তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ ৯৪ জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে আগামী সপ্তাহে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাগুলো করা হবে। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অনুমোদিত এজাহারে বলা হয়েছে, সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জনতা ব্যাংকের ঢাকা লোকাল অফিস থেকে ‘কাগুজে’ প্রতিষ্ঠান বে সিটি অ্যাপারেলস, ইয়েলো অ্যাপারেলস, পিংক মেকার ও অ্যাপোলো অ্যাপারেলসের নামে ১ হাজার ৪৭ কোটি ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৩৫০ টাকা ঋণ নেন। পরে সেই ঋণের টাকা পরিশোধ না করে সুদআসলে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
প্রথম মামলায় সালমান এফ রহমানসহ ২৭ জনকে আসামির তালিকায় আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জনতা ব্যাংকের ঢাকা লোকাল অফিস থেকে ‘কাগুজে প্রতিষ্ঠান’ বে সিটি অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ইডিএফ সুবিধাসহ ঋণ অনুমোদন ও বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে বিবি এলসির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ভুয়া আমদানি-রপ্তানি দেখিয়ে ‘অ্যাকোমোডেশন বিল’ তৈরি করে ১২ কোটি ৩১ লাখ ৯২ হাজার ১১০ মার্কিন ডলার- যার বাংলাদেশি মূল্য ১ হাজার ৪৭ কোটি ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৩৫০ টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
দ্বিতীয় এজাহারে সালমান এফ রহমানসহ ২৩ জনকে আসামির তালিকায় আনা হয়েছে। এতে বলা হয়, একইভাবে জনতা ব্যাংক থেকে ইয়েলো অ্যাপারেলস লিমিটেডের নামে ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৮ মার্কিন ডলার বা ৪১৬ কোটি ৩১ লাখ ৮৭ হাজার ৭১২ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
তৃতীয় এহাজারে সালমান এফ রহমানসহ ২০ জনকে আসামির তালিকায় আনা হয়েছে। এতে পিংক মেকার লিমিটেডের নামে একই কায়দায় ৭ কোটি ৯৪ লাখ ৫০ হাজার ৫১৩ মার্কিন ডলার বা ৬৭৫ কোটি ৩২ লাখ ৯৩ হাজার ৬১৪ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
চতুর্থ এজাহারে সালমান এফ রহমানসহ ২৪ জনকে আসামির তালিকায় আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যবসা পরিচালনায় পূর্ব অভিজ্ঞতাহীন পরিচালকদের মাধ্যমে পরিচালিত অ্যাপোলো অ্যাপারেলস লিমিটেড নামে একই কৌশলে ৮ কোটি ৪৬ লাখ ৫ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার বা ৭১৯ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ২৬৫ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
দুদক কর্মকর্তা জানান, চারটি এজাহার অনুসারে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের ২ হাজার ৮৫৭ কোটি ৯৩ লাখ ১২ হাজার ৯৪১ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আসামিরা ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি, ২০০৪ সালের দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ কারণে কমিশন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।