ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম
Nagad desktop

গভর্নরের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের ক্ষোভ, প্রতিকার চেয়ে চিঠি

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:২৫ এএম
গভর্নরের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের ক্ষোভ, প্রতিকার চেয়ে চিঠি
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক আচরণ ও প্রতিকূল কর্মপরিবেশকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংস্থাটির প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে সম্প্রতি গভর্নরের কাছে পাঠানো লিখিত অভিযোগপত্রে তাদের ক্ষোভের বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে। এ ছাড়া অভিযোগপত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতর ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের গভীর চিত্র উঠে এসেছে।

কাউন্সিলের চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে স্বীকৃত ঐতিহ্য হলো- গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত ও স্বচ্ছ যোগাযোগ। কাউন্সিলের দাবি, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় এ সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যা কর্মকর্তাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান ভবনের ৪র্থ তলায় অবস্থিত এক্সিকিউটিভ ফ্লোরের সব প্রবেশদ্বার হঠাৎ করে তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এখন শুধু লিফট ব্যবহার করে ওই ফ্লোরে যেতে হচ্ছে। এই ঘটনা নজিরবিহীন এবং কর্মকর্তাদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করছে।

কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্তকে প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, বিরূপ পদোন্নতি নীতিমালা কিংবা কর্মকর্তাদের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করতে গভর্নর ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করছেন।

নারীকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, বাইরের লোকদের ব্যবহারের পথ দিয়ে তাদের যেতে বাধ্য হতে হচ্ছে। তাদের জন্য এটি নিরাপত্তাহীনতা ও অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সংস্কারের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তারাও অংশগ্রহণমূলক সংস্কার প্রত্যাশা করেছিলেন।

কাউন্সিল জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণের জন্য গত ১৯ মার্চ গভর্নর ও ডেপুটি গভর্নরদের কাছে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে গভর্নর বলেছিলেন, কাউন্সিলকে সংস্কার কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কিন্তু আট মাস পার হলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকে পদশূন্যতার সংখ্যা এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে। চলতি বছরের ৩০ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, ৬ হাজার ২৬০ জন প্রথম শ্রেণির পদের মধ্যে ১ হাজার ৯৩৬টি এখনো শূন্য। সেই সঙ্গে নির্বাহী পরিচালকের ৪টি পদ বহু বছর ধরেই খালি রয়েছে। চলতি বছরের ১৯ মের পর অতিরিক্ত পরিচালক পর্যায়েও কোনো পদোন্নতি হয়নি এবং গত ৩১ আগস্টভিত্তিক প্যানেল এখনো অনুমোদিত হয়নি। কাউন্সিলের মতে, যোগ্য কর্মকর্তারা অবহেলিত হচ্ছেন এবং পদোন্নতি ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হচ্ছে।

কাউন্সিলের চিঠিতে বলা হয়েছে, দুদকের অনুরোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকদের বিভিন্ন স্থানে পরিদর্শন করতে হয়েছে। কিন্তু পরিদর্শকরা আইন অনুযায়ী কাজ করলেও দুদকের প্রতিবেদনগুলোতে তাদেরকেই অনিয়মের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সরকারি ব্যাংকের ঋণ বরাদ্দের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি সংশ্লিষ্ট না থাকলেও দুদকের অভিযোগপত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানে গভর্নরকে বহুবার অবহিত করলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সরকারের অন্যান্য সংস্থার ৫ম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তাদের গাড়ি সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা তা পাচ্ছেন না। কাউন্সিল বিষয়টি বারবার জানালেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো পদক্ষেপ নেই। কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ব্যক্তিগত লকার হঠাৎ করে ফ্রিজ করে দেওয়ায় তারা বিব্রত ও বিপাকে পড়েছেন। পারিবারিক অনুষ্ঠানে মূল্যবান জিনিসপত্রও ব্যবহার করতে পারছেন না। সিনিয়র কর্মকর্তা জুনিয়রদের চেয়ে কম বেতন পাওয়ার মতো অস্বাভাবিকতা দূর করতে সরকারি ব্যাংকের উদ্যোগ থাকলেও বাংলাদেশ ব্যাংকে তা ঝুলে আছে দীর্ঘদিন।

কাউন্সিলের অভিযোগ, বাংলাদেশ ব্যাংকের অভিজ্ঞ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের পাশ কাটিয়ে গভর্নর ব্যয়বহুল উপদেষ্টা ও পরামর্শকদের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। এদের অনেকে দেশের ব্যাংকিং পরিবেশ সম্পর্কে ভালোভাবে অবহিত নন। ফলে অনেক পরামর্শ ব্যাংকের বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কাউন্সিল জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে জরুরি সাক্ষাতের অনুরোধ করলেও গভর্নর ছয় মাসে একবার বৈঠক করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন।

অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত অগুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে গভর্নর নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন, যার ফলে দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ নথি নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে। 

ট্রেনিং অ্যাকাডেমির প্রেষণ ভাতা বাতিল, প্রশিক্ষণের মেয়াদ ও ভাতা কমানোসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। কর্মকর্তারা মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে দুর্বল করতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাউন্সিল এসব বিষয়ে অনেকবার গভর্নরকে অবহিত করলেও তিনি কোনো উদ্যোগ নেননি।

বাংলাদেশ ব্যাংকে অতীতে স্বচ্ছ পদোন্নতি নীতিমালার কারণে দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় স্থিতিশীল ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বলা হচ্ছে, কর্মকর্তারা নাকি ‘অদক্ষ’, তাই নীতিমালা পরিবর্তন করা হবে।

কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষতা বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ না নিয়েই নীতিমালা পরিবর্তন করলে এতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অসন্তোষ নিরসনে কাউন্সিল দুটি প্রধান দাবি জানিয়েছে, প্রথমত, দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ ও প্রতি ১৫ দিনে গভর্নরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক। কাউন্সিল জানিয়েছে, তারা সবসময়ই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও গভর্নরের সঙ্গে সহযোগিতায় প্রস্তুত। তবে এ জন্য উন্মুক্ত যোগাযোগ কাঠামো ও আস্থার পরিবেশ জরুরি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া এই অসন্তোষ যদি দ্রুত সমাধান না করা হয়, তবে দেশের আর্থিক খাতের অভিভাবক ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনিক সংকটে পড়তে পারে- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কর্মকর্তারা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক শক্তিশালীকরণের স্বার্থে গভর্নরের প্রতি তাৎক্ষণিক, দৃশ্যমান ও অংশগ্রহণমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্য
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই প্রস্তাব রাখেন। 

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৬ শতাংশের মধ্যে রাখা লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে তা এই লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছেও নেই। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে।

এ বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশের প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যাতে জনজীবনে একটু স্বস্তি ফিরে আসে।

নতুন বাজেট পুঁজিবাজারকে আস্থায় আনতে নানা পদক্ষেপ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:২২ এএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম
নতুন বাজেট পুঁজিবাজারকে আস্থায় আনতে নানা পদক্ষেপ
ছবি: খবরের কাগজ

পুঁজিবাজারকে আরও স্বচ্ছ, বহুমাত্রিক ও আস্থাভিত্তিক করতে মূলধন সংগ্রহ সহজীকরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। শিল্প, অবকাঠামো, নগর উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ এবং সম্ভাবনাময় ব্যবসা শুধু ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভর করলে আর্থিক খাতের ওপর চাপ বাড়ে। তাই পুঁজিবাজারকে গভীর, বহুমাত্রিক, স্বচ্ছ ও আস্থাভিত্তিক করে উৎপাদনশীল খাত ও সম্ভাবনাময় কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের কার্যকর প্ল্যাটফর্মে পরিণত করা হবে। ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলো কেন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হয় না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা, অতিরিক্ত ব্যয়, একই ধরনের কাগজপত্র বারবার দাখিল এবং অনুমোদন ও পরিপালনসংক্রান্ত অস্পষ্টতা ধাপে ধাপে কমানো হবে। বিনিয়োগকারীর সুরক্ষা অক্ষুণ্ন রেখে তালিকাভুক্তির মানদণ্ড আরও স্বচ্ছ, বাস্তবসম্মত এবং প্রবৃদ্ধিশীল কোম্পানির জন্য সহায়ক করা হবে।

তিনি আরও বলেন, আইপিও প্রক্রিয়া সহজ, সময়াবদ্ধ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। আবেদন, আনুষঙ্গিক দলিল, যাচাই-বাছাই, ফি পরিশোধ, সংশোধন ও অনুমোদনের ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন হবে। ইস্যুকারী কোম্পানি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে হবে। যোগ্য ও পরিপক্ব কোম্পানির জন্য সরাসরি অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হবে।

পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে পেনশন তহবিল, বিমা প্রতিষ্ঠান, অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি), মিউচুয়াল ফান্ড এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে। নতুন এএমসি গড়ে তোলা, পেশাদার ফান্ড ম্যানেজমেন্ট জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়কে বিনিয়োগে রূপান্তরের সুযোগ বাড়িয়ে মিউচুয়াল ফান্ডের আকার ও সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

ঘোষিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে করপোরেট বন্ড মার্কেট সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে মিউনিসিপ্যাল বন্ড ইস্যুর ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি ও বেসরকারি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে বন্ড, সুকুক, অবকাঠামো ফান্ডের ব্যবহার বাড়ানো হবে, যাতে ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা কমে। বিনিয়োগের সুযোগ ও বাণিজ্যিক কাঁচামালের পরিসর বাড়াতে দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কার্যকরভাবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিদ্যমান লাইসেন্স কার্যকর করা, প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

দেশীয় কোম্পানির জন্য আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জে দুবার তালিকাভুক্তের সুযোগ এবং বাছাইকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। অনাবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ সহজ করতে এনআইটিএ হিসাব খোলা ও পরিচালনার প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়াতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির তথ্য প্রকাশ, আর্থিক প্রতিবেদন, নিরীক্ষা, শেয়ার মূল্যায়ন, ক্রেডিট রেটিং, আইপিও ব্যবস্থাপনা ও রিসার্চ রিপোর্টের মান উন্নত করা হবে। অডিটর, ভ্যালুয়ার, ইস্যু ম্যানেজার, ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি, মার্চেন্ট ব্যাংকার, ব্রোকার ডিলার এবং অন্যান্য বাজার-মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা স্পষ্ট করা হবে।

লেনদেনের পর শেয়ার ও অর্থ হস্তান্তর দ্রুত নিরাপদ করতে সেটেলমেন্টের সময় ধাপে ধাপে কমানো হবে। বর্তমানে টি+২ ভিত্তিক নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালু থাকলেও তা টি+১-এ নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও বাজার অবকাঠামো নিশ্চিত করে পরবর্তী ধাপে ১+০ বা একই দিনে নিষ্পত্তির লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হবে। বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, ব্যাংক, ব্রোকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্যব্যবস্থার সমন্বয় জোরদার করা হবে। পুঁজিবাজারসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তিব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা দ্রুত নিষ্পত্তি আদালত গঠনের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে, যার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আইনি ক্ষমতা থাকবে। এতে বিনিয়োগকারীর আস্থা বাড়বে এবং বাজারে শৃঙ্খলা শক্তিশালী হবে।

এসব উদ্যোগ পুঁজিবাজারকে শুধু শেয়ার কেনাবেচার ক্ষেত্র নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ, অবকাঠামো অর্থায়ন, সঞ্চয়কে উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তর এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করবে।

আইসিটিতে লক্ষ্য জিডিপির ১০ শতাংশ, স্টার্টআপে বিশেষ গুরুত্ব

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
আইসিটিতে লক্ষ্য জিডিপির ১০ শতাংশ, স্টার্টআপে বিশেষ গুরুত্ব
ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পকে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে নতুন বাজেটে ব্যাপক পরিকল্পনা ও বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আইসিটি এবং টেলিকম খাতের বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জিডিপিতে এই খাতের অবদান আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমান ১-২ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর অব্যাহতি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে মোটা অংকের অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।

বাজেট নথির তথ্য অনুযায়ী, নতুন অর্থ বছরের জন্য ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে ২ হাজার ১৪১ কোটি টাকা; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে ২ হাজার ৪৯ কোটি টাকা; বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে ১৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা পরিচালন ও উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বরাদ্দগুলো মূলত প্রযুক্তি খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করার কাজে ব্যয় করা হবে।

বিশেষ করে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ 'স্টার্টআপ তহবিল' গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অর্থ নারী উদ্যোক্তা তৈরি, নারী উন্নয়ন এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের বিকাশে ব্যবহৃত হবে।
প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার আমদানি শুল্ক কাঠামোতে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে।

ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও মনিটর আমদানির ক্ষেত্রে সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ফ্ল্যাশ স্টোরেজ ডিভাইস এসএসডি আমদানির ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বজায় রেখে অন্যান্য সকল শুল্ক ও ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে।

তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি, সেবা আমদানি এবং অফিস ভাড়া গ্রহণের ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মেয়াদ ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের দেওয়া সেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ডিজিটাল অবকাঠামো শক্তিশালী করতে সরকার দেশব্যাপী সাশ্রয়ী ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে ১০০ এমবিপিএস থেকে ১ জিবিপিএস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের ১০ শতাংশ মানুষের কাছে ফাইভ-জি সেবা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং এআই- ড্রাইভেন ডেটা সেন্টার ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 


জয়ন্ত সাহা/এসএন

পরিবহন খাতের বরাদ্দে বড় কাটছাঁট, কমল ৪ বিভাগেরই

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
পরিবহন খাতের বরাদ্দে বড় কাটছাঁট, কমল ৪ বিভাগেরই
ছবি: সংগৃহীত

অবকাঠামোগত উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত পরিবহন খাতের চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় বড় অঙ্কে কমানো হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিবহন খাতের বরাদ্দ হ্রাসের শীর্ষে রয়েছে সেতু বিভাগ (৩ হাজার ১১৪ কোটি টাকা)। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয় (২ হাজার ৩ কোটি টাকা)। এরপর যথাক্রমে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ (১ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা) এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের (১ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা) বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের জন্য ৩৬ হাজার ৯১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৬ হাজার ১৭৬ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩০ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩৮ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে, এ বছর বিভাগটির বরাদ্দ ১ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা কমছে। যদিও সংশোধিত বাজেটের ২৫ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকার তুলনায় নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বরাদ্দ বেশি, কিন্তু উন্নয়নের মূল ধারার বাজেট হ্রাসের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো নির্মাণে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপদ ও আধুনিক রেল যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে রেলপথের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু নতুন অর্থবছরে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মধ্যে পরিচালন খাতে ৪ হাজার ৫০১ কোটি এবং উন্নয়ন খাতে ৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ১১ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, আগের বছরের তুলনায় বরাদ্দ কমছে ২ হাজার ৩ কোটি টাকা।

ব্যয় সাশ্রয়ী ও দক্ষ নৌপরিবহন খাতকে আরও শক্তিশালী করতে বন্দর আধুনিকায়ন ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। নতুন অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয়ে ৮৭৪ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয়ে ৮ হাজার ২০৭ কোটি টাকা রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এই খাতে বরাদ্দ কমছে ১ হাজার ১৯৮ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে সেতু বিভাগে। এ বিভাগের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ১০ কোটি এবং উন্নয়ন ব্যয় ২ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সেতু বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় বরাদ্দ কমছে ৩ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটের ৫ হাজার ৩২৬ কোটি টাকার তুলনায়ও এই বরাদ্দ বেশ কম।

যোগাযোগ খাত বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘সরকার যখন দেশকে মাল্টিমোডাল হাব হিসেবে গড়ে তোলা, হাজার কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড তৈরি এবং ইলেকট্রিক বাসের মাধ্যমে পরিবহন ব্যবস্থা আধুনিকায়নের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, তখন বাজেটে এই সংকোচন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতিকে কতটা বাধাগ্রস্ত করবে, তা এখন দেখার বিষয়।’

বরাদ্দ কমলেও সরকার যোগাযোগব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বেশ কিছু মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে অগ্রাধিকার পেয়েছে সড়ক, রেলপথ ও নৌ-পথের সমন্বিত উন্নয়ন।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে ‘সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’-এর আওতায় ১৪টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং ইলেকট্রনিক টোল ও স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার কিলোমিটার জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড তৈরি, ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং রাজধানীর যানজট নিরসনে মেট্রো ও মনোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, স্থানীয়ভাবে লোকোমোটিভ সংযোজন এবং সৈয়দপুর ও পাহাড়তলী ওয়ার্কশপের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার কমানোর ‘কর্ডলাইন’ প্রকল্প। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও চট্টগ্রাম বে-টার্মিনাল নির্মাণের মতো মেগাপ্রকল্পগুলোতে গতি আনার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌপথ সচল রাখতে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

জয়ন্ত সাহা/সালমান/

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৬:০২ পিএম
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব
ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের জন্য ১৭ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মোট বাজেটের মধ্যে এ দুটি খাতের বরাদ্দের অংশ দাঁড়িয়েছে ১.৮৫ শতাংশ।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বরাদ্দের প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবিত বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় বেশি হলেও সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৩৯৩ কোটি টাকা কম। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বরাদ্দ ছিল ১৬ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ বিভাগের জন্য ১৪ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয়ের জন্য ৫৭ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ১৪ হাজার ৯৩৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে পরিচালন ব্যয় ৯৫ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয় ২ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ বিভাগের বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতের কিছু মেগা প্রকল্পে একতরফা ও বিতর্কিত চুক্তির কারণে বিদ্যুৎ আমদানি ও কেনায় অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ খাতে বার্ষিক ভর্তুকির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশে আমদানি ও অন-গ্রিড নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৯১৯ মেগাওয়াট। তবে এই সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ খাতের দক্ষতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরকার একাধিক সংস্কার উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আধুনিকায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় কমাতে ‘লিস্ট কস্ট জেনারেশন’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাপাসিটি চার্জ ও বিদ্যুৎ কেনার চুক্তিগুলো পুনর্মূল্যায়নের কাজ চলছে। সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং স্মার্ট গ্রিড উন্নয়নের মাধ্যমে সিস্টেম লস কমিয়ে সরবরাহব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা এবং সঞ্চালন লাইন ১৫ হাজার সার্কিট কিলোমিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

জ্বালানি খাত নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের ভুল নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, অব্যবস্থাপনা এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে খাতটি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও মজুদ সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিবর্তে এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানির ওপর বেশি নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল ও এলএনজির দাম বেড়ে গেলেও সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে ভর্তুকি অব্যাহত রেখেছে। গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং জ্বালানি তেলের মূল্য সীমিতভাবে সমন্বয় করা হয়েছে।

জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, রিফাইনিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, আমদানি উৎসের বহুমুখীকরণ এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তার ভাষায়, স্থলভাগ ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান এবং দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জ্বালানি খাতকে আরও টেকসই ও স্বনির্ভর করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। 

রাজু/সালমান/