সংগীতশিল্পী হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে গত বছরের ৩০ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। নন্দিত এই শিল্পীর কাছের বন্ধু ও ভক্তরা ঠিকই মনে রেখেছেন তাকে।
তাই তো জুয়েল স্মরণে ‘মহাকালের এক বছর’ শিরোনামে একটি স্মরণসভার আয়োজন করেছে তারা। আগামীকাল ১ আগস্ট বেইলি রোডের মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে গান-গল্পে এই শিল্পীকে স্মরণ করবেন তার বন্ধু ও সহকর্মীরা।
আয়োজন সম্পর্কে জুয়েলের ভাই মহিবুর রেজা রুবেল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘স্মরণসভার মতো এটি কোনো স্বাভাবিক আয়োজন নয়। এখানে জুয়েলকে নিয়ে থাকবে আলোচনা, তার কিছু গানও শুনব। তার বিভিন্ন কাজের ওপর অডিও ভিজ্যুয়াল প্রদর্শিত হবে। থাকবে দোয়ার আয়োজনও।’
মহাকালের এক বছর এই আয়োজনে সংগীত ঐক্য, বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ, সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার, আঁখি আলমগীর, আলিফ আলাউদ্দিনসহ সংগীতজগতের অনেকেই উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
৯০ দশকের অডিও ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম গায়ক হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল। আইয়ুব বাচ্চুর সুরে প্রথম অ্যালবাম ‘কুয়াশা প্রহর’ প্রকাশ হয় ১৯৯৩ সালে। প্রথম অ্যালবামেই জনপ্রিয়তা পান তিনি। এর পর একে একে ‘এক বিকেলে’ (১৯৯৪), ‘আমার আছে অন্ধকার’ (১৯৯৫), ‘একটা মানুষ’ (১৯৯৬), ‘দেখা হবে না’ (১৯৯৭), ‘বেশি কিছু নয়’ (১৯৯৮), ‘বেদনা শুধুই বেদনা’ (১৯৯৯), ‘ফিরতি পথে’ (২০০৩), ‘দরজা খোলা বাড়ি’ (২০০৯) এবং ‘এমন কেন হলো’ (২০১৭) ছাড়াও বেশকিছু সিঙ্গেল ও মিশ্র অ্যালবাম প্রকাশিত হয় তার।
সংগীতশিল্পীর পাশাপাশি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও তথ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন জুয়েল। পাশাপাশি করেছেন সঞ্চালনাও।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালে জুয়েলের লিভার ক্যানসার ধরা পড়ে। এর পর ফুসফুস এবং হাড়েও সেটি ক্রমশ সংক্রমিত হয়। মাঝে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন এই শিল্পী, নির্মাতা ও উপস্থাপক।
/এমএস