নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ফাহমিদা নবী। দীর্ঘ গানের ক্যারিয়ার তার। আসছে একুশে বইমেলায় প্রকাশ পেতে যাচ্ছে এই কণ্ঠশিল্পীর লেখা প্রথম বই ‘ফাহমিদা নবীর ডায়েরি’। বই, গান এবং অন্যান্য কাজ নিয়ে খবরের কাগজের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ মিজান।
প্রথমবার আপনার লেখা বই প্রকাশিত হচ্ছে। কেমন লাগছে?
আমার কাছে অ্যালবামের অনুভূতি হচ্ছে। কারণ বই তো মূলত হার্ডকপি। একসময় অ্যালবামও হার্ডকপি ছিল। এখন সেটা তো শুধুই স্মৃতি। এখন অ্যালবাম ডিজিটাল হয়ে গেছে। তাই আমার অনুভূতি একটু অন্য রকম। আসলে বই বের করতে গিয়ে দেখলাম এটা একটা সাহসের বিষয়। আমি একটু সাহসী হলাম।
বইটির নাম ‘ফাহমিদা নবীর ডায়েরি’। এর বিষয়বস্তু কী?
আমার আত্মোপলদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়েই বইটি সাজানো হয়েছে। যে উপলদ্ধিতে আছে নিজেকে শুধরে নেওয়ার বিষয়। কষ্টের সঙ্গেই আছে স্বস্তি। কষ্টের মধ্য দিয়ে মানুষ সুখে থাকে। অল্প, অল্পে চলার গল্প, সমস্যার ইতিবাচক সমাধান এবং শুধরে নেওয়ার যে স্বস্তি সেটাই উঠে এসেছে এখানে। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন চারু পিন্টু। বইটি প্রকাশ করছেন শব্দ শিল্প প্রকাশনী। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি একুশে বইমেলায় বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হবে।
বই প্রকাশের ভাবনা কখন মাথায় এল?
আমি মনকে ভালো রাখার জন্য ডায়েরি লিখি। মূলত পারিবারিকভাবেই ডায়েরি লেখার অভ্যাস পেয়েছি। আমার আব্বা-আম্মা ডায়েরি লিখতেন। ছোটবেলায় আম্মুর ডায়েরি একবার পড়েও ফেলেছিলাম। সবকিছু সামাল দিয়ে রাতে ডায়েরি লিখতেন তিনি। সেটাই আমাকে ডায়েরি লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এবার অনেকগুলো লেখা জমেছিল, তাই ভাবলাম বই আকারে প্রকাশ করলে মন্দ হয় না।
যেহেতু এটি আপনার প্রথম বই। তাই কোনো ভয় কাজ করছে কি?
অনেক ভয় লাগছে। আমি সত্যিই অনেক নার্ভাস। আমি তো একটা শিশুর মতো। কী হবে এটা নিয়েই চিন্তিত। কাল (আজ) বইটা হাতে পাব, তখন আম্মাকে দেব বইটা। এ জন্য একটু ভয় লাগছে। আমি সবাইকে ফেস করতে পারি, কিন্তু আম্মাকে ফেস করতে ভয় লাগে।
এরপর কি নিয়মিত বই প্রকাশের ইচ্ছা আছে?
এটা আসলে এখনই বলতে পারছি না। আমি তো সময় পেলেই লেখালেখি করি। তবে প্রকাশক আমাকে বলেছেন প্রতিবছরই আমার লেখা প্রকাশ পাক। ওরা আমার কাছে গল্পও চেয়েছে। আগে আমার লেখা কিছু গল্পও প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন ম্যাগাজিনে। গল্পে তো আসলে শেষ করার বিষয় থাকে। কিন্তু শিল্পীর পথচলায় শেষ বলে কিছু নেই। আমি আসলে ইন্টারেস্টিং একটা গল্প লিখতে চাই। আমার আম্মা এখনো পড়েন। আমি ওনার কাছ থেকে অনুপ্রাণীত। আম্মা এখনো আমাকে শাসনে রাখেন।
বইয়ের মোড়ক উন্মোচন কে করবেন?
আমার আম্মা রাশিদা চৌধুরী আমার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করবেন।
এবার গান নিয়ে ব্যস্ততার কথা বলুন-
আমি তো নিয়মিত গান করেই যাচ্ছি। আমি কিন্তু কোনো যুদ্ধ করি না। কে আমার গান শুনল, আমি আসলে কিছু কাজ রেখে যেতে চাই। কাল (আজ) একটি নতুন গানের রেকর্ডিং আছে।
আপনি একেধারে লেখেন, সুর করেন আবার গান গাওয়াতেও অনেক ব্যস্ততা। এত কাজের সমন্বয় কীভাবে করেন?
আমি অবসরে বিশ্বাসী না। আমার একদম অবসর ভালো লাগে না। আল্লাহ যেন আমাকে সুস্থ রাখেন। আমি যেন টানা কাজ করতে পারি।
আপনার সুরে নতুন কোনো গান আসবে কী?
আসছে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আমার সুর করা দুটি গান প্রকাশিত হবে। সুর করার পাশাপাশি দুটি গানেই আমি কণ্ঠ দিয়েছি। ‘সেদিনও মুখর ছিল’ আর ‘তুমিহীন’ গান দুটি আসবে আমার ইউটিউব চ্যানেল ফাহমিদা নবী থেকে। দুটি গানের কথাই লিখেছেন ফারজানা রহমান। সংগীতায়োজন করেছেন সজীব দাশ। আমার চ্যানেলটা আমার মেয়ে আনমোল প্রেজেন্টস।
স্টেজ শোর ব্যস্ততা কেমন?
আমাদের ঢাকায় তো স্টেজ খুব কম। আর এখন তো নাচতে না পারলে গান গাওয়া সম্ভব না। আর আমরা তো এখন সেই জায়গায় নেই। গান শোনার পরিবেশও নেই। এখন আগের গানই সবাই কাভার করছেন নানাভাবে। নাচ আর গানে ভরপুর। আসলে নাচে ও মিউজিকে ভরপুর গান। কেউ কিন্তু জানে না গানটা কী। এটা আগেও ছিল, এখন একটু বেশি হয়ে গেছে। যখন কোনো খারাপ জিনিস বেশি হয়, তখন বুঝতে হয় সেটা শেষ হবে। গানের জুলুমটা শেষ হবে। এটা এখন এক্সট্রিম পর্যায়ে চলে গেছে।
সিনেমার গান করলেন সেটা সম্পর্কে জানতে চাই?
আমি আমেরিকা যাওয়ার আগেই একটি সিনেমার গান করেছি। রাহুল কুমার দত্তের সুরে এর সংগীত পরিচালনা করেছেন পিন্টু ঘোষ। গানটি লিখেছেন সিনেমার নির্মাতা এস এম কাইয়ুম। প্রায় দুই বছর এই গানটির মাধ্যমে সিনেমায় গেয়েছি।
আপনার ক্যারিয়ারে সিনেমার গানের সংখ্যা খুব কম। এটার কারণ কী?
আমি হচ্ছি সব সময় সিন্ডিকেটের আন্ডার সিন্ডিকেট। সবাই আমাকে বলেন আমার নাকি ফিল্মি কণ্ঠ। ফিল্মি গলা, তার পরও আমার সিনেমায় গান নেই।
এ জন্য কি দুঃখবোধ আছে?
দুঃখ তো একটু আছেই। আমি আসলে এক্সপ্রেশনে বিশ্বাসী। একটা সিনেমার গানে কিন্তু এক্সপ্রেশন লাগে। সিনেমার গানে অভিনয় থাকে। সেই গান তো নেই, হচ্ছেও না। গানের ভেতরে গভীরতা নেই। আমার মনে হয়, যারা ছবি নির্মাণ করেন তাদের হয়তো তেমন ডেফট নেই। আমাকে অবশ্য তারা পাগল বলতে পারেন। ভারত, পাকিস্তানের সিনেমার গানগুলোর গভীরতা দারুণ।
ক্যারিয়ারে কোনো অতৃপ্তি আছে?
এক জীবনে মানুষ অতৃপ্তি নিয়েই চলে যাবে। আমি কিন্তু আমার জায়গাতেই আছি। মানুষের ভালোবাসা পাই এটাই আমার তৃপ্তি। আমি অল্পের গল্পে বিশ্বাসী, তাই সব সময় অল্পতে ভালো থাকি।
হাসান