সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত ‘আইবুড়ি নদী’ পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।
নাব্যতা সংকটে প্রায় ২০ হাজার বিঘা কৃষিজমি এবং নদী তীরের অন্তত ৭০০ পরিবারের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজা প্রতাপাদিত্যর রাজধানী খ্যাত শ্যামনগরের ধুমঘাট হাটখোলায় নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পুনঃখননের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি এম. জিল্লুর রহমান।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্যে সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. বিলাল হোসেন বলেন, ‘অবৈধ নেট-পাটা দিয়ে নদীর বিভিন্ন অংশে বাঁধ দেওয়ায় স্বাভাবিক স্রোত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নদীতে পলি জমে নাব্যতা কমে গেছে এবং পানি নিষ্কাশনের ক্ষমতা হারিয়েছে। এতে বর্ষা মৌসুমে দুই তীরের গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ে।’
তারা আরও বলেন, ‘কৃষিপ্রধান মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম জেলেখালি ও কচুখালি গ্রামের প্রায় ৬ হাজার বিঘা এবং ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট ও দক্ষিণ শ্রীফলকাটিতে প্রায় ১৪ হাজার বিঘা জমিতে ধান, সবজি ও চিংড়ি চাষ হয়। এসব এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত আইবুড়ি নদীই ছিল কৃষি সেচ ও জীবিকার প্রধান ভরসা।’
বক্তারা জানান, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেচ ও পানি নিষ্কাশন দুটোই সংকটাপন্ন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষি অর্থনীতি আরও বিপর্যস্ত হবে।
তারা সরকারি উদ্যোগে আইবুড়ি নদী পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, ‘নদীটি পুনরুদ্ধার করা না গেলে কৃষি, জীবিকা ও পরিবেশ সবই হুমকির মুখে পড়বে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি ডা. যোগেশ মন্ডলের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন ইউপি সদস্য বীরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, প্রজন্ম রক্তদান সংস্থার সভাপতি আহমেদ রাজু, এসডি মিলন সংঘের শরীফ হোসেন, জেলেখালি ভাই ভাই সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাধন কুমার পরমাণ্য, শাপলা নারী উন্নয়ন সংগঠনের অল্পনা রানী মিস্ত্রি, সাইমুম যুব সংঘের সুমন হোসেন ও মধুদ্যুতি মন্ডল প্রমুখ।
শাহাজান/রিফাত/