নিয়ে কনে পক্ষ ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন। 

সোমবার(৮ জুন) বিকেলে উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের দেওড়া নয়াকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন- মো. আরিফ মিয়া, সহিদ মাতুব্বর, ছোরাপ মাতুব্বর ও মমতাজ বেগমসহ বেশ কয়েকজন। তাদের কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার দেওড়া নয়াকান্দা গ্রামের লাভলু শেখের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বর পক্ষ,আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীদের দাওয়াত দেওয়া হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানে গ্রামের কয়েকজন খাওয়ার সময় টেবিলের নিচে মাংস জমা করে এবং নষ্ট করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

কালামৃধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল মাতুব্বর বলেন, বিয়ে বাড়িতে মাংস খাওয়া নিয়ে পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। পরে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে মাংস খাওয়া নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েক জন আহত হন। পরে স্থানীয় মুরব্বিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি মিমাংসা হয়েছে। 

কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু, পাশে মিলল আরেক নারীর মরদেহ
ছবি: খবরের কাগজ

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার মিরহামজানি এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে মুক্তা (৩০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। 

সোমবার (৬ জুন) সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মুক্তা ওই এলাকার সুজন মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বামী ও ৭ বছর বয়সী সন্তানকে নিয়ে রেললাইন ধরে বাবার বাড়ি যাওয়ার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রেন তাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এদিকে একই এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহে পচন ধরায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের ধারণা, কয়েকদিন আগে তাকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

উভয় মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় শনাক্ত ও মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

টাঙ্গাইল কালিহাতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জুয়েল/নাঈম

পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৩ পিএম
আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টায় ১০ জনকে ফিরিয়ে নিলো বিএসএফ
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টায় আটকে থাকা শিশুসহ ১০ নারী-পুরুষকে চার দিনের মাথায় অবশেষে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

রবিবার (৭ জুন) রাতে কয়েক দফায় ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে শিশুসহ ওই ১০ জনকে সরিয়ে ভারতে নিয়ে যায় বিএসএফ। পরে তাদের সরিয়ে নেওয়ার পর আবারও সীমান্তের লাইট চালু করে তারা।

এর আগে শুক্রবার ভোরে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এদিকে গত রবিবার দুপুর ১২টার দিকে আবারও ভারতের অংশের শূন্যরেখা থেকে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ভারতীয় সীমান্তরেখা থেকে পুশইনের চেষ্টায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের বিএসএফ ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেলেও বিজিবির টহল ও অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া অনুপ্রবেশ ও পুশইন ঠেকাতে জেলার বিভিন্ন সীমান্তে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় বড় লবাড়ি প্রধানপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোহাগ বলেন, ‘রবিবার রাত দেড়টার দিকে প্রথমে বিএসএফ ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে। পরে আবার চালু করে। এভাবে দুই-তিনবার লাইট বন্ধ করার পর তারা চলে যায়। আমরা এমন ঘটনা আর দেখতে চাই না।’

একই কথা বলেন আতাউর রহমান নামে আরেক স্থানীয় যুবক বলেন, ‘পুশইনের ঘটনা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। বিজিবির সঙ্গে আমরা সব সময় রয়েছি। বিএসএফ ওই ১০ জনকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে, এটি ভালো করেছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও মজবুত হোক এবং দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সম্পর্কও ভালো থাকুক।’

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় আমরা কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার করেছি।  রবিবার রাতে বিএসএফ যে ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল, তাদের সবাইকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে। বড়বাড়ি সীমান্তে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আমাদের টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।’ 

রনি মিয়াজী/রিফাত/

চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
চমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দ্বিতীয় দিনের কর্মবিরতি
ছবি: সংগৃহীত

ছয় দফা দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মত কর্মবিরতি পালন করছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রবিবার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

সোমবার (৮ জুন) কর্মবিতরতির পাশাপাশি তারা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ নকর্মসূচিও পালন করেন।

এদিকে, তাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সোমবার সকাল থেকে বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকরাও কর্মবিরতি শুরু করেছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক ইরফানুর রহমান বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।

তবে দাবি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। আলোচনার পর কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসবে।

এদিকে রোগীর স্বজনদের অভিযোগ চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে তারা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। স্বাভাবিক সময়ে তারা অন্তত ডিউটি ডকটরস রুমে গিয়ে চিকিৎসককে রোগীর তাৎক্ষণিক সমস্যার কথা বলতে পারতেন। তারা দ্রুত এসে সমাধান দিতেন কিন্তু এখন সেই সুযোগ নেই।

রোগীদের সেবায় বিঘ্ন ঘটার বিষয়ে ইরফানুর রহমান বলেন, জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ এবং ওয়ার্ডগুলোতে সেবা চালু আছে। যেহেতু আমরা কর্মবিরতিতে আছি তাই সেবায় বিঘ্ন ঘটাই স্বাভাবিক।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছয় দফাসমূহ হলো, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের গত ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশনা দেওয়া, স্বাস্থ্যকর্মী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং সরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো প্রণয়ন, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর, ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিএমডিসি ও বাংলাদেশ
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে নির্ধারণ করা।

এসব দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন মানববন্ধন, সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।

ইন্টার্ন ডাক্তারদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
এতে বলা হয়, গত ১৯ মে মন্ত্রণালয় থেকে নীতিমালা জারির পর সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিসিপিএস কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনার ভিত্তিতে উপজেলায় প্রশিক্ষণ গ্রহণের শর্ত বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া এফসিপিএস প্রথম পর্বে উত্তীর্ণ বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীরা এখন থেকে বিসিপিএস স্বীকৃত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ নিলে প্রশিক্ষণ ভাতার আওতাভুক্ত হবেন। বাকি দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

নাঈম/

সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাপাহারে মতবিনিময় সভা

প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে সাপাহারে মতবিনিময় সভা
ছবি: খবরের কাগজ

নওগাঁর সীমান্তবর্তী এলাকায় পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে নওগাঁর সাপাহারে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সাপাহার উপজেলা হলরুমে স্থানীয় প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।

সভায় বক্তব্য রাখেন, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম ও সাপাহার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ।

বক্তারা বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনোভাবেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হতে দেওয়া যাবে না। এমন কিছু করা যাবে না যাতে দেশের শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। সীমান্তে অনুপ্রবেশসহ যাবতীয় অস্থিরতা ঠেকাতে বিজিবি কাজ করে যাচ্ছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন, সাপাহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশিষ কুমার, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান টকি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী লাবু, প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যক্ষ আব্দুন নুরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

হারুন/নাঈম