প্রবন্ধ রচনা
(২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশের পর)
পরিবেশ দূষণ ও প্রতিকার
পলিথিন ও তার প্রতিক্রিয়া: কদিন আগেও বাংলাদেশে পলিথিনের ব্যবহার ছিল ব্যাপক। দোকানে যেকোনো জিনিস কিনতে গেলে জন্য দোকানদাররা ক্রেতাদের পলিথিন দিয়ে দিত। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি পলিথিন ব্যবহার হয়। পলিথিন যেন মানুষের একটা জীবনসঙ্গী হয়ে গেছে। পলিথিন ব্যবহারের প্রতিক্রিয়া যে মারাত্মক নিচে তা আলোচনা করা হলো-
১. পলিথিন ৪০০ বছরেও পচে না। পলিথিন ব্যবহারের ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
২. পলিথিন মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করে।
৩. যেহেতু পলিথিন মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করে তাই গাছপালা ভালো জন্মে না, ফলে পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
৪. পলিথিনের কারণে ড্রেন, নালার ময়লা-আবর্জনা নদীতে বা সাগরে যেতে পারে না, ফলে সেই স্থানের পরিবেশ দূষিত হয়।
৫. এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে পলিথিনের এক বিশাল স্তর জমে গেছে, ফলে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আর এই পলিথিনের স্তর সরাতে গেলে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে।
পরিবেশ দূষণের ফল: পরিবেশ দূষণের জন্য ঝড়, বন্যা, খরা, অনাবৃষ্টি প্রভৃতি সৃষ্টি হচ্ছে। গাছপালার সঙ্গে প্রাকৃতিক বৃষ্টির যোগসূত্র রয়েছে। গাছপালা কেটে উজাড় করায় বৃষ্টিপাতও কমে আসছে। ফলে খরা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ফসল নষ্ট হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। দেখা দিচ্ছে খাদ্যাভাব। পানির স্তর ধীরে ধীরে গভীরে চলে যাচ্ছে। মাটি পানিশূন্য হয়ে পড়ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে জীবজন্তু ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে যাবে।
আরো পড়ুন : পরিবেশ দূষণ ও প্রতিকার বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব
যেভাবে পরিবেশ দূষণ রোধ করা যায়: সমস্যা যত বড় এবং জটিল হোক না কেন তার সমাধান বা প্রতিকার থাকেই। বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ দূষণ একটি বড় সমস্যা। কীভাবে এই সমস্যার প্রতিকার করা যাবে তার জন্য বিশ্বের উন্নত ও অনুন্নত সব দেশই চিন্তাভাবনা করছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গৃহীতও হয়েছে। পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধকল্পে জাতিসংঘের নির্দেশে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসরূপে পালিত হচ্ছে। বিজ্ঞানের ক্রম অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ কীভাবে দূষিত হচ্ছে তা বিশ্ববাসীর গোচরে আনার জন্য এই দিবস পালন করা হয়। পরিবেশ দূষণের হাত থেকে বাঁচার জন্য যা করতে হবে তা হলো-
১. সব ধ্বংসাত্মক পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ করতে হবে।
২. পরিবেশ সুন্দর ও নির্মল রাখতে হলে সমগ্র বিশ্ববাসীকে সচেতনভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
এ জন্য সবাইকে কবি সুকান্তের নিচের চরণগুলোর সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করতে হবে-
‘চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব-তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি।
নবজাতকের কাছে এ আমার অঙ্গীকার।’
পরিবেশ দূষণের নিয়ন্ত্রণ: পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে গাছ রোপণ করে এ পৃথিবীকে সবুজের সমরোহে ভরে দিতে হবে। একই সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে কয়লা ও গ্যাসের ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া কার্বন মনো অক্সাইডের হাত থেকে বাঁচার জন্য পুরোনো মোটরযানগুলোকে বাতিল করতে হবে। সেই সঙ্গে পৃথিবীর বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি রয়েছে তা দূর করার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে রকেট ও উপগ্রহ নিক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটানো বন্ধ করতে হবে।
উপসংহার: পরিবেশকে দূষণমুক্ত করতে হলে শুধু বায়ুমণ্ডলকে দূষণ মুক্ত করলেই হবে না। একই সঙ্গে পারিপার্শ্বিক মানব সমাজকে সচেতন করতে হবে। অশিক্ষা, কুশিক্ষা এবং দারিদ্র্যতা মানব সমাজের যে অবক্ষয় ডেকে এনেছে তা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে মানুষকে উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। দারিদ্রতা দূর করতে হবে। তা না হলে মানবজাতি পরিবেশ দূষণজনিত অপমৃত্যুকে ঠেকাতে পারবে না। পরিবেশ দূষণ সমস্যা নিয়ে আজ সবাই শঙ্কিত ও চিন্তিত। তাই পরিবেশ ধূষণ রোধে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা আলোচনা করা শুরু করেছে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
কবীর