সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা সাত দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবি না মানলে শাটডাউন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার (২০ জানিয়ারি) নগরের নিউমার্কেট এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে গভর্নর বরাবর চিঠি পাঠান আমানতকারীরা।
চিঠিতে তারা উল্লেখ করেন, গত ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের আমানতকারীদের আমানতের উপর কোন মুনাফা প্রদান করা হবে না- এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু কেন? আমরা জানি ব্যাংকে আমানত রাখা মানে একটি লিখিত ও অলিখিত চুক্তি। নির্দিষ্ট সময় শেষে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। কিন্তু এখন এই কার্যরত চুক্তি বাতিল করা হচ্ছে। আমানতকারীরা এটিকে পশ্চাৎমুখি সিদ্ধান্ত হিসাবে দেখছেন। শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী, স্বামীর পেনশনের টাকা, প্রবাসী পরিবার, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা এই মুনাফার টাকার উপর নির্ভরশীল। কেন তারা হঠাৎ দুই বছরের আয় থেকে বঞ্চিত হবেন। উদাহরণস্বরূপ, একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ২৫ লাখ টাকা মাসিক মুনাফার আমানত রেখে মাসে ২০ হাজার টাকা মুনাফা তুলে সংসার চালাতেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে তার প্রাপ্ত মুনাফা ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা কর্তন হবে। মূলধন ২৫ লাখ থেকে ২০ লাখ ২০ হাজার টাকায় নেমে যাবে।
তারা বলেন, এটি শুধু আর্থিক ক্ষতি নয় বরং জীবনযাত্রার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। আমানতকারীরা মনে করে, এই হেয়ারকাট সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য একটি ভয়ংকর বার্তা। যদি এই হেয়ারকাট সিদ্ধান্ত স্থায়ী হয় তাহলে ভবিষ্যতে কোন ব্যাংক কেলেঙ্কারি দায় এই সাধারণ আমানতকারীদের ওপর চাপানো হতে পারে। আমানতকারিগণ মনে করে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা আস্থার উপর টিকে থাকে। দুই বছরে মুনাফা বাতিল ও হেয়ারকাট সেই আস্থার গভীর ফাটল ধরাচ্ছে।
ইতোমধ্যেই অনেক আমানতকারীর আতঙ্কিত। আমানতকারীরা মনে করে, ব্যাংক লুট দীর্ঘস্থায়ী একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থার ব্যর্থতার ফল। সেই ব্যর্থতার দায় আমানতকারীরা বহন করতে পারে না। তাই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা আশা করে, আপনি (গভর্নর) দায়িত্বে থাকা অবস্থায় শরীয়াহ আইনের দোহাই দিয়ে হেয়ারকাট পদ্ধতি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের উপর চাপিয়ে দিতে দিবেন না।
আমানতকারীদের দাবি সমূহ-
১) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের ২০২৪ এবং ২৫ সালের ব্যাংক কর্তৃক লিখিত অনুমোদিত হারে মুনাফা দিতে হবে। এর ব্যক্ত্যর্থ ঘটিলে আমানতকারীগণ মেনে নিবে না।
২) আগামী ২৫শে জানুয়ারির মধ্যে, সকল হিসাব, চলতি হিসাব, এফডিআর, ডিপিএস, (স্বল্প মেয়াদি আমানত) এবং (মেয়াদি আমানত) সকল হিসাবের টাকা মুনাফা সহ নগদায়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
৩) এফডিআর, ডিপিএস (স্বল্প মেয়াদি আমানত) এবং (মেয়াদি আমানত) সকল হিসাবের টাকা মুনাফা সহ হিসাবধারী চাহিবামাত্রই ভেঙ্গে সঞ্চয়ী অথবা চলতি হিসাবে দিতে হবে। সাথে আমানত সুরক্ষার ২ লাখ টাকা নগদায়ন বা উত্তোলন করার সুযোগ দিতে হবে।
৪) পুরনো আমানতকারী হিসাবের এবং নতুন আমানতকারী হিসাবের জমা ও উত্তোলন এবং মুনাফার ক্ষেত্রে সমান অধিকার দিতে হবে।
৫) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সকল হিসাবের আমানতকারীদের মুনাফা সহ সম্পূর্ণ আমানত ফেরতের নিশ্চয়তা দিতে হবে। সাথে আমানত সুরক্ষা ২ লাখ টাকা ব্যাতীত। অবশিষ্ট আমানত ২ মাস পর পর দুই লাখ টাকা করে দিতে হবে, এবং ২৪ মাস পরে সম্পূর্ণ আমানতের টাকা এককালীন নগদায়ন বা উত্তোলনের সুযোগ দিতে হবে।
৬) NPSB, RTGS, EFT, ATM সহ সকল প্রকার অনলাইন সেবা চালু করতে হবে সাথে লেনদেন স্বাভাবিক করতে হবে।
৭) হেয়ারকাট বাতিল করতে হবে।
আগামী ২৫শে জানুয়ারির মধ্যে হেয়ারকাট পদ্ধতি বাতিল এবং আমানতকারীদের সকল প্রকার হিসাবের আমানতে টাকা নগদায়ন বা উত্তোলনে প্রক্রিয়া ব্যবস্থা না করলে ভুক্তভোগী আমানতকারীগণ পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে কাফনের কাপড় সহ আত্মহতি কর্মসূচি অথবা মতিঝিল শাট-ডাউন কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবে।
এসএন/