পাবনার হেমায়েতপুর এলাকায় নির্মাণাধীন পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ভবনের কাজ বন্ধ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইড ম্যানেজারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রেজিনূর রহমান। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন, পাবনা পৌর সদরের সাধুপাড়া ঝুটপট্টি এলাকার মাসুদ রানা ওরফে ‘কিলার মাসুদ’ (৪৫), একই এলাকার সজল আলি (৩৮) এবং ইসমাইল হোসেন ওরফে ‘নকশাল ইসমাইল’ (৪০)।
২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হাসপাতালটির কাজ চলাকালীন চাঁদাবাজরা কাজ বন্ধ করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে তারা হাসপাতালের কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর হামলা চালান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাবনা মানসিক হাসপাতাল সংলগ্ন হেমায়েতপুর এলাকায় ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল ভবনের নির্মাণকাজ চলছে, যা বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এ প্রকল্পের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে ‘সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’।
গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় সন্ত্রাসী ‘কিলার মাসুদ রানার’ নেতৃত্বে একটি চক্র ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইড ম্যানেজার রফিজ উদ্দিনের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৯ মে দুপুর ১টার দিকে কিলার মাসুদের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রকল্প এলাকায় চড়াও হয়।
সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করলে কর্মরত নিরাপত্তাকর্মী হাবিবুর রহমান ও ইমরান বাঁধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসীরা তাদের বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা আহত দুই নিরাপত্তা কর্মীকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, হামলাকারীরা প্রকল্প এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন এবং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার রকিবুর রহমানকে প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখান। এ সময় তারা সাইড অফিসের দরজা, জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং ড্রয়ারে থাকা নগদ ১ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যান।
হামলার এ চিত্রটি প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে (ভাইরাল) জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে।
এ ঘটনার পরদিন ২০ মে সাজিন কনস্ট্রাকশনের পাবনা অফিসের ম্যানেজার রকিবুর রহমান বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে পাবনা সদর থানায় একটি চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
মামলার পর মাঠে নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পাবনা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ ও আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে তিনজনকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তারদের শুক্রবার বিকেলেই আদালতের মাধ্যমে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, নির্মাণাধীন হাসপাতালের কাজের নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাবনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. রুহুল কুদ্দুসের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পাবনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ নির্বিঘ্ন করতে এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। কোনো ধরনের চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
আমিনুল ইসলাম/নাঈম