ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশা। শোবিজ অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছেন তিনি। কাজের মাধ্যমে সুনাম কুড়ানোর পাশাপাশি তাকে ঘিরে রয়েছে কিছু বিতর্ক ও সমালোচনা। অভিনয় ও মডেলিং করে যতটা জনপ্রিয় হয়েছেন এই অভিনেত্রী, ব্যক্তিজীবনে ততটাই সমালোচনার টিপ পরতে হয়েছে তার কপালে। বিভিন্ন সময় বিভিন্নজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে খবরের শিরোনামও হয়েছেন তিশা। আবার একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেও তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি বড় পর্দায় নাম লিখিয়েছেন তিনি। চিত্রনায়ক শাকিব খানের বিপরীতে কাজ করছেন ‘সোলজার’ নামে একটি সিনেমায়। এটির মাধ্যমেই চলচ্চিত্রে তানজিন তিশার অভিষেক হতে যাচ্ছে। এর মাঝেই পাওয়া গেল তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ। এক নারী উদ্যোক্তা অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগের প্রমাণস্বরূপ তিশার সঙ্গে ওই নারী উদ্যোক্তার কথোপকথনের কয়েকটি ভয়েস রেকর্ড এবং ইন্সটাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের স্ক্রিনশটও এসেছে দৈনিক খবরের কাগজের কাছে। মেসেজ এবং ভয়েস মেসেজ যাচাই-বাছাই করে তানজিন তিশার প্রতারণার বিষয়টির সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, গত ১৭ জানুয়ারি তানজিন তিশা তার ভেরিফায়েড ইন্সটাগ্রাম থেকে ‘এ্যাপোনিয়া’ (Aponia) নামে একটি অনলাইন ফ্যাশন পেজের ইন্সটাগ্রামে যোগাযোগ করেন। সেখানে তিনি জানতে চান জামদানি কী কী আছে? এরপর কয়েকটি শাড়ির ছবি পাঠানোর পর দাম জানতে চান এই অভিনেত্রী। ফ্যাশন পেজ থেকে জানানো হয় শাড়িগুলোর আলাদা আলাদা দাম। এরপর তিশা একটি শাড়ি পছন্দ করেন এবং বাসার ঠিকানা দেন। ওই ফ্যাশন পেজ থেকে জানানো হয় তিশাকে শাড়িটি টাকা দিয়ে কিনতে হবে না, বিনিময়ে শাড়ি পরে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শাড়ি এবং ফ্যাশন পেজটি প্রমোশন করে দিলেই হবে। তিশাও এই প্রস্তাবটি মুহূর্তেই লুফে নেন। শাড়িটি যথাসময়ে তিশার বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু শাড়ি গ্রহণের প্রায় ১০ মাস সময় অতিবাহিত হলেও তিশা তার কথা রাখেননি। মাঝে ফ্যাশন পেজের স্বত্বাধিকারীর সঙ্গে কয়েকবার ভয়েস মেসেজ দিয়ে দ্রুত কাজটি করে দেওয়ার কথাও বলেন তিশা। পরবর্তী সময়ে তিশা ওই নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। হোয়াটসঅ্যাপ, ফোন, ইন্সটাগ্রামসহ বিভিন্নভাবে তিশার সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানান ওই নারী উদ্যোক্তা।
এ সম্পর্কে ‘এ্যাপোনিয়া’ ফ্যাশন পেজের কর্ণধার ঝিনুক দৈনিক খবরের কাগজকে বলেন, ‘তানজিন তিশা ইন্সটাগ্রাম পেজে নক দিয়ে জামদানি শাড়ি কিনতে চান। তিনটি শাড়ি আমি দেখাই তাকে। এর মধ্যেই হলুদ রঙের একটি শাড়ি পছন্দ করেন। শাড়িটির দাম ২৮ হাজার ৮০০ টাকা। ওই সময় আমার সঙ্গে আমার বোনের হাজব্যান্ড সঙ্গে ছিলেন। আমি তাকে বললাম তানজিন তিশা যেহেতু একজন সেলিব্রিটি তাকে আমি শাড়িটি স্পন্সর করব কি না? আমার বোনের হাজব্যান্ড প্রথমে আমাকে না করেন। পড়ে আমার মনে হলো আমি কখনো কাউকে শাড়ি স্পন্সর করিনি। এভাবেই তো অনেকের পেজ পরিচিতি পায় এটা ভেবেই ফোনে তিশাকে শাড়িটি স্পন্সর করার প্রস্তাব দিই। তাকে বলি আপনার শাড়িটি কেনার দরকার নেই, আপনি শাড়িটি পরে আমাকে প্রমোশন করে দিয়েন, তাহলে টাকা দিতে হবে না। তখন উনাকে আমি বলি এটা কিন্তু আমার পেশা নয়, এটা আমার শখ থেকে করা। এটা থেকে যে আয় হয়, তা দিয়ে আমার অফিসের তিন-চারজন নারীকে পেট্রোনাইজ করি আমি। তিশা আমার প্রস্তাব পেয়ে খুশি হন, নারীদের পেট্রোনাইজ করার জন্যে আমাকে ভালোভাবে কাজটি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর শাড়িটি তার বাসায় পাঠিয়ে দিই। শাড়িটি পেয়ে ফোনে তিনি আমাকে বলেন শাড়িটি তার পছন্দ হয়েছে খুব। এরপর দুই মাস পর আমি আমি তাকে নক দিলাম তিনি আমাকে ভয়েস মেসেস দিয়ে ‘সরি’ বলেন এবং তাড়াতাড়ি কাজটি করে দেওয়ার কথা জানান। এরপর কয়েকমাস ধরে আমি তাকে নক করে যাচ্ছি তিনি কোনো রেসপন্স করছেন না। তিনি প্রমোশনও করে দেননি আবার শাড়ির টাকাও দেননি। তিনি কোনো ধরনের রেসপন্স করছেন না।’
নারী উদ্যোক্তা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সেলিব্রিটিদের এ জন্য কেউ সম্মান করে না। এসব আচরণের জন্যই সম্মান পান না তারা। তিশার কী দরকার ছিল আমার সঙ্গে এমন করার? আমি তাকে লাস্ট মেসেজ দিয়েছি আপা আপনি আমার শাড়িটা পরলে পরেন, না পরলে টাকাটা দেন। তা না হলে যে জিনিসটা হবে, এটার জন্য আপনিই দায়ী থাকবেন। কারণ এখন আর প্রমোশনের ইচ্ছে আর নেই। প্রায় ১০ মাস সময় হয়ে গেছে এখন তিনি আমার টাকাটা দিলেই আমি খুশি। না হলে আমি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
এ বিষয়ে জানতে খবরের কাগজ থেকে তানজিন তিশার হোয়াটসঅ্যাপে কল ও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মেসেজ দেওয়া হলে অনলাইনে থাকার পরও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
https://www.facebook.com/
/এস লুপিন