কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন বলিউড ভাইজান সালমান খান। এ কারণে প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে পেয়েছেন একাধিক হত্যার হুমকি। যতক্ষণ না কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাচ্ছেন সালমান, ততক্ষণ মুক্তি নেই তার এবং পরিবারের সদস্যদের।
তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ছেলেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন সালমানের বাবা সেলিম খান। সাক্ষাৎকারে সেলিম খান বলেন, ‘সালমান কখনো আরশোলাও মারেননি, হরিণ হত্যার কথা তো ভাবা-ই যায় না। সে কোনো অন্যায় করেনি, তাহলে ক্ষমা কেন চাইবে? বিষ্ণোইরা অর্থ ও নামের জন্য এসব করছে।’
সেলিম খানের এই বক্তব্য বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মাঝে তীব্র রোষের সৃষ্টি করে। তাই ভাইরাল হওয়া সেই বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে সালমান ও সেলিম খানের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে বিষ্ণোই সম্প্রদায়।
গত শনিবার বিষ্ণোই ধর্ম স্থাপন দিবসে বিষ্ণোই ভক্তরা জয়পুরের রাস্তায় একজোট হয়ে বিক্ষোভ করার পাশাপাশি সালমান ও তার বাবার কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে তারা।
বিষ্ণোইদের একজন বলেন, ‘আমরা বিষ্ণোই। আমরা অকারণে কারও সম্মানহানি করি না। ২৬ বছর আগে এই ঘটনার মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই সময় বিষ্ণোই গোষ্ঠীর একজন বিধায়কও ছিলেন। তাই সেলিম খান যেন এখন ভুল তথ্য দেওয়ার চেষ্টা না করেন। সেলিম খানের বক্তব্যে গোটা সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। কৃষ্ণসার হরিণ হত্যায় যাতে সুবিচার আসে সেই দাবিতে আমরা অনড় থাকব। প্রতিবাদে আমরা পথেও নামব।’
মূলত ১৯৯৮ সালে দুটি কৃষ্ণ হরিণ হত্যা মামলায় সালমানের নাম আসার পর থেকেই বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের বিরাগভাজন হন তিনি। কারণ, এই হরিণ তাদের বিশ্বাস ও ভক্তির জায়গা; তারা কৃষ্ণ হরিণের পূজাও করে থাকেন। এই ঘটনার পর থেকে সালমানকে বেশ কয়েকবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় সালমানের ঘনিষ্ঠ বলিউডের প্রভাবশালী অভিনেতা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিকিকে। যার দায়ভার নিয়েছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। ঘটনাটির পর থেকে আরও জোরদার করা হয়েছে বলিউড ভাইজানের নিরাপত্তা। নিরাপত্তার জন্য কিনেছেন একটি দামি বুলেটপ্রুফ গাড়িও।
জাহ্নবী