মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বাসিন্দা সদর আলী। পরিবারের স্বচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। পরিকল্পনা ছিল ঋণের বোঝা কমিয়ে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানো এবং দুই মেয়েকে লেখাপড়া করিয়ে ভালো জায়গায় বিয়ে দেওয়া। কিন্তু এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা সেই স্বপ্নকে চূর্ণ করে দিয়েছে। ।
নিহত সদর আলী (৪৫) বানিয়াচং উপজেলার মহব্বতখানি মহল্লার বাসিন্দা।
আরও পড়ুন- মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ৫ বাংলাদেশি নিহত, আহত ২
শনিবার (১৪ মার্চ) সদর আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ চার সদস্যের পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল সদর আলী তিন সন্তানের জনক ছিলেন। সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে এবং মেয়েদের থেকে মুক্তি পেতে প্রায় দুই বছর আগে তিনি মালদ্বীপে পাড়ি জমান। কিন্তু প্রবাস জীবনের শুরুতেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা তছনছ করে দিয়েছে পরিবারের সব আশা-প্রত্যাশা।
নিহতের বড় মেয়ে মীম আক্তার বানিয়াচং জনাব আলী সরকারি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। বাবার মৃত্যুর খবরে তিনি ভেঙে পড়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মীম জানান, শুক্রবার ভোরে পরিবারের সদস্যরা সেহরি খেতে বসার সময় মালদ্বীপ থেকে বাবার এক সহকর্মী ফোন করেন। ফোনে তিনি জানান, তাদের বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সদর আলীসহ সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে সদর আলীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। এ খবর শোনার পর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।
মীম বলেন, 'বাবা আমাদের ভালো ভবিষ্যতের জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন। এখন আমরা কীভাবে চলব, আমাদের পড়াশোনা কীভাবে হবে, কিছুই বুঝতে পারছি না।'
নিহতের বড় ভাই জমির আলী জানান, তারা আট ভাই। এর মধ্যে সদর আলী ছিলেন চতুর্থ। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়েরা বড় এবং ছেলেটি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে।
তিনি বলেন, 'সংসার চালাতে গিয়ে সদর আলী অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। মেয়েদের বিয়ের চিন্তা আর সংসারের দায়ে শেষ পর্যন্ত এই বয়সেই বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আমরা অনেক নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু সে বলত মেয়েগুলো বড় হয়েছে, তাদের বিয়ে দিতে হবে।'
জমির আলী আরও জানান, দেশে থাকতেই সদর আলীর কিছু ঋণ ছিল। পরে বিদেশ যাওয়ার জন্য বিভিন্নজনের কাছ থেকে উচ্চ সুদে আরও ঋণ নেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার বেশি ঋণের বোঝা রয়েছে। এখন সেই ঋণ শোধ করা এবং পরিবার চালানো দুটোই বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই জয়ধর আলী বলেন, 'পরিবারটি এখন চরম বিপদে রয়েছে। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, দ্রুত মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হোক এবং পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো হোক।'
কাজল সরকার/রিফাত/