কবিতা : আঠারো বছর বয়স
অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন: ‘এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার এ চরণে মানুষ ও সমাজের কল্যাণে আঠারোর তারুণ্যের অবদান প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।
আঠারো বছর বয়স রক্ত দিয়ে পুণ্য আনতে জানে। অন্যের কল্যাণে যে নিজের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করতে পারে, সে-ই প্রকৃত মানুষ। তরুণ বয়সে এটা সম্ভব হয়। আঠারোর তরুণরা মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করে। জীবনের সার্থকতা খুঁজে নেয় অন্যের উপকার সাধনের মাঝে। আঠারো বছর বয়স চলার পথে থেমে যায় না, দেহ ও মনের স্থবিরতা, নিশ্চলতা ও জরাজীর্ণতাকে অতিক্রম করে দুর্বার গতিতে পথ চলে। প্রগতি ও অগ্রগতির পথে নিরন্তর ধাবমানতাই এ বয়সের বৈশিষ্ট্য। এ বয়স দৈহিক ও মানসিক দিক দিয়ে অফুরন্ত প্রাণ শক্তির অধিকারী। তাই শত বাধা-বিপত্তি তাদের চলার পথকে রুদ্ধ করতে পারে না। মানবকল্যাণে, স্বদেশ ও স্বাধীনতা রক্ষায়, আর্তের সেবায় এ বয়স নিঃস্বার্থ আত্মদান করে বলেই কবি এ বয়সের আত্মদানের পুণ্যের কথা বলেছেন।
প্রশ্ন: আঠারো বছর বয়সকে মানবজাতির উত্তরণকালীন বয়স বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আঠারো বছর বয়স হচ্ছে কৈশোর থেকে যৌবনে রূপান্তরিত হওয়ার সময়। তাই আঠারো বছর বয়সকে মানবজাতির উত্তরণকালীন সময় বলা হয়। শৈশব ও কৈশোরের ছেলেখেলা ভুলে মানুষ ক্রমান্বয়ে পরিণত হতে থাকে। আঠারো বছর বয়স হচ্ছে মানুষের যৌবনে পদার্পণের সময়। এই সময় মানুষের দৈহিক ও মানসিক গঠনে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন সাধিত হয়। মানুষের মনোজাগতিক পৃথিবীতে এক ধরনের নীরব বিপ্লব সাধিত হয়। মানুষ হয়ে ওঠে সাহসী, আবেগী ও প্রবল উত্তেজনাসম্পন্ন। আর এই পুরো পরিবর্তনটির সূত্রপাত হয় আঠারো বছর বয়সে। এ সময়ে মানুষ ক্রমান্বয়ে অভিজ্ঞ ও মেধাসম্পন্ন হয়ে ওঠে। শৈশব-কৈশোরের কাঁচা মন এই বয়সে এসে আবেগ ও সাহসে ভরপুর হয়ে ওঠে। ফলে এই সময়কে মানবজাতির উত্তরণের সময় বলা হয়। নতুন করে নিজেকে আবিষ্কারের সময় বলেই আঠারো বছর বয়স মানবজাতির উত্তরণের সময়।
আরো পড়ুন : আঠারো বছর বয়স কবিতার ১টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব
প্রশ্ন: কীভাবে আঠারো বছর বয়স জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে?
উত্তর: ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতার আলোকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই আঠারো বছর বয়স জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।
তারুণ্যের শক্তি অসীম। হাজারো ইতিবাচক গুণের সমষ্টি হয়ে আঠারো বছর বয়স অপরিমেয় শক্তির প্রতীক হয়ে মানবজীবনের চলার পথে ভূমিকা রাখে। জড়, নিশ্চল, ব্যর্থ, জীর্ণ, পুরোনো ও প্রথাবদ্ধ জীবনকে পায়ে ঠেলে নতুন জীবনের পথে এগিয়ে চলে আঠারো বছর বয়স। নতুন স্বপ্নে উদ্দীপিত হয়ে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত আঠারো বছর বয়সী তরুণরা তাদের উদ্দীপনা, সাহসিকতা ও চলার দুর্বার গতিকে যথোপযুক্তভাবে প্রয়োগ করতে পারে। আর এভাবেই সে হয়ে উঠতে পারে জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি।
প্রশ্ন: কবি আঠারো বছর বয়সকে ‘দুঃসহ’ বলেছেন কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় কবি আঠারো বছর বয়সকে দুঃসহ বলেছেন। কারণ, এ বয়স মানবজীবনের এক উত্তরণকালীন পর্যায়, রূপান্তরিত নতুন এক অনুভূতিময় সত্তার জাগরণ কাল এ বয়স। কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করে মানুষ এ বয়সে। অন্যদের ওপর নির্ভরশীলতা পরিহার করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হয় তাকে। এদিক থেকে তাকে এক কঠিন সময়ের দুঃসহ অবস্থায় পড়তে হয়। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ বয়সকে বড়রা বুঝতে চায় না। আবার তরুণরাও বোঝে না যে, তারা বড় হলেও পরিণত নয়। ফলে এক বিবাদমান অবস্থা সৃষ্টি হয় ঘরে-বাইরে। তাই নানামুখী দ্বন্দ্বে এ বয়স নিজের কাছে এবং অন্যদের কাছেও হয়ে ওঠে দুঃসহ।
প্রশ্ন: ‘এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে’ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় ‘এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে’ বলতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন দুর্বার তারুণ্যের বয়স আঠারোর বৈশিষ্ট্যগুলোকে ইতিবাচকরূপে আমাদের জীবন চলার পথে যেন চালিকাশক্তিরূপে কাজে লাগানো যায়।
আঠারো বছর বয়স বহু ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। এ বয়সের মানুষ নিথর-নিশ্চল জীবনকে পেছনে ফেলে নতুন জীবন রচনার স্বপ্নে অগ্রগামী হয়। সাহসিকতা, উদ্দীপনা, কল্যাণ ও সেবাব্রতে ঝাঁপিয়ে পড়া এ বয়সের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। চারপাশের অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, পীড়ন, বৈষম্য ও ভেদাভেদের বিরুদ্ধে সোচ্চার এ বয়স। দেশ ও জনগণের মুক্তি সাধিত হতে পারে তারুণ্যদীপ্ত এ প্রজন্মের হাত ধরেই। তাই কবি বলতে চেয়েছেন, এ দেশের আঠারোর তারুণ্য যেন আরও ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যে ক্রিয়াশীল হয় এবং জাতীয় সমৃদ্ধির পথে দেশ ও জনগণকে এগিয়ে নেয়।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা
কবীর