ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম মোল্লার বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে খাদ্যবান্ধব ডিলারের চাল আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নতুন করে খাদ্যবান্ধব ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। এর প্রতিবাদে সাংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় ওই ওয়ার্ডের বিলনালিয়া মাদ্রাসায় লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ তুলে ধরেন ফরিদপুর মহানগর কৃষক দলের আহবায়ক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন।
এসময় তিনি তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, কৈজুরী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুদ্দীন মোল্লার ছেলে যুবলীগ ক্যাডার মো. সেলিম মোল্লার বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে খাদ্যবান্ধব ডিলারে চাউল আত্মসাতের সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। সে সময়ে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও এই সময়ে আবার নতুন করে খাদ্যবান্ধব ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই খাদ্য বান্ধব ডিলারে তার নাম দেওয়ার অর্থই হলো শহিদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করা। আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না যে পদধারী যুবলীগের এই নেতাকে নতুন করে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে নাম দেওয়া হয়েছে। তিনি ফ্যাসিবাদ আওয়ামী সরকারের সেই সময়ে ব্যাপক ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন এলাকায়। আর নতুন সরকার সেই যুবলীগ ক্যাডারকেই খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলারের তালিকায় নাম ঢুকালেন। এজন্য উপজেলা প্রশাসন দায়ী বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন এসব বিষয় নিয়ে গত ৬ অক্টোবর এলাকার মো. সরোয়ার মোল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। সেই অভিযোগের কোনো তদন্ত না করেই তাকে খাদ্য বান্ধব ডিলারে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আমরা এই ঘটনার তদন্তপূর্বক বিচারের দাবি করছি। একই সঙ্গে ফরিদপুরের খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও উপজেলা পিআইও এর বিরুদ্ধে অতি দ্রুত সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সেই আশাবাদ আমরা করছি।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী মো. সরোয়ার মোল্লা বলেন, বিগত পতিত সরকারের আমলে সেলিম মোল্লা ব্যাপক অনিয়মের মধ্যে চাল বিতরণ ও আত্মসাৎ করেছেন। তার পিতা মো. নুর উদ্দিন মোল্লা স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সে নিজেও যুবলীগ নেতা হওয়ার কারণে প্রভাব খাটিয়ে খাদ্য বান্ধব ডিলারের চাউল ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন। ওজনে কম চাল দেওয়া, মৃত ব্যক্তি ও বিদেশে এবং অন্যত্র চলে যাওয়া ব্যক্তির সব কার্ডের চাল আত্মসাৎ করেছেন। সে নিজের পরিবার এবং আপন খালু মোজা মোল্লাসহ পরিবারের একাধিক নিয়ম বহির্ভূত কার্ড দিয়ে চাল আত্মসাৎ করেছেন।
সাংবাদিক সম্মেলন থেকে খাদ্য বান্ধব ডিলার মো. সেলিম মোল্লার ডিলার বাতিল করে প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
সঞ্জিব দাস/মাহফুজ