ঢাকা ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার কাজ করছে ডিএসই: চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৪, ০১:৫৪ পিএম
ভালো কোম্পানি পুঁজিবাজারে আনার কাজ করছে ডিএসই: চেয়ারম্যান
নিকুঞ্জে ডিএসইর কার্যালয়ে সিইও ফোরামের সঙ্গে ডিএসসির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু বলেছেন, বাংলাদেশে বহুজাতিক কোম্পানি, ভালো ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি, আরএমজি সেক্টরের গ্রিন ফ্যাক্টরি কোম্পানিগুলো ও ইন্স্যুরেন্স খাতসহ  বিভিন্ন খাতে অনেক ভালো প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের পুঁজিবাজারে আনার জন্য সুযোগ রয়েছে। শুধু ভালো কোম্পানিকে বাজারে আনতে একটি রিসার্স সেল তৈরি করে কাজ করতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষিত করে যেকোনো পলিসি তৈরি করতে হবে। স্বার্থ সংরক্ষণ মানে এই না যে, মার্কেটকে উন্মুক্ত করে দেওয়া। এটা হলো মার্কেটকে সিকিউর করা। আবার সিকিউর করতে গিয়ে যেন ভালো বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত না হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

সম্প্রতি নিকুঞ্জে ডিএসইর নিজস্ব কার্যালয়ে সিইও ফোরামের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় সিইও ফোরামের প্রেসিডেন্ট মো. ছায়েদুর রহমান ও সংগঠনটির ৩০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের পাশাপাশি ডিএসইর প্রধান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুঁজিবাজারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তালিকাভুক্তির জন্য নির্দেশনা প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী নির্দেশনা পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ স্টক এক্সচেঞ্জের দীর্ঘদিনের লক্ষ্য ছিল। প্রধানমন্ত্রী পুঁজিবাজারের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক বিধায় তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকারি লাভজনক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী যে নির্দেশনা দিয়েছেন সে বিষয়ে আমরা সম্মিলিতভাবে কীভাবে কাজে লাগাতে পারি সে বিষয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পর্যায়ক্রমে আমরা মার্কেট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসব। আমরা সকলে এক সঙ্গে কাজ করব। যা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৯ তারিখে সরকারি বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোকে দেশের  পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ঢাকার শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলনকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা দেন।

কর নিয়ে ড. হাসান বাবু বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে অবশ্যই ট্যাক্সের একটা উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকতে হবে। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছি। এনবিআর এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয় এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, তাহলে আমরা কিছুটা সমাধান পাব বলে আশা করি। আর একটা বিষয় হলো দ্বৈতকর। দ্বৈতকর একজন বিনিয়োগকারীকে পুঁজিবাজারে আসতে নিরুৎসাহিত করে। আর একটি বিষয় হলো পলিসি সম্পর্কিত বিষয়। তাই রেগুলেটরের সঙ্গে আমরা এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

তিনি আরও বলেন, আমরা কয়েক মাস আগে বিজিএমইর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করি। সেখানে গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলো তালিকাভুক্তির জন্য আলোচনা হয়। এ ছাড়া আমরা বিকেএমইর সঙ্গে একই বিষয়ে আলোচনা করেছি। তারাও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আমরা একই উদ্দেশ্যে ইন্স্যুরেন্স সেক্টরের সঙ্গে বসব। এজন্য আমরা সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গঠনমূলক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বসব।

ড. হাসান বাবু আরও বলেন, বিএসইসির চেয়ারম্যান আইপিওর ক্ষেত্রে যে ইতিবাচক মন্তব্য করেছে তা আমাদের কাজে অনুপ্রেরণা দিবে। আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থার পরামর্শের ভিত্তিতে কাজ করব। পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে আমাদের কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি বৃদ্ধি করতে হবে। এ ছাড়া পুঁজিবাজারের সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোকে মূল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।

সিইও ফোরামের প্রেসিডেন্টসহ অন্য প্রতিনিধিরা বলেন, বাজারের উন্নয়নে এর আগে আমরা অনেক উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। আমার মনে হয় সবার কাছে আমরা পৌঁছাতে পারিনি আমাদের বিষয়গুলো। অনেক আগে থেকে আমরা তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে করের ব্যবধান বৃদ্ধি করতে বলে আসছি। কিন্তু এর কোনো প্রতিফলন আমরা দেখতে পায়নি। যদি করের ব্যবধান বাড়ানো না হয়, তাহলে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনতে পারব না।

এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে আমাদের বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের লভ্যাংশের ওপর আকৃষ্ট হচ্ছেন না এর অন্যতম কারণ হলো দ্বৈত কর। লভ্যাংশে একবার করপোরেট ট্যাক্স দেওয়া হচ্ছে এরপর আবার বিনিয়োগকারীদের পুনরায় কর দিতে হয়। বাংলাদেশে ব্যাংক ঋণ অত্যন্ত সহজলভ্য হওয়ার কারণে ভালো ভালো কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হচ্ছে না। এ ছাড়া আমাদের বাজার ইক্যুইটি কেন্দ্রিক হওয়ায় এখানে উত্থান-পতন বেশি দেখা যায়। তাই বাজারে কীভাবে পণ্য বৈচিত্র্যতা বাড়ানো যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সবজির দাম কমলেও মসলা-মাছ-মাংসে চড়া

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৪, ১১:৪২ এএম
সবজির দাম কমলেও মসলা-মাছ-মাংসে চড়া
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং শুরু করার নির্দেশ দেওয়ার পর ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেছেন। ফলে পেঁপেসহ প্রায় সব সবজির কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমে ৪০-৫০ টাকায় নেমেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ কেজিতে ৫০-৬০ টাকা বেড়ে ২০০ টাকার বেশি, অর্থাৎ ডাবল সেঞ্চুরি ছাড়িয়ে গেছে। 

মাছ, মাংসের দামও কমেনি। ধান উঠলেও চালের দাম আগের মতো। কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় পেঁয়াজ, আদা, রসুনের দাম কমছে না। মুরগির দামও চড়া। ডিমের ডজন এখনো ১৫০ টাকা। তবে অলিগলিতে আরও বেশি ডিমের দাম। 

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

কমেনি পেঁয়াজ, আলুর দাম

ভারত রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও কমছে না পেঁয়াজের দাম। দেশে প্রচুর পেঁয়াজ উৎপাদন হলেও মোকামের ব্যাপারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়াচ্ছেন দাম। তারা রেট উল্লেখ করে বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করেন। 

কোরবানির ঈদ আসন্ন। মসলার মধ্যে পেঁয়াজ, আদা, রসুন, জিরাসহ অন্যান্য মসলা বেশি দরকার হয়। সেগুলোর দাম বাড়তির দিকে। কারওয়ান বাজারের বিক্রমপুর বাণিজ্যালয়ের সবুজ বলেন, ‘ভারতের ঘোষণায় কমবে না পেঁয়াজের দাম। ব্যাপারীরা আস্তে আস্তে ছাড়বেন বাজারে।’ পাইকারিতেই ৬২-৬৭ টাকা কেজি। সেই পেঁয়াজই বিভিন্ন বাজারে ৭০-৭৫ টাকা কেজি। মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের খুচরা বিক্রেতা মো. আলী বলেন, পেঁয়াজের কেজি ৭০-৭৫ টাকা।
 
গত সপ্তাহ থেকে রসুনের দাম বাড়ছে। ২৪০ টাকা হয়ে গেছে। দেশি রসুনও ২০০ টাকা। কোথাও ২৩০ টাকা। বিক্রেতারা জানান, কাঁচামালের কোনো গ্যারান্টি নেই। কারওয়ান বাজারের এরশাদ বলেন, ঈদের আগে আদার দাম বেড়ে গেছে। ভারতের আদার কেজি ২৯০-৩০০ টাকা। বার্মারটা ২৮০ টাকা, চায়না আদা ২২০-২৪০ টাকা। কারওয়ান বাজারের লক্ষ্মীপুর স্টোরের ইসমাইল বলেন, এলাচি কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়ে ২৪০০-৩৪০০ টাকা কেজি হয়ে গেছে। ৬০০ টাকার জিরার কেজি এখন ৭৫০-৮০০ টাকা। তবে লবঙ্গ ও দারুচিনির দাম তেমন বাড়েনি। বেশি উৎপাদন হলেও আলুর দাম কমে না। টাউন হল বাজারের রফিক বলেন, ‘বর্তমানে ৫০-৫৫ টাকা কেজি। আমরা বেশি দামে কিনেছি। আড়তেই বেশি দাম। তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ 

কমছে না মুরগির দাম 

এপ্রিল মাস থেকেই দেশে চলমান তাপপ্রবাহের অজুহাতে কমছে না মুরগির দাম। আগের সপ্তাহের মতোই পোলট্রি মুরগি ২১০-২২০ টাকা, সোনালির কেজি  ৩৬০ থেকে ৩৮০ টাকা। কারওয়ান বাজারের কিচেন ব্রয়লার হাউসের হেফাজ বলেন, পোলট্রি ২২০ টাকা, সোনালি ৩৭০ টাকা ও দেশি মুরগি ৬৮০-৭০০ টাকা কেজি। অন্যান্য বাজারের খুচরা বিক্রেতারাও বলেন, তাপের কারণে কয়েক দিন থেকে মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। এ জন্য দাম কমছে না। 

কমছে না চালের দাম
 
দেশের অনেক এলাকায় বোরো ধান উঠতে শুরু করেছে। তার পরও ঢাকায় চালের দাম কমছে না। আগের মতোই প্রতি কেজি মিনিকেট ৭২-৭৫ টাকা, নাজিরশাইল মানভেদে ৭০-৮০, আটাশ চাল ৫৫-৬০ ও মোটা চাল ৪৮-৫২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা আওয়ালসহ অন্য বিক্রেতারা বলেন, ‘ধান উঠলেও মিল থেকে কমে না দাম। তাই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এ জন্য আমরাও বেশি দামে বিক্রি করছি।’ 

বিভিন্ন কোম্পানির পোলাওয়ের প্যাকেট চাল ১৭০-১৮০ টাকা কেজি। বস্তার পোলাওয়ের চাল ১২০-১৪৫ টাকা কেজি। এই বাজারের হাজি রাইস এজেন্সির নুরু বলেন, ‘সিন্ডিকেট করেই চালের দাম বাড়ানো হচ্ছে। সরকার শুধু বাজারেই অভিযান করে। মিলে অভিযান করলে হয়তো দাম কমতে পারে। তা না হলে কমবে না।’

বাড়তি দামে মসলা বিক্রি 

কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসায় জিরাসহ বিভিন্ন মসলার দাম বাড়তির দিকে। জিরার কেজি ৭০০-৯০০ টাকা, এলাচি ৩২০০-৪২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ১৬৭ টাকা ও পাঁচ লিটার ৭৯০-৮১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের রায়হান স্টোরের জসিম বলেন, ‘রমজান চলে গেলেও কমেনি ছোলার দাম। ছোলা ১১০ টাকা কেজি, বেসন ১২০, খোলা চিনি ১৩০-১৪০, প্যাকেট চিনি ১৪৫ টাকা। ভারতের চোরাই চিনিতে বিভিন্ন বাজার ছেয়ে গেছে। এ জন্য চোরাই চিনির দাম কম ১২০-১৩০ কেজি। দুই কেজি আটা ১১০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

কাঁচা পেঁপের কেজি ৭০ টাকা

গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে কম দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু সেই সবজি রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বিভিন্ন অজুহাতে বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে বেশ কিছু সবজির দাম কমেছে। ৮০ টাকার পেঁপে ৬০-৭০ টাকায় নেমেছে। এভাবে অনেক সবজির দাম কমেছে বলে বিক্রেতারা জানান। মোহাম্মদপুরের টাউন হলের আলম বলেন, সরবরাহ বেড়েছে। এ জন্য প্রায় সবজির দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমেছে।  

বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, টমেটোর কেজি ৪০-৬০ টাকা, করলা ৪০-৫০, ঢ্যাঁড়স ৩০-৪০, শিম ৪০, মিষ্টিকুমড়া ৩০-৪০, শসা ৪০-৬০, ঝিঙে ও ধুন্দুল ৩০-৪০, শজনে ডাঁটা ৮০-১২০, পটোল ৪০-৫০, গাজর ৫০, বরবটি ৫০ টাকা কেজি। ১২০-১৪০ টাকার কাঁচা মরিচ ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। এ ব্যাপারে কারওয়ান বাজারের বিপুল বলেন, শেরপুরের এই মরিচ সাইজে ছোট। কিন্তু দাম বেশি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সরবরাহ কমে গেছে। গত সপ্তাহেও ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি করা হয়েছে। এ সপ্তাহে দাম বেশি।’
গরুর মাংসের রেট ৭৮০-৮০০ টাকা!

ঈদুল ফিতরের পর প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকায় বিক্রি হলেও কয়েক সপ্তাহ ধরে ৭৮০-৮০০ টাকা হয়ে গেছে। কারওয়ান বাজারের জাহাঙ্গীর ও সেগুনবাগিচা বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মোরতজা মন্টু বলেন, ‘৭৮০-৮০০ টাকা কেজি রেট হয়ে গেছে। খাসির মাংসও ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি।’ অন্য বাজারের মাংস বিক্রেতারাও জানান, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কিছুটা দাম বাড়তে শুরু করেছে। কমবে না দাম।

বিভিন্ন পণ্যের মতো মাছের বাজারেও দাম কিছুটা বেড়েছে। কারওয়ান বাজারের আলালসহ অন্য বিক্রেতারা জানান, রুই ও কাতল ৩৫০-৫৫০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০, পাবদা ৫০০-৭০০, পাঙাশ ২০০, তেলাপিয়া ২০০-২৫০, শিং ও মাগুর ৪০০-৬০০ টাকা কেজি। নদীর পানি কমে যাওয়ায় খাল-বিলের মাছ কমে গেছে। এ জন্য দাম একটু বেশি। এক কেজি ওজনের ইলিশের কেজি ১৫০০-১৮০০ টাকা, ৭০০-৮০০ গ্রাম ওজনের কেজি ১২০০-১৫০০ টাকা। 

উল্লেখ্য, প্রচণ্ড তাপের অজুহাতে প্রায় জিনিসের দাম বেড়ে গেলে ২০ মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং শুরু করতে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানান, ‘কিছু পণ্যে বাজারে জোগানের সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং শুরু করার জন্য নির্দেশ দেন।’

রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার পেল ২০ প্রতিষ্ঠান

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ০৮:০৭ পিএম
রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার পেল ২০ প্রতিষ্ঠান
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্প খাতে অবদানের স্বীকৃতি প্রদান, প্রণোদনা সৃষ্টি, সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করা এবং বেসরকারি খাতে শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে ছয় ক্যাটাগরির ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ‘রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার-২০২১’ প্রদান করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক/প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ প্রদান করেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানার সভাপতিত্বে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ ও এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলম। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকারের যুগোপযোগী পরিকল্পনা ও নীতি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে শিল্প খাতে উল্লেখযোগ্য ও দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগের অংশ হিসেবে শিল্প মন্ত্রণালয় নিয়মিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প পুরস্কার’, ‘রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার’, ‘সিআইপি (শিল্প) কার্ড’, ‘প্রোডাক্টিভিটি অ্যান্ড কোয়ালিটি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ প্রভৃতি পুরস্কার প্রদান করে আসছে। এ ধরনের স্বীকৃতি শিল্প উদ্যোক্তাদের নিজ নিজ কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের উৎকর্ষ সাধনে অনুপ্রাণিত করবে। এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে নবীন শিল্প উদ্যোক্তারাও নিজেদের পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন এবং বিশ্বমানের শিল্প স্থাপনে উজ্জীবিত হবেন।” 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুস শহীদ বলেন, ‘কৃষি উৎপাদনে ঈর্ষণীয় সাফল্য থাকা সত্ত্বেও আমরা কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও রপ্তানিতে অনেকটা পিছিয়ে আছি। বছরে আমাদের কৃষিপণ্য রপ্তানি হয় মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের মতো। অথচ এখানে সম্ভাবনা অনেক বেশি, কৃষিপণ্য রপ্তানি করে প্রতিবছর কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব।’ 

শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী ছয় ক্যাটাগরির মোট ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান/উদ্যোক্তাকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে বৃহৎ শিল্প ক্যাটাগরিতে ছয়টি, মাঝারি শিল্প ক্যাটাগরিতে তিনটি, ক্ষুদ্রশিল্প ক্যাটাগরিতে চারটি, মাইক্রো শিল্প ক্যাটাগরিতে তিনটি, কুটির শিল্প ক্যাটাগরিতে তিনটি এবং হাইটেক শিল্প ক্যাটাগরিতে একটি।

দুর্বল কোম্পানি জেড গ্রুপে স্থানান্তর করতে পারবে ডিএসই

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১২:০৭ পিএম
দুর্বল কোম্পানি জেড গ্রুপে স্থানান্তর করতে পারবে ডিএসই

পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানি ঘোষিত লভ্যাংশের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পরিশোধ বা বিতরণ করতে ব্যর্থ হলে ওই প্রতিষ্ঠানকে জেড গ্রুপে স্থানান্তর করতে পারবে স্টক এক্সচেঞ্জ, এমন বিধান করে এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এখন থেকে এ নীতিমালার আলোকে দুর্বল কোম্পানিগুলোকে ‘জেড’ গ্রুপে স্থানান্তর করবে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। এ জন্য আলাদা করে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কোনো অনুমোদন নিতে হবে না।

গত সোমবার (২০ মে) এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। আগামী ২ জুলাই থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। নতুন নিয়মানুযায়ী, পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ছাড়িয়ে গেলে ওই কোম্পানি জেড গ্রুপে যাবে।

বিএসইসির নির্দেশনায় বেশ কিছু শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার যে কোনো একটি শর্ত লঙ্ঘন করলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ওই কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করতে পারবে।

বিএসইসির নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানি শেষ লভ্যাংশ ঘোষণার তারিখ থেকে বা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির তারিখ থেকে পরপর দুই বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হলে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হবে। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে ব্যর্থ হলেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে কোনো রিট পিটিশন বা আদালতে বিচারাধীন কোনো আইনি প্রক্রিয়ার ফলস্বরূপ এজিএম অনুষ্ঠিত না হওয়ার ক্ষেত্রে, অর্থাৎ উপ-বিচারের বিষয় বা জোরপূর্বক ঘটনা ঘটলে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২ বছর সময় পর্যন্ত বিবেচনা করা যেতে পারে।

এতে বলা হয়েছে, যদি তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংস্কার বা বিএমআরই (ভারসাম্য, আধুনিকীকরণ, পুনর্বাসন এবং সম্প্রসারণ) এর জন্য এই ধরনের কোনো সময় ব্যতীত ন্যূনতম ছয় মাস ধরে একটানা উৎপাদনে না থাকলে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হবে।

এ ছাড়াও পুঁঞ্জিভূত লোকসানের পরিমাণ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ছাড়িয়ে গেলে ওই কোম্পানিকে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা যাবে।
এ ছাড়া কোনো কোম্পানি ঘোষিত বা অনুমোদিত লভ্যাংশের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পরিশোধ বা বিতরণ করতে ব্যর্থ হলে সেটিকে জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করতে পারবে স্টক এক্সচেঞ্জ।

ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান ছাড়া জেড ক্যাটাগরিভুক্ত অন্য কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তা-শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকদের শেয়ার লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। বিএসইসির অনুমতি ছাড়া তারা ওই কোম্পানির কোনো শেয়ার কিনতে, বেচতে বা হস্তান্তর করতে পারবেন না।
টি+৩ ভিত্তিতে জেড ক্যাটাগরির শেয়ারের লেনদেনের নিষ্পত্তি হবে।

নতুন এ আদেশের মাধ্যমে এর আগে ২০০৮ সালের ১৫ জানুয়ারি, ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর ও চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিএসইসির জারি করা আদেশ প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রদ কিংবা প্রাধান্য দেওয়া হবে।

এর আগে কিসের ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি জেড গ্রুপে যাবে, সে বিষয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি একটি নির্দেশনা জারি করে বিএসইসি। ওই নির্দেশনার শেষ পয়েন্টে বলা হয়, ইস্যুয়ার কোম্পানির পরবর্তী লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণা অথবা বার্ষিক/অন্তর্বর্তী লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণার দিন থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনায় এমন বলা হলেও চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ২২ কোম্পানিকে জেড গ্রুপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। 

তখন বাজারসংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনায় বলা হয়েছে এক রকম, আর বাস্তবায়ন হয়েছে অন্যভাবে। বিএসইসির নির্দেশনায় যেভাবে বলা হয়েছে, তাতে কোম্পানিগুলোর পরবর্তী লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণা আসার পর জেড গ্রুপে স্থানান্তরসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। 

অন্যদিকে বিএসইসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সার্বিক বাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে জেড গ্রুপ নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিগুলোকে জেড গ্রুপে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়ন করেছে স্টক এক্সচেঞ্জ। সুতরাং স্টক এক্সচেঞ্জ থেকেই এ বিষয়ে প্রকৃত ব্যাখা দিতে পারবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে বলা হয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার আলোকেই ২২ কোম্পানিকে জেড গ্রুপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ডিএসইর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিআরও) এ বিষয়ে বিএসইসির সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

জেড গ্রুপ নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি জারি করা বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়, যেসব কোম্পানি পরপর দুই বছর লভ্যাংশ দেবে না এবং দুই বছর বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করবে না সেগুলো জেড গ্রুপভুক্ত হবে। এ ছাড়া ছয় মাস কোনো কোম্পানি উৎপাদনে না থাকলেও জেড গ্রুপভুক্ত হবে। এমনকি কোম্পানির রিটেইনড আর্নিংস পরিশোধিত মূলধনের থেকে বেশি হলেও, ওই কোম্পানির ঠিকানা হবে জেড গ্রুপে।

তবে নির্দেশনার শেষ পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ইস্যুয়ার কোম্পানির পরবর্তী লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণা অথবা বার্ষিক/অন্তর্বর্তী লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণার দিন থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে।

কিন্তু বিএসইসির নির্দেশনা জারির পর ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই হুট করে অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, আরামিট সিমেন্টস, আজিজ পাইপস, ডেল্টা স্পিনিং, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিবিবি পাওয়ার, ইনটেক, ইন্টারন্যাশনল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, কেয়া কসমেটিকস, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং, ন্যাশনাল টি, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইনান্স, রিজেন্ট টেক্সটাইল, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, রিং শাইন টেক্সটাইল, সাফকো স্পিনিং, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক, ঢাকা ডাইং, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, ইয়াকিন পলিমার এবং জাহিনটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজকে জেড গ্রুপভুক্ত করেছে ডিএসই।

চলতি বছরের ৪ মার্চ আরও ৬টি জেড শ্রেণিভুক্ত হয়। তাতে ডিএসইতে জেড শ্রেণির কোম্পানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫টিতে।

এ সময়ে যে ৬টি কোম্পানিকে জেড শ্রেণিভুক্ত করা হয় তার মধ্যে প্রাইম টেক্সটাইল, প্রাইম ফিন্যান্স, এএফসি অ্যাগ্রো ও অ্যাকটিভ ফাইন ‘বি’ শ্রেণি থেকে এবং নিউলাইন ক্লথিংস ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ‘এ’ শ্রেণি থেকে জেড শ্রেণিতে স্থানান্তর হচ্ছে।

জেড গ্রুপভুক্ত হওয়ায় এই কোম্পানিগুলোর শেয়ারের বিপরীতে মার্জিন ঋণসুবিধাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। হুট করে এমন সিদ্ধান্ত আসায় ১৮ ফেব্রুয়ারি লেনদেনের শুরুতেই বড় ধরনের দরপতনের মধ্যে পড়ে কোম্পানিগুলো। 

শহিদুল ইসলাম নামের এক বিনিয়োগকারী বলেন, দুই দফায় ২৮ কোম্পানিকে জেড গ্রুপে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিন কোম্পানিতে আমার বিনিয়োগ রয়েছে। এতে আমি বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে পড়েছি। জানি না আর কত লোকসান হবে।

রফিকুল ইসলাম নামের আরেক বিনিয়োগকারী বলেন, ২৮ কোম্পানি জেড গ্রুপ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থবিরোধী হয়ে গেছে।

তখন ডিএসইর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. এটিএম তারিকুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন বিএসইসি যেভাবে বলেছে, সেভাবেই করা হয়েছে। আমাদের সিআরও বিএসইসি সংশ্লিষ্ট অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে এটা ঠিক করেছেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর এক সদস্য খবরের কাগজকে বলেন, ফ্লোর প্রাইস দিয়ে দীর্ঘদিন বাজার এক প্রকার বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর বাজারে যখন গতি ফিরছিল, তখন জেড গ্রুপ নিয়ে নির্দেশনা আবার নতুন অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। বিএসইসির নির্দেশনায় ছিল একরকম। বাস্তবায়ন হয়েছে অন্যভাবে। এর ফলে বিএসইসি এবং ডিএসইর মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে।

তবে নতুন নির্দেশনার ফলে এ দ্বন্দ্ব কিছুটা নিরসন হবে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। 

তালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে কোনগুলো জেড (জাঙ্ক) ক্যাটাগরিভুক্ত হবে, সে বিষয়ে বিএসইসি গত তিন বছরে ৫ বার আইন বদলেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমান কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের সাড়ে তিন মাস পর জেড ক্যাটাগরি নির্ধারণে ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশনা জারি করে। কিন্তু তার কার্যকারিতা স্থগিত রাখে বিএসইসি। এ কারণে টানা দুই বছর নগদ লভ্যাংশ দেওয়ায় ব্যর্থ কোম্পানিকে জেড ক্যাটেগরিভুক্ত করার কথা বলা হলেও টানা চার বছর কোনো লভ্যাংশ না দিয়েও তারা ‘এ’ বা ‘বি’ ক্যাটেগরিতে ছিল।

কাঁচামাল সরবরাহে উদ্বেগ অ্যালুমিনিয়ামের দাম বেড়ে দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১২:০৩ পিএম
অ্যালুমিনিয়ামের দাম বেড়ে দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে অ্যালুমিনিয়ামের দাম বেড়ে গত মঙ্গলবার প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। ধাতুটির কাঁচামাল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় এবং আগের সেশনে তামার দাম রেকর্ড শীর্ষের কাছাকাছি থাকার কারণে অ্যালুমিনিয়ামের দাম ১৬ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক বৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে। খবর রয়টার্সের।

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থাটির খবরে বলা হয়, ধাতুপণ্যের ফিউচার মার্কেট লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) তিন মাসের মধ্যে সরবরাহের চুক্তিতে অ্যালুমিনিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে। পণ্যটির দাম বেড়ে বর্তমানে টনপ্রতি ২ হাজার ৭৩৩ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এই দাম ছিল ২০২২ সালের জুন মাসের শুরুতে বৃদ্ধির পর থেকে সর্বোচ্চ। এর আগে ধাতুপণ্যটির দাম ছিল টনপ্রতি ২ হাজার ৭৬৫ ডলার ৫০ সেন্ট।
আর্থিক পরিষেবা সংস্থা মারেক্সের পরামর্শক এডওয়ার্ড মায়ের বলেন, মৌলিক ধাতুর বড় বাজারে (দাম বাড়ার দিক থেকে) সাধারণত তামার তুলনায় অ্যালুমিনিয়াম পিছিয়ে থাকে, তবে তহবিলের অর্থ শেষ পর্যন্ত অ্যালুমিনিয়ামেও বিনিয়োগ করা হয়। আরও সহজ করে বলতে গেলে, ধাতুর দাম বাড়লে অ্যালুমিনিয়ামের দাম তামার তুলনায় দেরিতে বাড়ে। কিন্তু কিছুদিন পর অ্যালুমিনিয়ামের দামও ঠিকই বাড়তে শুরু করে। কারণ বিনিয়োগকারীরা অ্যালুমিনিয়ামেও বিনিয়োগ করতে শুরু করেন।

খবরে বলা হয়, বিদ্যুৎ ও নির্মাণ খাতে ব্যবহৃত তামার দাম গত সোমবার রেকর্ড সর্বোচ্চ টনপ্রতি ১১ হাজার ১০৪ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছেছে। বাজারে তামা কম থাকার আশঙ্কা এবং শিল্প কারখানাগুলো পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে (গ্রিন এনার্জি) পরিবর্তিত হওয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতির সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে বিনিয়োগকারী এবং কারবারিরা তামা কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন, যা পণ্যটির দাম বাড়ায় ভূমিকা রেখেছে।

রয়টার্স জানায়, বিদ্যুৎ, নির্মাণ ও পরিবহন শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়ামের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে অবস্থিত রিও টিন্টোর পরিশোধনাগার থেকে অ্যালুমিনা (অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক) রপ্তানির জন্য তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে করা চুক্তি নিয়ে একটি অপ্রত্যাশিত ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই ঘোষণার ফলে সরবরাহের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর ফলেই বাজারে অ্যালুমিনিয়ামের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রসঙ্গত, রিও টিন্টো বিশ্বের বৃহত্তম অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি। কুইন্সল্যান্ডে প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতির কারণে তাদের পরিশোধনাগারগুলোর পূর্ণ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে তারা তাদের চুক্তি অনুযায়ী অ্যালুমিনা সরবরাহ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়, অ্যালুমিনা হলো বক্সাইট ও অ্যালুমিনিয়ামের মধ্যবর্তী একটি পণ্য। মেইর বলেন, ‘অন্যান্য অ্যালুমিনা উৎপাদকদের দ্রুত এই ঘাটতি পূরণ করা কঠিন হতে পারে, তাই আগামী কয়েক দিনে আমরা অ্যালুমিনা ও অ্যালুমিনিয়াম- এই দুটির দাম আরও বাড়তে দেখতে পারি। মেইর আরও বলেন, তবে বক্সাইটের কোনো ঘাটতি নেই এবং তাই অ্যালুমিনা ফিড (অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের কাঁচামাল) অবশ্যই রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থাটির খবর বলছে, এলএমইর নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর গুদামে থাকা অ্যালুমিনিয়ামের মজুত, গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। বর্তমানে ৫ লাখ ৫৬ হাজার ১০০ টন অ্যালুমিনিয়ামের মজুত রয়েছে। মজুত কমে যাওয়ার কারণ হলো, ৮২ হাজার টন অ্যালুমিনিয়ামের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে অ্যালুমিনিয়ামের দাম আরও বেড়েছে।

অন্যদিকে এলএমইতে তামার দামও দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ১০ হাজার ৯১৪ ডলারে পৌঁছেছে।

নেদারল্যান্ডসের অ্যামস্টারডামভিত্তিক আর্থিক পরিষেবা কোম্পানি আইএনজি গ্রুপের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন বলেছেন, ‘তামার দামে বাজারের অস্থিরতার মাত্রা দেখে মনে হচ্ছে, বাজারের ধারণার ওপর নির্ভর করে দাম নির্ধারিত হচ্ছে, বাস্তব চাহিদা- সরবরাহের ওপর নির্ভর করে নয়।’

এদিকে অন্য ধাতুগুলোর মধ্যে দস্তার দাম ১ দশমিক ৭০ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ৩ হাজার ১৬৭ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া সিসা দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ২ হাজার ৩৪২ ডলার ৫০ সেন্ট হয়েছে। তবে টিনের দাম দশমিক ৩০ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৩৪ হাজার ৩৫০ এবং নিকেলের দাম ১ দশমিক ৪০ শতাংশ কমে টনপ্রতি ২১ হাজার ৩০০ ডলারে নেমেছে।

শ্যামনগরে লবণাক্ত জমিতে অভাবনীয় কৃষি সাফল্য

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৪, ১১:৫৮ এএম
শ্যামনগরে লবণাক্ত জমিতে অভাবনীয় কৃষি সাফল্য
ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরা জেলায় লবণাক্ত জমিতে দেখা দিয়েছে অভাবনীয় কৃষি সাফল্য। দিগন্তজুগড় শস্যের খেতগুলোয় ভুট্টা ও সবজির আবাদে সবুজ হয়ে গেছে। এক ফসলি জমিগুলো এখন তিন ফসলে রূপান্তরিত হচ্ছে। সেই লবণাক্ত জমিতে লাউ, কুমড়া, পেঁপে, ঢেঁড়শ, পুঁইশাক, শসা, লালশাক এবং উচ্ছেসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি উৎপাদন করে সফল হয়েছে।

গত কয়েক দশক ধরেই লবণাক্ততার কারণে জমিতে ফসল ফলত না। মিঠাপানির আধারগুলো শুকিয়ে গেছে। গ্রামের পাশ দিয়ে খাল প্রবহমান থাকলেও পানির অভাবে শস্য আবাদ করতে পারেন না উপকূলের কৃষকরা। শুষ্ক মৌসুমে দিগন্তজুড়ে দেখা দেয় খরা। ইতোমধ্যে সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখছেন এই এলাকার কৃষকরা। পতিত থাকা ফসলি জমির কোনায় পুকুর করে মিঠাপানির সংস্থান করছেন তারা। সেই পানি দিয়ে এখন ফলানো হচ্ছে শস্য। দিগন্তজুগড় শস্যের খেতগুলোয় ভুট্টা ও সবজির আবাদে সবুজ হয়ে গেছে। এক ফসলি জমিগুলো এখন তিন ফসলে রূপান্তর হচ্ছে। 

সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার কাশিমারি ইউনিয়নের খুটিকাটা গ্রামের কৃষকরা আগে শুধুমাত্র আমন ধান আবাদ করতে পারতেন। এখন সেই লবণাক্ত জমিতে লাউ, কুমড়া, পেঁপে, ঢেঁড়শ, পুঁইশাক, শসা, লাল শাক এবং উচ্ছেসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি উৎপাদন করে সফল হয়েছেন তারা। সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন আশপাশের কৃষকদের। 

খুটিকাটা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক নির্মল সরকার, রবিন্দ্র নাথ সরকার ও নিহার সরকার জানান, লবণাক্ততার কারণে তাদের গ্রামের শত শত হেক্টর কৃষিজমি পতিত থাকে। ঠিকমতো ফলে না ফসল। তাছাড়া মিঠাপানির আধারগুলো শুকিয়ে গেছে। গত বছর সিনজেনটার সহযোগিতায় লবণাক্ত জমিতে ফসল উৎপাদন করে এলাকায় রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছেন তারা। গ্রামের অধিকাংশ কৃষককে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে পুকুর খনন করে দিয়েছে সিনজেনটা। এ ছাড়া আবাদের জন্য ভার্মি কম্পোস্ট সার প্লান্ট, শস্য বীজ এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করেছে তারা। চলতি মৌসুমে প্রতি বিঘা জমিতে একেকজন কৃষক ৩০-৫০ হাজার টাকা লাভ করেছেন। আরও অধিকসংখ্যক পুকুর খনন এবং গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখনন করে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করলে বারো মাসই সবজিসহ বিভিন্ন প্রকার ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।
এ বিষয়ে সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেদায়েত উল্লাহ বলেন, ‘সাতক্ষীরার যে অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে সারা বছর ফসল ফলাতে পারত না। সেখানে সিনজেনটার প্রযুক্তিগত ও উপকরণ সহায়তার মাধ্যমে এক ফসলি জমিকে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব হয়েছে। এতে কৃষকের সক্ষমতা এবং জীবন-জীবিকার মান উন্নয়ন হয়েছে। কৃষিতে একটা আমূল পরিবর্তন আনা গেছে। এ অঞ্চলে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার পাশাপাশি রিজেনারেটিভ এগ্রিকালচার পদ্ধতিগুলো বাস্তবায়ন করছে সিনজেনটা। গো গ্রো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসডিজির অনেকগুলো লক্ষ্য পূরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জলবায়ুর পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে একটি মডেল হিসেবে আমরা কাজ করছি।’

এই কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘উপকূলের পরিস্থিতি বিবেচনা করে কৃষকদের শস্য আবাদে পুকুর খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিনজেনটা। এতে করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে লবণাক্ত জমিতে ফসল ফলাতে পারছেন তারা। উপকূলীয় এলাকায় অধিকসংখ্যক পুকুর খননের পাশাপাশি উন্মুক্ত জলাশয় সংরক্ষণ করতে হবে। যাতে কৃষকরা বৃষ্টির পানি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করতে পারেন। সিনজেনটা কৃষকদের পুকুর খননের পাশাপাশি বীজ, ভার্মি কম্পোস্ট, সোলার ইরিগেশন ও কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।’

জানা গেছে, খুটিকাটা গ্রামে শস্য আবাদের মাধ্যমে কৃষিকে টেকসই রূপান্তর করতে গো গ্রো প্রকল্প গ্রহণ করেছে সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেড। গত বছরে শুরু হওয়া এ প্রকল্পে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান জড়িত রয়েছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, উপকূলে বসবাসরত মানুষের বারোমাসই নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়। ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও খরার কারণে এসব উপকূলবাসীদের টিকে থাকা মুশকিল হয়ে পড়েছে। সেখানে জমি পতিত থাকলে অর্থনৈতিকভাবে তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন। তাদের টিকে থাকার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উপায় বের করতে হবে আমাদের। কারণ ঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যা বন্ধ করা তো কারও পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে এমন পরিবেশে টিকে ফসল উৎপাদন বাড়াতে হবে। সিনজেনটার এ প্রযুক্তি এই জেলার অন্য গ্রামে সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। সূত্র: বাসস