ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় স্বর্ণের পুতুলের প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে মাত্র ২০ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১ জুন) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ভাতুড়িয়া ইউনিয়নের একটি জনমানবহীন স্থানে নাসিমা আক্তারের (৩৬) মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, মরদেহের মুখমণ্ডলের একটি অংশ পোড়া অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, হত্যার পর পরিচয় গোপন কিংবা আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। ঘটনাস্থলের কিছু দূরে বাঁশের কঞ্চিতে রশি লাগানো একটি ভয়ঙ্কর ফাঁদও উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের গলায় রশির দাগ এবং এক হাতে মাটি আঁকড়ে থাকার চিহ্ন দেখে হত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
তদন্তের শুরুতে পুলিশ অনেকটা অন্ধকারে থাকলেও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায়। নিহতের ১২ বছর বয়সী মেয়ের কাছ থেকে জানা যায়, ঘটনার আগের রাতে তার মা জুতা না পরে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন এবং ছোট ছেলেকে দ্রুত ঘুম পাড়িয়ে বাসা থেকে বের হওয়ার তাড়াহুড়াও ছিল।
এই তথ্যের সূত্র ধরে তদন্ত এগোতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, বিশেষ একজনের সঙ্গে দেখা করতে গেলেই নাসিমা খালি পায়ে বের হতেন। কারণ, তাকে স্বর্ণের পুতুল পাওয়ার লোভ দেখানো হয়েছিল। বিষয়টি কেন্দ্র করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায়, টাকার লেনদেন এবং ভিকটিম ও সন্দেহভাজনের পূর্ববর্তী আচরণ বিশ্লেষণ শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে উঠে আসে টেংরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিনের ছেলে কবিরাজ হিসেবে পরিচিত শামসুলের নাম। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টাকা উদ্ধারসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেপ্তার এবং তদন্তের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
এ সময় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নবীন হাসান/আজহার/