ঢাকা ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আহত ২ বাংলাদেশি শহরেই বেশি হামের প্রকোপ মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরি করে ভাঙারিতে বিক্রি, গ্রেপ্তার ২ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু বিশ্ব পরিবেশ দিবস: গ্রিন কনসার্ন’স ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ দিল্লিতে দগ্ধ ৮ বাংলাদেশির ৩ জনের অবস্থা গুরুতর রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ভাবনা দুপক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র নান্দাইল, ১৪৪ ধারা জারি খলিলুর রহমান কীভাবে সামলাবেন দুই দায়িত্ব গাছ থেকে পড়ে প্রাণ গেল গৃহবধূর ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শোকজ ঘুরতে গিয়ে ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই বন্ধুর চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকার স্ক্র্যাপ জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে: নজরুল ইসলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে: জি এম কাদের যে বিশ্বাস মানুষের জীবনে এনে দেয় অভাবনীয় ৬টি পরিবর্তন? জনমুখী শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় জাতীয় সংসদ: স্পিকার চামড়া নৈরাজ্য অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত ৫ জুন পপ গুরু আজম খানের মৃত্যুবার্ষিকী গাজীপুরে বাসচাপায় অটোচালকসহ নিহত ২ আছিয়া থেকে রামিসা: বিচার কোথায়? প্রোগ্রামিং ভাষা অধ্যায়ের ১৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ঈশ্বরগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় তরুণের মৃত্যু, চেয়ারম্যানসহ ৩১ জনের নামে মামলা
Nagad desktop

জৈন্তাপুরে পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ২৩ মে ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম
জৈন্তাপুরে পানিতে ডুবে ভাই-বোনের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা ফতেহপুর ইউনিয়নের শিকারখা গ্রামে পানিতে ডুবে দুইটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চাচার সঙ্গে গরু চরাতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিশু। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাইবোন।

নিহতরা হলো জৈন্তাপুর উপজেলার শিকারখা গ্রামের কবির আহমেদের মেয়ে রাফা আক্তার মাঈশা (৫) এবং তার বড় ভাই সালেহ আহমেদের ছেলে মেহেদী হাসান মুন্না (৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টায় চাচা জাকারিয়া হাওরে গরু চরাতে যাওয়ার সময় তার পিছু নিয়ে যায় শিশুরা। পরে তিনি তাদের বাড়িতে রেখে যান। কিন্তু আবারও বাড়ির পার্শ্ববর্তী ‘রাহুর খাল’ নামে পরিচিত খালের পাশে যায় তারা।

এ বিষয়ে দুই শিশুর চাচা জাকারিয়া জানান, 'দুপুরে গরু চরাতে যাওয়ার সময় আমার ভাতিজা-ভাতিজি আমার সঙ্গে যায়। পরে তাদের বাড়িতে রেখে আসি। হঠাৎ মানুষের চিৎকার শুনে খালের পাশে গিয়ে দেখি রাহুর খাল থেকে তাদের উদ্ধার করা হচ্ছে। পরে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। তারা কিভাবে আবার খালের কাছে গেল আমরা কেউই জানি না।'

জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবর রহমান মোল্লা জানান, ঘটনাস্থলে আমি গিয়েছিলাম। নিহত দুই শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আমান/

শহরেই বেশি হামের প্রকোপ

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
শহরেই বেশি হামের প্রকোপ
চমেক হাসপাতালের হাম ব্লকে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ছবি: খবরের কাগজ।

চট্টগ্রামে হাম আক্রান্তের হার কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না। রোগটির উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই নগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শিশু।

দেখা দিচ্ছে নিউমোনিয়া সহ নানা জটিলতা। তবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার তুলনায় নগরে এই রোগের উপসর্গ বেশি দেখা দিচ্ছে।

এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ ও আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১২ জন।  

চিচিকৎসকরা বলছেন, চট্টগ্রামে হামের টিকা লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ দেওয়া হয়েছে। এই টিকা শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে কমপক্ষে চার সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় লাগে। পাশাপাশি একটি রোগ যখন মহামারী আকার ধারণ করে সেটার প্রকোপ কমতে একটু সময় লাগে। হাম আক্রান্ত একজন শিশু থেকে ১৮ জনের শরীরে রোগটি ছড়ায়। তাই শিশুদের ভিটামিন ও প্রোটিনসম্বৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি সচেতনতাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হাম ব্লকে ১ নং ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে হাম উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুদের চিকিৎসা চলছে। ওয়ার্ডটিতে থাকা ৮০টি বেডের কোনটিই খালি নেই। সেখানে অবস্থানরত শিশুরা গায়ে র্যাশ ও জ্বরে ভুগছে। শ্বাসকষ্ট হলে শিশুদের দেওয়া হচ্ছে অক্সিজেন। হাসপাতালটিতে শিশুদের জন্য ২০টি আইসিইউ রয়েছে, এরমধ্যে ১৫টি হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য বরাদ্দ রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

চট্টগ্রামে মার্চের পর থেকেই হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করে। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের গত দুই মাসের (এপ্রিল ও মে) হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর হার যাচাই করেছে খবরের কাগজ। সেখানে দেখা গেছে, এপ্রিলে হামের উপসর্গ নিয়ে নগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭০০ শিশু, পাশাপাশি উপজেলায় আক্রান্ত হয়েছে ১৯ জন। মাসটিতে গড়ে নগরে প্রতিদিন ২৩ জন শিশু হাম উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। 

তবে মে মাসে সবচেয়ে বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে নগরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মে মাসে শিশুদের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার হার এপ্রিলের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেশি। এপ্রিলে নগরের ৭০০ শিশুর শরীরে হামের উপাসর্গ দিখো দিয়েছে। আর মে মাসে নগরের ১ হাজার ৩৭৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এছাড়া মাসটিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৬৬ জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গহ দেখা দেয়। এই মাসে নগরে গড়ে প্রতিদিন ৪৪ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যায়। 

জুন মাসেও আক্রান্তের হার কম নয়। গত ১ জুন নগরে ৫৩ ও উপজেলায় ২ জন, ২ জুন নগরের ৪৩ জন ও ৩ জুন নগরের ৬০ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ৩ জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৩৬৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে নগরের ২ হাজার ২৭৪ জন ও উপজেলার ৯১ জন। এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে ২৭৬ জন। চট্টগ্রাম থেকে এখন পর্যন্ত নগর ও উপজেলা মিলিয়ে ১ হাজার ৪১৮ জন শিশুর নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে মারা গেছে নয় জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তিন জন। 

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম খবরের কাগজকে বলেন, চট্টগ্রামে নগর ও উপজেলা মিলে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে আমাদের হামের রোগী কমে গেছে। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, রাঙ্গমাটি, বান্দরবন থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগীরা চমেক বা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে আসছে। এ কারণে নগরে বেশি দেখা যাচ্ছে। একটা রোগ মহামারী আকার ধারণ করলে সেটা কমে আসতে দুই-তিন মাস সময় লাগে। আশা করি হাম আক্রান্তের হার দ্রুত কমে যাবে। 

টিকা দেওয়ার পরেও কেউ হামে আক্রান্ত হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টিকা দেওয়া হয়েছে, তবে এটার পুরো ফল পেতে আমাদের কয়েকমাস সময় লাগবে। যেহেতু এন্টিবডি তৈরি হতে কয়েক মাস সময় লাগে। তবে কিছু ফল পেতে শুরু করেছি। তবে বড়দের ক্ষেত্রে নিয়মিত মাস্ক পরিধান করা, হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করা জরুরি। আর বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ভীড় এড়িয়ে চলতে হবে, যেসব বাড়িতে হাম হচ্ছে সেখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শিশুরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর শিশুকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও প্রোটিনযুক্ত খাবার দিতে হবে। অন্তত দেড় মাস চিকিৎসকের পরামর্শ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এই জায়গায় কোনভাবেই অবহেলা করা যাবে না।

তারেক মাহমুদ/এসএন

মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গে যমজ শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ১৫ দিনের ব্যবধানে হামের উপসর্গ নিয়ে যমজ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 

বুধবার (৩ জুন) রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মো. নোমান নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এর প্রায় ১৫ দিন আগে তার যমজ ভাই মো. ফাহিম চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। মারা যাওয়া দুই শিশুর বয়স ছিল ১৩ মাস।

ফাহিম ও নোমান উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের পূর্ব খৈয়াছড়া তাকিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা হারুন উর রশিদের সন্তান। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই সন্তানকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তাদের বাবা-মা।

শিশু দুটির বাবা হারুন উর রশিদ বলেন, ‘সরকারিভাবে যখন বিভিন্ন এলাকায় হামের টিকাদান কর্মসূচি চলছিল, তখন আমি আমার দুই শিশুকে টিকা দেওয়ার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু দায়িত্বে থাকা কর্মীরা জানান টিকা শেষ হয়ে গেছে। পরে আর টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিছুদিন পর আমার বড় ছেলে ফাহিম অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফাহিমের মৃত্যুর পর চিকিৎসকরা জানান নোমানের অবস্থাও ভালো নয়, তাকে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরেও সিট না পেয়ে শেষ পর্যন্ত ঢাকা শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করাই। সেখানে আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে নোমানও মারা যায়। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে আমার দুই সন্তানকে হারালাম। কোনোভাবেই নিজেকে শান্ত করতে পারছি না।’

স্থানীয় তাকিয়াপাড়া নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষক মো. কাউসার বলেন, ‘বড়তাকিয়া বাজারের ব্যবসায়ী হারুন উর রশিদের যমজ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেন পর্যাপ্ত পরিমাণে হামের টিকা সংরক্ষণ করা হয়।’

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার নাছির উদ্দিন বলেন, ‘হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলে রোগীর তথ্য সংরক্ষিত থাকে।’

টিকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’

অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ইকবাল হোসেন/সালমান/

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদক কারবারের অভিযোগে হাত-চোখ বেঁধে যুবককে নির্যাতন
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে সালিশ বৈঠকে এক যুবককে হাত-চোখ বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে উপজেলার কাইতলা উত্তর ইউনিয়নের নারুই বাজারে এ ঘটনা ঘটে। 

নির্যাতনের শিকার হবি মিয়া (৪০) নারুই গ্রামের মৃত রহমতের ছেলে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারুই গ্রামের মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুপুরে নারুই বাজারে সালিশ বৈঠকে বসে এলাকার মাদক নির্মূল কমিটি। বৈঠকে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে হবি মিয়াকে হাজির করে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। হবির মা ও তার স্ত্রীর সামনে চলে নির্যাতন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এ ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রথমে সালিশে সবার মাঝখানে হবি মিয়াকে দীর্ঘক্ষণ দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর একজন এসে গামছা দিয়ে তার চোখ এবং দড়ি দিয়ে হাত বাঁধেন। এরপর তাকে মাটিতে বসিয়ে তার হাত ও পায়ের ভেতর পাইপ ঢুকানো হয়। এ সময় আরেকজন এসে তাকে মাটিতে শুইয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে আরেকজন বোতল দিয়ে তাকে পানি পান করান। এরপর শুরু হয় নির্যাতন। পরে দুইজন হবি মিয়াকে চেপে ধরে রাখেন এবং আরেকজন লাঠি দিয়ে পায়ে আঘাত করতে থাকেন।

নারুই গ্রামের বাসিন্দা মোকাররম, মোহসিন, তাজু ও হানিফ মেম্বারসহ আরও কয়েকজন মিলে হবি মিয়াকে নির্যাতন করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে নির্যাতন শেষে মাদক কারবারে জড়িত থাকবে না অঙ্গীকার নিয়ে হবি মিয়াকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

নবীনগর থানার শিবপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর নবী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে নারুই গ্রামে যায় পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে নির্যাতনে জড়িতরা পলাতক রয়েছেন। এছাড়া নির্যাতনের শিকার হবি মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদেরও বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, হবি মিয়া এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত। তবে এভাবে সালিশ বৈঠক করে তাকে নির্যাতন করার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আজিজুল সঞ্চয়/সালমান/

ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬, ১০:২৯ পিএম
ঝিনাইদহে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
ছবি: খবরের কাগজ

ঝিনাইদহে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে জনতার রোষানলের শিকার হয়ে গনধোলাইয়ের পর বিল্লাল হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার পাগলাকানাই ইউনিয়নের চরখাজুরা গ্রামের ঝিনুকমালা আবাসন প্রকল্পে এই ঘটনাটি ঘটে।

নিহত বিল্লাল হোসেন মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর উপজেলার দেউলি গ্রামের বরকত আলী বিশ্বাসের ছেলে।  

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত বিল্লাল হেসেন ঝিনুকমালা আবাসন প্রকল্পে গত ৭ দিন আগে একটি ঘর ভাড়া নেয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে শিশুটিকে মিষ্টি খাওয়ার প্রলোভন দেখায় সে। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী শিশুটির হাতে দশ টাকা দিয়ে নিজের ভাড়া ঘরে নিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা করে বিল্লাল। শিশুটির চিৎকার ও কান্নাকাটি শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করে।

পরে উত্তেজিত জনতা বিল্লালকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পুলিশ তাকে মারাত্বক আহত অবস্থায় ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

তথ্যটি নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি (তদন্ত) গোকুল চন্দ্র  জানিয়েছেন, যৌন নিপীড়নের দায়ে একজনকে আটক করা হয়েছিলো। আহত হওয়ায় তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর মা একটি ধর্ষন মামলা দায়ের করেছেন।

মাহফুজুর রহমান/এসএন

 

রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৯:২২ পিএম
রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে মারধরের অভিযোগে ওসি ক্লোজড
ওসি আজাদ রহমান

রংপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে থানায় আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওসি আজাদ রহমানসহ মোট পাঁচ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) রফিকুল ইসলাম।

মারধরের শিকার ওই নেতার নাম রাকিবুল ইসলাম। তিনি সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব। তার অভিযোগ, থানার ভেতরে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে মারধর করেন। পরে তাকে স্থানীয় বিএনপির নেতারা উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে তিনজনকে এবং বৃহস্পতিবার ওসিসহ আরও দুজনকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজড করা হয়। একই সঙ্গে তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেল।

পুলিশ লাইনসে ক্লোজড হওয়া অন্য সদস্যরা হলেন কনস্টেবল লিমা সরেন ও বাসুদেব, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা এবং এসআই মাসুদ রানা।

ঈদের আগে নগরীর সিও বাজার এলাকার এক প্রেমিক যুগলের নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত।

এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। জিডির ভিত্তিতে ওই যুগলকে উদ্ধার করে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় থানায় আনা হয়। পরে উভয় পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান।

লাভলু নামে এক নেতার ডাকে সেখানে যান স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রাকিবুল ইসলাম রাকিব।

রাকিবুল ইসলামের অভিযোগ, থানায় গিয়ে তিনি দেখতে পান এক পুলিশ সদস্য উদ্ধার হওয়া যুগলকে মারধর করছেন। এ বিষয়ে আপত্তি জানালে ওসি ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন এবং মারধর করেন। এতে তিনি আহত ও রক্তাক্ত হন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপির নেতা-কর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থানার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় গেটের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাকিবুল ইসলাম। তখন তার শরীরে রক্তের দাগ এবং একটি চোখ ফোলা দেখা যায়।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘উদ্ধার করা প্রেমিক যুগলকে থানার ভেতরে এক পুলিশ সদস্য মারধর করছিলেন। বিষয়টি দলের এক নেতাকে জানাতে পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করতেই ওসি, এসআই ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আমার ওপর চড়াও হন। তারা আমাকে বেধড়ক মারধর করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বারবার তাদের অনুরোধ করেছি এবং পরিচয় দিয়েছি যে আমি স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও বিএনপির একজন কর্মী। গত ১৭ বছর ধরে বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তারপরও তারা আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত করেছে। আমার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনও নিয়ে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ‘থানার ভেতরে মারধরের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।’

এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর গ্র্যান্ড হোটেল মোড়স্থ দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রংপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব জাকারিয়া ইসলাম জিম। সংবাদ সম্মেলন থেকে দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।