ভার্সেটাইল অভিনেতা আফরান নিশো অভিনীত প্রথম সিনেমা ছিল ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রায়হান রাফি পরিচালিত ‘সুড়ঙ্গ’। প্রথম সিনেমায় অনবদ্য অভিনয় দিয়ে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিলেন। সিনেমায় অভিনয়ের আগেই বাংলা ভাষাভাষী দর্শকের কাছে নিশো নাটকে অভিনয় করেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমায় অভিনয় যেন তার সেই জনপ্রিয়তাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
দর্শকের প্রত্যাশাও বেড়ে যায় নিশোর প্রতি। নিশোভক্তরা অপেক্ষায় থাকতে শুরু করেন নতুন সিনেমার। সেই অপেক্ষারই অবসান হতে যাচ্ছে আগামী ঈদে শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘দাগি’ সিনেমা মুক্তির মধ্যদিয়ে।
‘সুড়ঙ্গ’য় নিশোর বিপরীতে দুর্দান্ত অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুঁড়িয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা তমা মির্জা। যথারীতি ‘দাগি’ সিনেমাতেও নিশোর সঙ্গে আছেন তমা মির্জা।
‘এসভিএফ আলফা আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড’ প্রযোজিত ‘দাগি’ নির্মাণ করেছেন শিহাব শাহীন। সিনেমায় নিশো অভিনয় করেছেন নিশান চরিত্রে ও তমা অভিনয় করেছেন জেরিন চরিত্রে।
‘দাগি’ ঈদে হলে হলে গিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে আফরান নিশো বলেন, ‘দাগি একটু ডিফরেন্ট আঙ্গিকের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমা। দাগি মূলত সম্পর্কের গল্পের সিনেমা, যেখানে ভালোবাসা আছে, বিচ্ছেদ আছে, অ্যাকশন থ্রিল সবই আছে। একটা কথা আছে, যে একবার জেলে গেছে সেই দাগি সারাটা জীবন। এই উপলব্ধির কথা বলা হয়েছে।
আমাদের সমাজব্যবস্থায় একজন মানুষ যখন জেলে যায়, তাকেই দাগি ভাবে। তো ছোট-বড় দাগ আমাদের সবারই আছে। এটা কি সত্যি, যে জেলে যাবে সে সারা জীবন দাগিই থেকে যাবে? নিশানের এই কথাটি কী সত্যি? নাকি তার মুক্তি হয়? আর আমাদের পারিপার্শ্বিক যে সম্পর্কগুলো আছে সেই সম্পর্কগুলো আসলে মানুষকে কোথায় নিয়ে যায়? গন্তব্যটা কোথায়? এই দাগিকে একটি রূপক অর্থে আমাদের নিজেদেরই গল্প বলার চেষ্টা করা হয়েছে। পারিবারিক গল্প এবং একজন দাগির কিছু বক্তব্য আছে এই সিনেমায়। শিহাব শাহীন ভাই ভীষণ যত্ন নিয়ে সিনেমাটি নির্মাণের চেষ্টা করেছেন। দর্শককে ঈদে হলে হলে গিয়ে দাগি দেখার নিমন্ত্রণ রইলো।’
তমা মির্জা বলেন, ‘দাগি যে ধরনের গল্পের সিনেমা, এই ধরনের গল্পের সিনেমা আমি দেখিনি বহুবছর। ঈদে মুক্তিপ্রতীক্ষিত সব সিনেমার চেয়ে দাগির গল্প এবং উপস্থাপন একেবারেই অন্যরকম। গল্পে আছে প্রেম-ভালোবাসা, বিরহ, অ্যাকশন, সবকিছু। অনেকদিন পর নিশো-তমা বড় পর্দায় ফিরেছেন, এটাও আমার কাছে ভালোলাগার।
শিহাব ভাই নিঃসন্দেহে গুণী নির্মাতা, আর আমাদের সিনেমা পুরোপুরিই দেশীয় শিল্পীদের সিনেমা। তাই দেশীয় গল্প, দেশীয় শিল্পীদের অভিনয়ে একটি ভীষণ সুন্দর সিনেমা দাগি দর্শকের হলে গিয়ে উপভোগ করা উচিত। নিঃসন্দেহে বলতে পারি দাগির প্রতি শতভাগ ভালোলাগা নিয়ে দর্শক হল থেকে বের হবেন।’
/শাকিল