সাতক্ষীরা ও খুলনার উপকূলীয় কয়রা উপজেলার দক্ষিণ ও উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদ ও শাকবাড়িয়া নদীর ভাঙন রোধে নির্মিত হচ্ছে ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ টেকসই বেড়িবাঁধ। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস আর লবণাক্ত পানির হাত থেকে এই জনপদকে স্থায়ী সুরক্ষা দিতে ব্লক ও স্লুইসগেট নির্মাণের কাজ এখন পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৪৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
ভৌগোলিকভাবে কয়রা উপজেলায় হলেও এই ৩২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের একটি বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ২২ কিলোমিটার রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ। বাকি ১০ কিলোমিটার অংশের তদারকি করছে খুলনা পাউবো। সাতক্ষীরা পাউবোর এই কর্মযজ্ঞ শেষ হলে আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাও পরোক্ষভাবে জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি থেকে অনেকটা মুক্ত থাকবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার গাববুনিয়া ও শাকবাড়িয়া অংশে ব্লক তৈরির কাজ শেষ করে বাঁধের ঢালে জিও ব্যাগ ও ব্লক বসানোর কাজ চলছে। উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের হরিহরপুর ও দক্ষিণ বেদকাশীর চোরামুখা এলাকায় চলছে মাটির কাজ ও রেগুলেটর নির্মাণ।
হরিপুর এলাকার বাসিন্দা চারু মণ্ডল সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘আগে জোয়ারের পানি বাড়লেই আমরা আতঙ্কে থাকতাম, কখন বাঁধ ভেঙে ঘরবাড়ি ভেসে যায়। এখন এখানে সরকার টেকসই বাঁধ নির্মাণের কাজ করছে। ব্লক আর জিও ব্যাগ দিয়ে যেভাবে মজবুত করা হচ্ছে, তাতে আমরা আশার আলো দেখছি।’
উত্তর বেদকাশীর ইউপি সদস্য গণেশ মণ্ডল জানান, নিয়ম মেনে ১০০ মিটার দূর থেকে মাটি এনে বাঁধ উঁচু ও প্রশস্ত করা হচ্ছে। কাজের মান ভালো হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিনের ভয় কেটে স্বস্তি ফিরেছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতির পর ১৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা হয়। বর্তমানে ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি প্যাকেজে কাজ চলছে। এর মধ্যে ৪টি রেগুলেটর এবং ১০টি ইনলেট গেটের কাজ প্রায় শেষের দিকে।
ইতোমধ্যে উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চোরামুখা এলাকায় ১ কোটি ১৬ লাখ ২২ হাজার টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ২০ মিটার বাঁধে রিং-ডাইক ও অস্থায়ী ঢাল সংরক্ষণের কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মামুন এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোশাররফ হোসেন জানান, পাউবোর ডিজাইন অনুযায়ী ইনলেটের ১০টি গেটের কাজ প্রায় শেষের দিকে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে যথাসময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ হবে।
সাতক্ষীরা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায়ে কাজগুলো নিয়মিত তদারকি করছি। ঠিকাদারের কাছ থেকে গুণগত কাজ শতভাগ বুঝে নেওয়া হচ্ছে। উপকূলীয় এই অঞ্চলের মানুষের জানমাল রক্ষায় নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে আমাদের।’
অন্যদিকে খুলনা পাউবো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী জহির মাজহার বলেন, ‘জোড়শিং থেকে গোলখালি পর্যন্ত ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪টি প্যাকেজের কাজ চলছে। রেগুলেটর ৪টি এবং ইনলেটের ১০টি গেটের কাজ প্রায় শেষের পথে। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কিছুটা বিলম্ব হলেও নির্দিষ্ট সময়েই কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’