মাত্র ১০ টাকায় পূজার নতুন শাড়ি কেনার পাশাপাশি চাল, ডাল, চিনিসহ সংসারের অন্যান্য পণ্যও কিনতে পেরেছি। শারদীয় দুর্গাপূজার বাড়তি খরচের দুশ্চিন্তা মাথা থেকে চলে গেছে। যা আমাদের পূজার আনন্দ হাজার গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কথাগুলো বলছিলেন, চট্টগ্রাম শহরের পাথরঘাটা এলাকা থেকে ১০ টাকার বাজারে আসা বালা রানী দাশ। তিনি বলেন, ভাবতেও পারিনি দুর্গা পূজোর আগে আমাদের দরিদ্র সমাজের জন্য কেউ এত আনন্দ আয়োজন করবে! আজ আমরা খুব খুশি বিদ্যানন্দ এই আয়োজন করেছে।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন নগরের জামাল খান এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে নিন্ম আয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য ১০ টাকার পূজার বাজারের আয়োজন করেছে। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সেই বাজারের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার মাঝে দুঃস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের যেথাসে আয় ব্যয়ের হিসাব মেলাতে অনেকের কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় প্রধান উৎসবগুলোতে এসব বঞ্চিত মানুষের অংশগ্রহণ এক প্রকার বিলাসিতা ও অসম্ভব ব্যাপার। এই বাস্তবতায় আসন্ন শারদীয় দূর্গাপূজা উৎসবকে সামনে রেখে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে “১০ টাকায় পূজোর বাজার” নামে এই চ্যারিটি ইভেন্ট আয়োজন। প্রোগ্রামের স্লোগান হল “সবাই মিলে উৎসব সবাই মিলে বাংলাদেশ”।
দিনব্যাপী প্রোগ্রামে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন নিম্ন আয়ের এলাকা থেকে সহস্রাধিক শিশু, মহিলা ও বৃদ্ধ মানুষ অংশগ্রহণ করেন এবং ১০ টাকার বিনিময়ে পণ্য কিনতে এসব মানুষের আসা যাওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ফ্রি বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হয়।
এছাড়াও সবার জন্য ছিল নানা আনন্দ আয়োজন ও মিষ্টিমুখের ব্যবস্থা।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন তার বক্তব্যে বলেন " আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ ও শক্তি হচ্ছে ধর্মীয় সম্প্রীতি। আজ বিদ্যানন্দের এই ১০ টাকার পুজোর সুপারশপে আমি দেখতে পাচ্ছি সেই সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ! এখানে নাম মাত্র মূল্যে নতুন শাড়ি, লুঙ্গি, পাঞ্জাবি, ফ্রক, শার্ট যেমন পাওয়া যাচ্ছে তেমনি সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীও পাওয়া যাচ্ছে। এই ইনোভেটিভ আইডিয়া একদিকে যেমন উৎসবে গরীব মানুষের আনন্দের সহিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে অন্যদিকে সমাজে পজিটিভ একটি বার্তা যাবে। আমি তাদের এই উদ্যোগ কে স্বাগত জানাই।
বিদ্যানন্দের বোর্ড ডিরেক্টর জামাল উদ্দিন বলেন, সারাবিশ্বে ধর্মীয় সম্প্রীতি এখন শতাব্দীর সর্বনিম্ন পর্যায়ে আছে। সবাই হানাহানির মাঝে সমাধান খুজে। তাই আমরা এসব উৎসবকে ঘিরে সারা বিশ্বে সম্প্রীতির বার্তা পৌছে দিতে চাই। আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য সম্প্রীতিকে ধরে রাখতে চাই। আজকের ১০ টাকার পুজোর বাজারে যারা স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছে তারা প্রায় সবাই মুসলিম হলেও বেশিরভাগ গ্রহীতারা সনাতন ধর্মের। বিদ্যানন্দ সাহায্যের ক্ষেত্রে সবসময়ই জাত ও ধর্ম নিরপেক্ষ।
এসএন/