২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পরই চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানা ও চুনতি পুলিশ ফাঁড়ি থেকে একাধিক অস্ত্র লুট হয়। এরই মধ্যে পেরিয়ে গেছে ১৭ মাসেরও বেশি সময়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব অস্ত্রের বেশির ভাগই উদ্ধার হয়নি। এতে এলাকাবাসী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে তিন সপ্তাহের কম সময়ে হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এমন অবস্থায় থানা থেকে লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি একাধিক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দলের প্রার্থীরাও অবৈধ ও লুটের অস্ত্র উদ্ধারে সংশ্লিষ্টদের আরও সক্রিয় হতে অনুরোধ করেছিলেন।
তারা বলছেন, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচনের সময় সেগুলো ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত রাখতে ব্যবহার হতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুলিশের চিরুনি অভিযানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, ভোটের আগে অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, লোহাগাড়া থানা ও চুনতি ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের সংখ্যা ৩৮টি। তবে পুলিশের দাবি এই সংখ্যা ১১টি।
সাতকানিয়া উপজেলার ভোটার মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ‘বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় এবং সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় আমরা অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার দেখেছি। তাই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জোর দিতে হবে। যদি এসব অস্ত্র উদ্ধার না হয়, তাহলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
লোহাগাড়া উপজেলার ভোটার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন পর্যন্ত অবৈধ ও লুণ্ঠিত সবগুলো অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় আমাদের মতো সাধারণ ভোটারদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এসব অস্ত্র উদ্ধারে দৃশ্যমান তৎপরতা থাকলে মানুষের আস্থা বাড়বে। একজন ভোটার হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শরীফুল আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘নির্বাচনি প্রচার শুরুর দিন সাতকানিয়া উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আমি জোরালো দাবি জানিয়েছি। ভোট গ্রহণের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার না হলে প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।’
বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন বলেন, ‘ভোট গ্রহণের আগেই অবৈধ ও থানা থেকে লুঠ হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে এই আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি ও চিরুনি অভিযান চালাতে হবে। না হলে সন্ত্রাসীরা এসব অস্ত্র ব্যবহার করে সাধারণ ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করবে। তাই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিকল্প নেই।’
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, ‘ সবগুলো অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় আমরা একটু শঙ্কিত। এসব অস্ত্র উদ্ধার করা না হলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারাও এ বিষয়ে বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে।’
লোহাগাড়া থানার ওসি আব্দুল জলিল বলেন, ‘থানা ও ফাঁড়ি থেকে ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হওয়ার তথ্যটি সঠিক নয়। ওই সময় মোট ১১টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল। তার মধ্যে একটি পিস্তল ও একটি গ্যাসগান উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি আগ্নেয়াস্ত্রগুলো উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘বিশেষ অভিযান চালিয়ে এরই মধ্যে অস্ত্রসহ একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের আগেই সব অবৈধ ও থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্ভাব্য স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’