সীতাকুণ্ডে জঙ্গল ছলিমপুর পাহাড়ি এলাকা দখলে নিতে ইয়াছিন গ্রুপের সঙ্গে রোকন-গফুর ও সরোয়ার বাবলার বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে রোকন বাহিনীর এক সন্ত্রাসী গণপিটুনিতে মারা যাওয়ার তথ্য পুলিশ নিশ্চিত করলেও তার পরিচয় জানাতে পারেনি। এছাড়া উভয় গ্রুপের ১৬ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে জানা গেছে।
জানা গেছে, সংঘর্ষে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলাকে ভাড়া নিয়ে গেছে রোকন মেম্বার। এতে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে ঘটনার পরে রোকন বাহিনীর অনেক সদস্য নিখোঁজ রয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা- নিখোঁজ যে কয়েকজন রয়েছে তারা রোকন বাহিনীর সদস্য।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার জঙ্গল ছলিমপুর আলিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছে- জাবেদ (৩৮), জাকির (৪৮), তানভীর (২৩), সিরাজুল ইসলাম (৪৩), ফজলুল করিম, ইসমাইল হোসেন বাবু (৩০) জাহিদুল ইসলাম (১৯), সৌরভ বড়ুয়া (১৭) মো. পারভেজ (২০), নুরুল আলম (৪০), শুক্কুর আলম (২২), রায়হান (১৮), শামীম (২৯)। আহতদের মধ্যে অনেকে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।
তবে ইয়াছিন বাহিনীর কতজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে তার তথ্য জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে স্থানীয় ছলিমপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোকন মেম্বার ও গোলাম গফুরের নেতৃত্বে ছলিমপুর, ফৌজদারট, আল মদিনা, সিডিএ, ফকিরহাট, বাংলাবাজার, শেরশাহ এলাকার শতাধিক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী
জঙ্গলছলিমপুর আলিনগর দখল করতে যায়। এ সময় আলিনগর দখলে থাকা ইয়াছিন বাহিনীর সদস্যরা তাদের প্রতিরোধে এগিয়ে আসলে রোকন-গফুর বাহিনীর অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, জঙ্গল ছলিমপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত। আহত হয়েছেন ১৬ জন। আহতদের চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার পর রোকন বাহিনীর একাধিক সদস্য নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীতাকুণ্ড সার্কেল সহকারী কমিশনার লাবিব আবদুল্লাহ বলেন, দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন মারা গেছে। তবে তার নাম পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গুলিবিদ্ধ ১৩ জনের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এদিকে সীতাকুণ্ডের ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ শাহাদাতের ভবন ভেঙে ইট-রড-বালি বিক্রি করছে সন্ত্রাসীরা। গত বৃহস্পতিপতিবার থেকে ভবন ভাঙা শুরু করে রোকন বাহিনীর সদস্যরা। শনিবার (৪ অক্টোবর) এ ভবনের মালামাল বিক্রি করা হবে বলে দাবি করেন ইউপি সদস্য।
এদিকে আত্নগোপনে থাকা ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯, চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার, সীতাকুণ্ড মডেল থানার পুলিশের কাছে ফোন করে সহযোগীতা চেয়েছেন। সন্ত্রাসীদের কাছে বাড়ি-ভিটা বিক্রি না করাতে তারা বসত ভবন ভেঙে ইট-বালি ও রড় বিক্রি করছে বলে জানান তিনি। এছাড়া ফেজবুকে ভিডিও বার্তায় আইন শৃংখলা বাহিনীসহ সবার সহযোগীতা চেয়েছেন।
মুসলেহ উদ্দীন/মেহেদী/