কবিতা : আমি কিংবদন্তির কথা বলছি
মূলভাব লিখন
প্রশ্ন: ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতার মূলভাব লেখ।
উত্তর: মূলভাব: ‘আমি কিংবদন্তির কথা বলছি’ কবিতায় কবি বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির প্রতি বর্তমান প্রজন্মের দায়বোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। জাতির পুরোনো ইতিহাসের সবই কিংবদন্তি। প্রজন্মরা মুখে মুখে যা শোনে, ইতিহাসের পৃষ্ঠায় যা পড়ে, সংস্কৃতিতে যা ধারণ করে, সেসবই কিংবদন্তি। এ পতাকা, জমিন, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা আমাদের পূর্বপুরুষরা দিয়ে গেছেন পিঠে ঔপনিবেশিকতার চাবুকের কষাঘাত সহ্য করে। কিন্তু তারা কখনো আশাহীন হননি। সাময়িক পরাধীনতা, বন্দিত্ব তাদের অন্তরে প্রজ্বলিত স্বাধীনতাবোধকে মুছে দিতে পারেনি। হাজার হাজার বছর ধরে বাঙালির পূর্বপুরুষরা দেশাত্মবোধের চেতনাকে সমুন্নত রেখেছেন প্রয়োজনে ও সশস্ত্র যুদ্ধ আর সুন্দরকে ধারণ করে। দেশমাতৃকার মান বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ চেতনায় অতীতের বাঙালিরা সাম্য-মৈত্রী-স্বাধীনতাবোধে উজ্জীবিত হয়েছেন। কালে কালে আসা বিদেশি ঠকবাজ-বেনিয়া-ধর্মধ্বজাধারীরা বাঙালিকে মিষ্টি কথায় ভোলালেও চিরকালের দাসে পরিণত করতে পারেনি। বাঙালির কাছে দেশমাতৃকার গুরুত্ব
আরো পড়ুন : ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব
তাই আপন মায়ের চেয়েও সর্বদা বেশি। এ জাতির আজকের প্রজন্ম বা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যদি পূর্বপুরুষের দেখানো সংগ্রামের-সাহসের-মুক্তচেতনার পথে হাঁটতে পারে তবেই এ স্বাধীনতা, এ পতাকার মান থাকবে। যোগ্যরাই ধরে রাখতে পারে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে। তাই কবিতা শুনতে হবে, অর্থাৎ জাতির ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আগ্রহী হতে হবে। যে প্রজন্ম উত্তরাধিকার হিসেবে যোগ্য তারাই পূর্বপুরুষের কথা বলতে পারে গৌরব নিয়ে। তাদের হৃদয় হয় সূর্যের মতো তেজোদীপ্ত। তারাই ভবিষ্যতে প্রয়োজনে আবারও হাতে তুলে নিতে পারবে অস্ত্র; যে অস্ত্র অসুন্দরের বিরুদ্ধে সুন্দরের প্রতীক হবে।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা
কবীর