ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ইংল্যান্ডের ফুটবল ও বুট চুরি করল কে? গণমাধ্যম সংস্কারে 'ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন' গঠনের তাগিদ মদে ট্যাক্স বাড়ানোই বিরোধী দলের দুঃখ: প্রধানমন্ত্রী বাজেটে জনগণের স্বস্তি হলেও বিরোধী দলের অস্বস্তি: প্রধানমন্ত্রী শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কুইজ ও রিচার্জ অফার, থাকছে জামাল ভূঁইয়ার সাথে খেলা দেখার সুযোগ গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে বিশেষ আয়োজন জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গাড়ি ভেঙে ইংল্যান্ড দলের সরঞ্জাম চুরি, গ্রেপ্তার ২ কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন শুধু সংখ্যা বাড়াতে বিশ্বকাপে আসেনি হাইতি বোয়ালমারীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা যদি এই ছবিগুলো আপনি না দেখে থাকেন শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কেমন ছিল প্রিয় রাসুল (সা.)-এর চুল মোবারক? কক্সবাজার সফরে প্রধানমন্ত্রী, চকরিয়া-পেকুয়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি সরকারের জনকল্যাণ-প্রযুক্তিনির্ভর বাজেটকে স্বাগত জার্মানি বিএনপির পরমাণু সুড়ঙ্গে মাইন পুঁতেছে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের দাবি কক্সবাজারের ‘পাতলী খাল’ পুনর্খনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী প্রাইম ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ৩য় পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত যেভাবে ট্রিলিয়নিয়ার হলেন মাস্ক এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট দুর্ঘটনার তদন্তে আরও সময় লাগবে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল ছাড়ে সম্মত হয়েছে আরব আমিরাত! ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের ঢল বরগুনায় প্যানেল চেয়ারম্যানের ওপর হামলা, গণপিটুনিতে যুবক নিহত
Nagad desktop

উত্তরাঞ্চলে ৬০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৭ এএম
উত্তরাঞ্চলে ৬০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি
জয়পুরহাটের হিচমী মণ্ডলপাড়ার একটি খেত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ধানগাছ কাটছেন দুই ব্যক্তি। ছবি: সাগর কুমার

সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় মন্থার প্রভাবে সৃষ্ট ঝড়-বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমির ফসল আংশিক বা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২ লাখেরও বেশি কৃষক। সব মিলিয়ে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬০ কোটি টাকায়।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ১ নভেম্বর পর্যন্ত টানা চার দিনের ঝড়-বৃষ্টিতে রোপা আমন, সবজি, মসলা ও পান চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি অঞ্চলে—বগুড়া, জয়পুরহাট, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলায়। এ চার জেলার ক্ষতির পরিমাণই প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহেল শামসুদ্দীন ফিরোজ বলেন, ‘মন্থার প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে বগুড়া অঞ্চলের ১ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে ৪২ হাজার ৮১২ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বগুড়াতেই সবজির ক্ষতি হয়েছে ৬ কোটি টাকারও বেশি। সব মিলিয়ে  ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৯ টন।’ চাষিদের করণীয় বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ধানের গাছগুলো দাঁড় করিয়ে বেঁধে দিলে ক্ষতি কম হবে। যেসব জমিতে পানি জমেছে, সেখান থেকে দ্রুত পানি বের করে দিলে ধান, সবজি ও মসলার ক্ষতি কমবে।’

শিবগঞ্জ উপজেলার ধোন্দাকলা গ্রামের কৃষক শ্রী নিৎপল এ বছর দশমিক ৪০ হেক্টর জমিতে ফুলকপি চাষ করেছিলেন। প্রায় সাত হাজার চারা লাগাতে তার খরচ হয় ৬০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করেছিলাম ফুলকপি বিক্রি করে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা আয় করব। কিন্তু বৃষ্টির কারণে পুরো খেত নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো কপিই আর বিক্রির উপযোগী নেই।’

সদর উপজেলার মেঘাগাছা গ্রামের রবিউল ইসলাম জানান, তিনি মহাস্থান হাট থেকে পাইকারি সবজি কিনে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন। তার পরিবার দশমিক ৫০ হেক্টর জমিতে গাজর, ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করেছিলেন। রবিউল বলেন, ‘বৃষ্টিতে গাজর, ফুলকপি আর বাঁধাকপির গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের গ্রামের প্রায় সবাই ক্ষতির মুখে পড়েছে।’

নন্দীগ্রাম উপজেলার পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃষক আশরাফুল ইসলাম এ বছর প্রায় দুই হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ করেন। টানা বৃষ্টিতে তার খেত তলিয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তিনি কাঁচা ধান কেটে নেন। আশরাফুল বলেন, ‘ধারণা ছিল চার টন ধান পাব, কিন্তু অপরিপক্ব হওয়ায় মিলবে হয়তো ৫০০ কেজির মতো। এক লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।’

রাজশাহী কৃষি অঞ্চলের চার জেলা- চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর ও নওগাঁয়ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৬৪৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪২ হাজার ৮৯৯ জন চাষি। আর্থিক ক্ষতি দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ১০ লাখ টাকারও বেশি।

রাজশাহীতে পানচাষিদের ক্ষতি তুলনামূলক বেশি। ২০ হেক্টর বরজের পান নষ্ট হয়ে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা। বরেন্দ্র অঞ্চলের অনেক জায়গায় জমিতে পানি আটকে আছে, নুয়ে পড়েছে ধানের শিষ। ফলে শীতকালীন সবজিরও বড় ক্ষতি হয়েছে।

রংপুর কৃষি অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম জানান, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও রংপুরে রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আলু, মরিচ ও গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজসহ নানা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৭৭ হেক্টর জমিতে। এতে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’

দিনাজপুর কৃষি অঞ্চল, যার অন্তর্ভুক্ত পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁ ও দিনাজপুর- তাতেও ফসলের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। ওই অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টিতে ফসল ক্ষতি হয়েছে ৩০৭ হেক্টর জমির, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকারও বেশি।’

তিনি জানান, আলুর জন্য খ্যাত এ অঞ্চলে কেবল আলুতেই ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার। ২৭০ টন সবজি ও ৮৯১ টন রোপা আমনও নষ্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৮৭৩ টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে । কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এবার ঝড়-বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আলু, বাঁধাকপি ও ফুলকপিতে। তবে আর্থিক দিক থেকে রোপা আমনের ক্ষতিই সবচেয়ে বড়।

উত্তরাঞ্চলের মাঠে এখনো অনেক ধান পড়ে আছে, কোথাও কোথাও জমিতে পানি আটকে রয়েছে। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বাকি ফসলও নষ্ট হবে।

বোয়ালমারীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৪২ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
বোয়ালমারীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা
ছবি: খবরের কাগজ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থকদের উৎসবমুখর অংশগ্রহণে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও কেক কাটা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অর্ধশতাধিক আর্জেন্টিনা সমর্থক অংশ নেন।

বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের ধুলপুকুরিয়া এলাকায় কেক কাটার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

পরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের অংশগ্রহণে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রাটি ধুলপুকুরিয়া এলাকা থেকে শুরু হয়ে বোয়ালমারী পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নির্ধারিত স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা, জার্সি ও বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রকাশ করেন। এ সময় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানের আয়োজকদের একজন আল-আমিন জানান, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ইতিবাচক বিনোদনের পরিবেশ গড়ে তোলাই হচ্ছে এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। আশাকরি এবারও আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ান হবে।

এনকেবি নয়ন/তামান্না রুপা/

শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৩০ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত ঝিনাইগাতী সদর বাজার, পানিবন্দি সড়ক ও দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ। ছবি: খবরের কাগজ

শেরপুরে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল থেকে নদীর পানি উপচে ঢুকতে শুরু করেছে ঝিনাইগাতী বাজারসহ আশেপাশের এলাকায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহর রক্ষা বাঁধ না থাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানি সামান্য বাড়লেই প্লাবিত হয় ঝিনাইগাতী সদর বাজারের সড়ক, দোকানপাট এবং নিম্নাঞ্চল। এবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাজারের বিভিন্নস্থানে পানি ঢুকে পড়ায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, দোকানে পানি ঢুকে যাওয়ায় মালামাল রক্ষায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক স্থানে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলেও দেখা দিয়েছে ভোগান্তি।

এদিকে, নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর বাঁতকুচি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, আজ শেরপুর পয়েন্টে ২৪ দশমিক ৫০ মিলিমিটার, নালিতাবাড়ী পয়েন্টে ৩৫ মিলিমিটার ও নাকুগাঁও পয়েন্টে ১৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

এ বিষয়ে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল খবরের কাগজকে বলেন, মহারশি নদীতে স্থায়ী বাঁধের জন্য জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুতই টেকসই বাঁধ নির্মাণ করতে পারব। যদি, বাঁধ নির্মাণ করতে পারি, তাহলে মানুষের যে দুর্ভোগ, সেটি অনেক আংশেই কমে যাবে।

শাকিল মুরাদ/আজহার.

ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
ময়মনসিংহে হাম উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে আরও ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে ৫০ শিশুর মৃত্যু হলো। এছাড়া গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরও ১৯ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে সেখানে চিকিৎসাধীন মোট ১০০ শিশু।

গত ২ জুন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর কিশোরগঞ্জের ইটনা থেকে ১০ মাসের শিশু ছেলেকে হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শিশুটি হামের উপসর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় ভুগছিল। শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে হামের উপসর্গসহ সংক্রমণজনিত মারাত্মক শক, নিউমোনিয়া, বাম পাশের ফুসফুসের আবরণীর (প্লুরা) মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে তরল জমা হওয়ায় শিশুটি মারা যায়।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম মেডিকেল দলের ফোকালপারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ মার্চ থেকে ১৩ জুন সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৬২ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে হাসপাতাল থেকে মোট ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৯১২ শিশু। তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

কামরুজ্জামান মিন্টু/অন্তরা

বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:০০ এএম
বৃষ্টিতে ভিজে প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় কক্সবাজারবাসী
ছবি: খবরের কাগজ

সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি। কোথাও গুঁড়িগুঁড়ি, কোথাও ঝুম বর্ষণ। তবুও থেমে নেই মানুষের অপেক্ষা। ছাতা, রেইনকোট কিংবা ভেজা কাপড় গায়ে নিয়েই কক্সবাজারের বিভিন্ন প্রান্তে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। এই অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য।

শনিবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী সফরে কক্সবাজারে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সফরকে ঘিরে জেলার সর্বত্র উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা, রাজনৈতিক জনসভা এবং সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি।

কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুলিয়া এলাকার বাসিন্দা আজিম খান বলেন, সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু মানুষের আগ্রহ কমেনি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে পাতলী খাল পুনঃখননের অপেক্ষায় আছি। প্রধানমন্ত্রী নিজে এসে উদ্বোধন করবেন, এটা আমাদের জন্য বড় আনন্দের বিষয়। তাই বৃষ্টিতে ভিজেও প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করার জন্য বসে আছি।

স্থানীয় জসিম উদ্দিন বলেন, বৃষ্টি থাকলেও মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছে। কারণ এই সফরের সঙ্গে এলাকার উন্নয়ন জড়িত। খালটি পুনঃখনন হলে কৃষি ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে।

পাতলী খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে অন্তত দুই লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে বলে জানান স্থানীয়রা। পাশাপাশি সেখানে ‘জিয়া স্মৃতি পার্ক’ নির্মাণের দাবিও উঠেছে।

চকরিয়া পৌর এলাকার বাসিন্দা নুরুল হাসান বলেন, বৃষ্টির কারণে কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে, কিন্তু মানুষের ঢল থামেনি। সবাই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় আছে।

জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করবেন। পরে সন্ধ্যায় জেলার বিশিষ্ট নাগরিক ও পেশাজীবীদের সঙ্গে সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচি সফল ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ও শেষ হয়েছে।

তারেকুর রহমান/তামান্না রুপা/

সুস্বাস্থ্যের বার্তা নিয়ে সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় শাহেদ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১৭ এএম
সুস্বাস্থ্যের বার্তা নিয়ে সাইকেলে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ায় শাহেদ
সাইকেল যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন তরুণ শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার রহমান শাহেদ ছবি: খবরের কাগজ

‘সুস্বাস্থ্যই প্রকৃত সম্পদ’ স্লোগান নিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত শরীরচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরতে দেশের উত্তরের জেলা তেঁতুলিয়া থেকে দক্ষিণের টেকনাফ জিরোপয়েন্ট পর্যন্ত সাইকেলযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন শিক্ষার্থী মো. শাহরিয়ার রহমান শাহেদ (২১)। এতে তার সময় লেগেছে ১১ দিন।

শাহরিয়ার রহমান শাহেদ নীলফামারী জেলার বড় সংগলশী গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহীনুর ইসলামের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির (বিইউবিটি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থী।

গত ১ জুন বিকেল ৪টায় পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া জিরোপয়েন্ট থেকে সাইকেলে যাত্রা শুরু করেন শাহেদ। টানা ১১ দিনের এই যাত্রা শেষ হয় ১১ জুন দুপুর ২টায় টেকনাফ পৌরসভার জিরোপয়েন্টে।

সাইকেল যাত্রা সম্পর্কে শাহরিয়ার রহমান শাহেদ বলেন, 'সুস্বাস্থ্যই প্রকৃত সম্পদ। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত ব্যায়াম ও শরীরচর্চার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতেই আমি তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত এই সাইকেল যাত্রা করেছি। দেশের তরুণদের সুস্থ জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করাই ছিল আমার মূল লক্ষ্য।' 

তিনি আরও বলেন, সাইকেল ভ্রমণ আমার কাছে শুধু একটি শখ নয়, এটি আমার প্রয়োজনও। ছোটবেলায় দাদা-নানা ও বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার নানা গল্প শুনে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সাইকেলে ভ্রমণের স্বপ্ন জাগে। সেই স্বপ্ন থেকেই সাইকেল নিয়ে সারা দেশ ঘুরে দেখার ইচ্ছা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে শরীরচর্চা ও শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে সাইকেল আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।

তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় জনগণ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এবং তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

স্বাস্থ্য সচেতনতা ও শারীরিক সক্ষমতার বার্তা নিয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে শাহেদের এই দীর্ঘ সাইকেল যাত্রা তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

শাহীন/আজহার