একনেকে অনুমোদন হওয়ার আগেই প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সংস্থাটির ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আওতাধীন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাস নির্মাণ’ প্রকল্পে এই অনিয়ম করেন স্বয়ং প্রধান প্রকৌশলী। চসিক মেয়রের অগোচরে গত জুন মাসে ৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকার দরপত্রটি আহ্বান করেন তিনি।
চসিক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই চসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ২৩১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। এই প্রকল্পের আওতায় নগরে সাতটি ভবন নির্মাণ করার কথা ছিল। নগরীর আন্দরকিল্লার বান্ডেল সড়কে তিনটি, জামালখানের ঝাউতলায় দুটি, ফিরিঙ্গিবাজার ও সাগরিকায় একটি করে ভবন নির্মাণ করার কথা। প্রতিটি ভবন হবে ১৪ তলাবিশিষ্ট। সাতটি ভবনে মোট ফ্ল্যাট থাকবে ১ হাজার ৩০৯টি।
চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানায়, বান্ডেল কলোনিতে জায়গা না পাওয়ায় তারা একটি ভবনের কাজ শুরু করতে পারেনি। তাই ওই ভবনটি ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে চসিকের নিজস্ব জায়গায় নির্মাণের প্রস্তাবসহ প্রকল্পটি সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায় ২০২৪ সালে। এতে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৭৮ কোটি টাকার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।
চলতি বছরের ৬ অক্টোবর সংশোধিত প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়নি। আইনত একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের আগে কাজের দরপত্র আহ্বানের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু নিয়ম না মেনে মাদারবাড়িতে পরিচ্ছন্নতা সেবকদের জন্য প্রস্তাবিত ভবন নির্মাণ কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। সাধারণত প্রকল্প পরিচালক দরপত্রের আহ্বান করলেও এখানে ব্যতিক্রম ঘটেছে। প্রকল্পের পরিচালক একজন নির্বাহী প্রকৌশলী হলেও দরপত্র আহ্বান করেছেন প্রধান প্রকৌশলী নিজেই। এই কাজের দরপত্রে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিকের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান, কাজ এগিয়ে রাখার জন্য তিনি দরপত্র আহ্বান করেছেন। তবে এখনো কাউকে কার্যাদেশ দেননি। প্রয়োজনে এই দরপত্র বাতিল করা হবে।
প্রকল্প পরিচালক না হয়েও দরপত্র আহ্বানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রকল্প পরিচালক হিসেবে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তিনি দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী নন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, একনেকে অনুমোদনের আগে প্রকল্পের দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি তিনি অবগত নন। কোনো অনিয়ম হলে দরপত্র বাতিল করা হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি খোঁজ নেবেন।
চসিক সূত্রে প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানা গেছে, ঝাউতলায় দুটি ভবনের মধ্যে একটির কাজ ১২তলা পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বান্ডেল সড়কের তিনটি ভবনের মধ্যে একটির কাজ শুরু হয়নি। বাকি দুটির মধ্যে একটির ১১তলা এবং অন্যটির পাঁচতলার ছাদ ঢালাই হয়েছে। এই তিনটি ভবনের কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হোসাইন কনস্ট্রাকশন-এডব্লিউআর ডেভেলপমেন্ট বিডি গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আর আসেনি। তখন থেকেই ভবন দুটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে নির্মিত ভবন দুটির কাজের চুক্তি বাতিলের আবেদন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফিরিঙ্গিবাজারের চারতলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই হয়েছে। সাগরিকার কাজ চলছে।
প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে যতটুকু কাজ সম্পন্ন হয়েছে তা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পরিমাপ করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যতটুকু কাজ করেছে সে পরিমাণ বিল পাবে।