নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দুই উপজেলা দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা। পাহাড়ি ও সমতল মিলিয়ে এ অঞ্চলে কয়েক লাখ মানুষের বসবাস। বছরের পর বছর ধরে তাদের বিশুদ্ধ পানির জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে তাদের পানির জন্য বহু পথ পারি দিতে হয়। অথচ স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কলমাকান্দার গোপালবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধা অঞ্জনা সাংমা জানান, নতুন বউ হয়ে আসার পর থেকেই খাবার পানি সরবরাহ করতে গিয়ে তিনি সমস্যায় পড়েছিলেন। বয়স বেড়েছে, কিন্তু পানি সংগ্রহের কষ্ট কমেনি। মাটি খুঁড়ে এখনো পানি আনতে হয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘কত সরকার এল গেল, পানির অভাব কেউ দেখল না। এবারের এমপি কী করে দেখার বিষয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুর্গাপুরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় পানির অভাব তারা ছোট বেলা থেকে দেখে আসছেন। কিছু এলাকায় সরকারিভাবে টিউবওয়েল স্থাপন করা হলেও তা খুবই কম। নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এগুলোতে আবার পানি থাকে না। তখন স্থানীয়রা ঝর্ণা থেকে দূষিত পানি খেতে বাধ্য হন। সমস্যার সমাধানে তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাহাড়ি এলাকার কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে মাটির গভীরে বড় বড় পাথর রয়েছে। এসব এলাকায় নলকূপ বা বৈদ্যুতিক পাম্প স্থাপনে বড় ধরনের সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। কিছু স্থানে টিউবওয়েল বসানো হলেও শুকনো মৌসুমে আয়রনের কারণে পানি ঘোলা হয়ে যায়। তখন নদী ও খালের দূষিত পানি পান করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
বাংলাদেশ জাতীয় হাজং সংগঠনের সভাপতি পল্টন হাজং বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় পানির সমস্যা দূর করতে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। তবে সমস্যার সমাধানে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। খাল, নদী ও ঝরনার পানি খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।’ বর্তমান সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান জানান, পাহাড়ি এলাকায় পানির অভাব দূর করা জরুরি। বর্তমান প্রশাসন এ বিষয়ে কাজ করবে। অতীতে বিভিন্ন স্থানে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।