ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ উপজেলা ও সদরের আংশিক) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষের পৃথক ডাকা ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের নলডাঙ্গা সড়কের একটি মাঠে দুটি পক্ষ ইফতার মাহফিল আয়োজন করে।
রবিবার (৮ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় সংঘাত এড়াতে ওই মাঠে বিপুলসংখ্যক পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।
জানা গেছে, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ রবিবার বিকেলে কালীগঞ্জ শহরের নলডাঙ্গা সড়কের একটি মাঠে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। তিনি প্রশাসন ও মাঠের (জমি) মালিকের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতিও নেন। কিন্তু একদিন আগে একই স্থানে গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে আসা ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রাশেদ খানের পক্ষে স্থানীয় নেতা জালাল উদ্দিনও ইফতার মাহফিল আয়োজনের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। একই স্থানে দুই পক্ষের ইফতার আয়োজনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।
এ পরিস্থিতিতে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) সুবির কুমার দাস ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই মাঠ ও আশপাশ এলাকায় জনসমাগম বা সমাবেশ নিষিদ্ধ করেন।
বেলা ১২টার দিকে দেখা যায়, সেখানে সকাল থেকেই মাঠে ও সড়কে পুলিশের কড়া নজরদারি বসানো হয়েছে। জেলা থেকে আসা প্রায় অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ সদস্যরা মাঠে অবস্থান নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইফতার মাহফিলের জন্য নির্ধারিত মাঠের জমির মালিক শওকত হোসেন বলেন, ‘সাইফুল ইসলাম ফিরোজ তার কাছ থেকে আগেই মাঠ ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছেন। তবে রাশেদ খানের পক্ষ থেকে তার কাছে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।’
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ ১৪৪ ধারা জারির বিষয়ে নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুই পক্ষ একই মাঠে একই সময়ে ডাকা ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এজন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বিষয়টি জনগণকে অবহিত করতে শহরে মাইকিং করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।’
সাইফুল ইসলাম ফিরোজ বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার আগে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ‘কাপ-পিরিচ’ প্রতীক নিয়ে ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনে নির্বাচন করেন। তবে নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন।
ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে ১৪৪ ধারার বিষয়ে ফিরোজ বলেন, ‘তিনি শহিদ জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শের রাজনীতি করেন। একটি পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে তার ইফতার মাহফিল বন্ধ করতে এ নোংরামি করছে।’
মাহফুজ/রিফাত/